`

টাকার বিনিময়ে এমপিওভুক্তির অভিযোগ, ভুয়া কাগজে ৩ শিক্ষক নিয়োগ

  • Views: 1531
  • Share:
অক্টোবার ২৬, ২০২৬ ১৯:৩৫ Asia/Dhaka

সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে পুরোনো তারিখ ব্যবহার করে ওই তিন শিক্ষককে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের আগে ওই শিক্ষকদের কখনোই বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ছিল না।

ঝালকাঠির বীরকাঠী এলাকার দিবাকরকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জাল কাগজপত্র ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিন সহকারী শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি শিক্ষকের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তিতে অন্তত ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক তপন কান্তি দাস, তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং শিক্ষা প্রশাসনের কয়েকটি দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে পুরোনো তারিখ ব্যবহার করে ওই তিন শিক্ষককে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের আগে ওই শিক্ষকদের কখনোই বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ছিল না।

তবে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তিন শিক্ষকই। তাদের দাবি, তারা ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক পর্যায় এমপিওভুক্ত হয়েছে ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে। এরপর তারা ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক কাজী ওমর সুলতান বলেন, তিনটি জায়গায় সব ধরনের কাগজপত্র দিয়ে এমপিওভুক্ত হয়েছি। জালিয়াতির অভিযোগ মিথ্যা। কোনো একটি গ্রুপ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অভিযোগ করেছে। আমাদের সব ধরনের কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর থেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে বিদ্যালয়টিতে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক তপন কান্তি দাস ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগসাজশে ভুয়া ডিজির প্রতিনিধির অফিস আদেশ, নিয়োগ বোর্ড এবং নিয়োগ পরীক্ষাসংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ঝালকাঠি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস ও বরিশাল আঞ্চলিক অফিসের একটি চক্রের মাধ্যমে ওই তিন শিক্ষকের এমপিও কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

লিখিত অভিযোগে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বামী সাইদুর রহমান সিন্টুর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, ঝালকাঠি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি তৎকালীন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাইদুর রহমান সিন্টুর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সে সময় এলাকাবাসী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদ করতে পারেননি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিন শিক্ষককে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত করার পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তবে এ লেনদেনের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণের বিস্তারিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই তিন শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা প্রভাবশালী হওয়ায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বা প্রতিবাদ জানাতে পারছেন না।

user
user
Ad
Ad