`

যে কারনে ৩০ শিক্ষককে ফেরত দিতে হবে ১০ কোটি টাকা

  • Views: 128
  • Share:
জুলাই ৫, ২০২৬ ২২:০৪ Asia/Dhaka

জালালাবাদ ডেস্ক :: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তার নিয়োগ বিধিসম্মত নয় বলে জানিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষক-কর্মচারীকে এ পর্যন্ত সরকারি কোষাগার থেকে তোলা মোট ১০ কোটি ১১ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় তহবিলে ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া অধিকাংশের ক্ষেত্রে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর এবং কয়েকজনের ক্ষেত্রে চিঠি জারির পর থেকে নেয়া সব বেতন-ভাতাও ফেরতযোগ্য হবে।

সম্প্রতি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এই অনিয়ম সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।

নিয়োগ-সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এ কে এম মোস্তফা কামালের নিয়োগ বিধিসম্মত না হওয়ায় তার গৃহীত ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ৪০৮ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে সহকারী অধ্যাপক (কম্পিউটার) মোহাম্মদ আনিছুর রহমানের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৫৮ টাকা, সহকারী অধ্যাপক (সাচিবিকবিদ্যা) মো. মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৫৮ টাকা, প্রভাষক (হিসাবরক্ষণ) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার ৭২০ টাকা, প্রভাষক (ব্যাংকিং) নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার ৫৫০ টাকা, প্রভাষক (উদ্যোক্তা উন্নয়ন) মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার ১৭৫ টাকা, প্রভাষক (ইংরেজি) মো. ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৫০ টাকা, প্রভাষক (হিসাববিজ্ঞান) মো. মোস্তফা কামালের ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৫০ টাকা এবং প্রভাষক (কম্পিউটার) মো. শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভোকেশনাল শাখার ট্রেড ইনসট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার ৭৩০ টাকা, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০ টাকা, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ৮৬ হাজার ৬৬ টাকা, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ৪০ টাকা, এস. এম. আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩৫ টাকা, সহকারী শিক্ষক (গণিত) মোহাম্মদ আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৩০ টাকা, সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৩১০ টাকা, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৫৩০ টাকা, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মো. আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ টাকা এবং প্রদর্শক মো. ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ২০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সামছুল আলমের ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩০ টাকা, সহকারী শিক্ষক মো. আলতাফুর রহমানের ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭২ টাকা, শেখ আবদুল্লাহ আল মতিনের ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ২৯২ টাকা, মো. আবু বকর ছিদ্দিকের ৩৬ লাখ ৩ হাজার ২০৩ টাকা, মো. রফিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ ৩ হাজার ২০৩ টাকা, মো. নয়া মিয়ার ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৩ টাকা, সহকারী শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা) মো. তরিকুল ইসলামের ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার ১৬০ টাকা এবং সহকারী শিক্ষক রমজান আলীর ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার ৪৬২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগ-সংক্রান্ত এই ২৭ জনের কাছ থেকেই মোট ৯ কোটি ৪ লাখ ১ হাজার ৪৯৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গৃহীত সরকারি বেতন-ভাতাও ফেরতযোগ্য হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

সহকারী শিক্ষক হিন্দুধর্ম রেখা রানী রায় প্রাপ্যতার অতিরিক্ত স্কেল গ্রহণ করে। তার নেয়া ২২ লাখ ৮১ হাজার ৬২৫টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য। সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বাংলা মোছা. নূর জাহান বেগম প্রাপ্যতার অতিরিক্ত স্কেল গ্রহণ করে।

তার নেয়া ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭৩২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য। ভ্যাট বাবদ ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য।

শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য ও মন্তব্য: মাধ্যমিক স্তরের সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. আব্দুল হক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স সনদ দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেন। তবে নির্ধারিত ৩ বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তার ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা বেতন-ভাতা বাবদ ১৬ লাখ ৩ হাজার ৮১৮ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে গৃহীত অর্থও ফেরতযোগ্য হবে।

বিএম শাখার প্রভাষক (কম্পিউটার) মো. শাহজাহান কবীর ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ অর্জন করেন।

তবে নির্ধারিত ৩ বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিপ্লোমা অর্জন না করায় তিনি সরকারি বেতন-ভাতা প্রাপ্য নন। এ কারণে তার ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ মে থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নেয়া অর্থও ফেরতযোগ্য হবে।

সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আনিছুর রহমানের (কম্পিউটার) দাখিলকৃত জাতীয় বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নট্রামস), বগুড়ার কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল, ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি।

ফলে তিনি সরকারি বেতন-ভাতা প্রাপ্য নন। এ কারণে তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ মে থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা মোট ৬১ লাখ ২৭ হাজার ১৩৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে গৃহীত অর্থও ফেরতযোগ্য হবে।

বেতন স্কেল সংক্রান্ত তথ্য ও মন্তব্য: মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ এপ্রিল যোগদান করেন। কর্মরত অবস্থায় তিনি ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধার আওতায় ৮ হাজার টাকা স্কেলে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন। তবে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড না থাকায় তিনি উচ্চতর স্কেলের যোগ্য নন। এ কারণে তার ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা ৪ লাখ ৪০ হাজার ২০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য।

মাধ্যমিক শাখার সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট যোগদান করেন।

তিনি ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে বিএড সুবিধার আওতায় উচ্চতর স্কেলে বেতন গ্রহণ করেন। তবে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড না থাকায় তিনি এই সুবিধার যোগ্য নন।

এ কারণে তার ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা ৪ লাখ ৪০ হাজার ২০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য।

ভ্যাট সংক্রান্ত নির্দেশনা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ভ্যাট বাবদ ৫০ হাজার টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে চালানের কপি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে।

তহবিল সংক্রান্ত তথ্য ও মন্তব্য: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সংরক্ষিত তহবিলে বর্তমানে ২ লাখ টাকা জমা আছে। মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই জারিকৃত নীতিমালা অনুযায়ী তা ৪ লাখ টাকা-এ উন্নীত করতে হবে। সাধারণ তহবিলে বর্তমানে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬৫ টাকা জমা আছে। নীতিমালা অনুযায়ী তা ২ লাখ টাকা-এ উন্নীত করতে হবে।

ভবিষ্যত তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) চালু করা হয়নি। কর্মরত সব শিক্ষক-কর্মচারীর নামে ভবিষ্যত তহবিল চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

user
user
Ad
Ad