`

বেরোবিতে ভিসির অফিসেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাকে মা/র/ধর

  • Views: 3034
  • Share:
নভেম্বার ৫, ২০২৬ ১৮:২১ Asia/Dhaka

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দুইজন শিক্ষকের অভ্যন্তরীণ চিঠি বিভিন্ন জায়গায় আদান-প্রদান নিয়ে কথাবার্তা চলতে চলতে বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিক ইসলামকে সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহ-সভাপতি ড. জিয়াউল হক জুনিয়রের এতো কিসের কথা বলে মারতে ছুটে যান এবং কর্মকর্তা রফিককে ঘুষি মারেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর অফিসের ভিতরে কথা কাটাকাটির জেরে এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কর্মকর্তা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিক ইসলাম। তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন- সংস্থাপন শাখা-১ এর ডেপুটি রেজিস্ট্রার তারিকুল ইসলাম, সংস্থাপন শাখা-২ এর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. জিয়াউল হক, রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রিসার্চ অফিসার ড. মো. রোকনুজ্জামান, শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল লাইব্রেরির উপ-গ্রন্থাগারিক মামদুদুর রহমান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল ইসলাম (লাবু)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দুইজন শিক্ষকের অভ্যন্তরীণ চিঠি বিভিন্ন জায়গায় আদান-প্রদান নিয়ে কথাবার্তা চলতে চলতে বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিক ইসলামকে সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহ-সভাপতি ড. জিয়াউল হক জুনিয়রের এতো কিসের কথা বলে মারতে ছুটে যান এবং কর্মকর্তা রফিককে ঘুষি মারেন। এরপর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অফিসার ও বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি ড. রোকনুজ্জামান রুমের ভিতরে থাকা ফুলের টপ দিয়ে রফিককে আঘাত করেন। শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মামদুদুর ও সাধারণ সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম ও লাবু সংঘবদ্ধভাবে রফিককে মেরে রক্তাক্ত করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে আহত কর্মকর্তা বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিক ইসলাম বলেন, মজনু স্যার ও ইউসুফ স্যারের বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়ে চিঠি পাঠানো নিয়ে কথা চলছিল। এসময় আমি বলি, এসব চিঠি কারা পাঠায়, তার একটা বিহিত করা দরকার। যাতে পরবর্তী এরকম না ঘটে। মজনু স্যার ইউসুফ স্যারের বিরুদ্ধে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে জীবন স্যার মজনু স্যারকে সহায়তা করেছে। এই কথা বলাবলি হলে আলোচনার এক পর্যায়ে তারেক বলেন, আপনি সিনিয়র-জুনিয়র বুঝেন না। সিনিয়র সিনিয়রের জায়গায় থাকবে জুনিয়র জুনিয়রের জায়গায়। এর পরবর্তীতে জিয়া আমাকে মারতে চলে আসেন। তিনি প্রথমে ঘুষি মারেন। এরপর রোকন ভাই, জিয়া এসে একসাথে মারতে শুরু করেন। তিনি বলেন, জিয়া, তারেক, মামদুদ, রোকন, লাবু এরা আমাকে মারধর করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সংস্থাপন শাখা-১ এর ডেপুটি রেজিস্ট্রার তারিকুল ইসলাম ও সংস্থাপন শাখা-২ এর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. জিয়াউল হক বলেন, দুই শিক্ষকের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল। এ সময় কর্মকর্তা রফিক শিক্ষকদের কথার মাঝখানে কথা বলায় আমরা তাকে কথা বলতে নিষেধ করি। পরে তিনি আমাদের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসেন। তখন আমরা তাকে বাধা দিই। একপর্যায়ে তার সঙ্গে আমাদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।

user
user
Ad
Ad