পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরশাসনের পতন
গত বছরের পাঠ্যবইয়ের অনেক বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি। সেগুলো মাথায় রেখেই এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশে বেশকিছু বইয়ের কনেটেন্টে বড় ধরনের পরিবর্তন-পরিমার্জন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো এবার সরাসরি জায়গা পাচ্ছে পাঠ্যবইয়ে। দীর্ঘদিন বিতর্ক, সমালোচনা ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের ঘটনাপ্রবাহ। এর পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের ভাষা, বিষয়বস্তুর ভারসাম্য ও গুণগতমান উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের পাঠ্যবইয়ের অনেক বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি। সেগুলো মাথায় রেখেই এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশে বেশকিছু বইয়ের কনেটেন্টে বড় ধরনের পরিবর্তন-পরিমার্জন করা হয়েছে।
এনসিটিবির পাঠ্যবই সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত এক বিশেষজ্ঞ নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সুপারিশে মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের কনটেন্টে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং পৌরনীতি বইয়ে দেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবইয়েও পরিমার্জন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বইগুলো প্রকাশ হয়েছে, তবে তা এখনো অনলাইনে আপলোড হয়নি। আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনলাইনে আপলোড হতে পারে।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবার পাঠ্যবইয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থান পেয়েছে ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের তথ্য।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের কনটেন্ট কমবেশি আকারে রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জন্য প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর তৃতীয় অধ্যায়টির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’। আগে এ অধ্যায়ের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’।
নতুন শিরোনামে এ অধ্যায়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গণঅভ্যুত্থান পাঠে রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদ অবসানের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে এ অধ্যায়ে শুধু পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছিল।
অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য সব শ্রেণির বইয়ের কনটেন্টে ছোটখাটো পরিবর্তন হচ্ছে।নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ অধ্যায়ে ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন; পরে ক্রমাগত কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা, বিরোধী দলমতের মানুষের ওপর দমন-নিপীড়ন, দুর্নীতির প্রসার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করার মাধ্যমে দলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় হাসিনার বেপরোয়া হয়ে ওঠা; ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার মাধ্যমে শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক সংকট। পরে তরুণসমাজ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনতা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে।
এভাবে ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার রোডম্যাপ প্রণয়ন করে আওয়ামী লীগ। জনগণ তাদের চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার এ নীলনকশা প্রত্যাখ্যান করে।
শেখ মুজিবের বাকশালি ও এরশাদের স্বৈরশাসনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিবের সরকার সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে যায়। রাজনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরায় চালু হয়। এ সময় দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে বিচারপতি আবদুস সাত্তার দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাকে অপসারণ করে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান জেনারেল এইচএম এরশাদ। তার সময়ে যেকটি নির্বাচন হয়, তার সবগুলোই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থী হাতে পাবে পাঠ্যবই। তবে পাঠ্যবই মুদ্রণ ও সরবরাহের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত প্রাথমিকের শতভাগ বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিকের অনেক পাঠ্যবই এখনো ছাপা হয়নি।
এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান বলেন, ‘এবার পাঠ্যবইয়ের মান বেড়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দিতে পারব বলে আশা করছি।’
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পরিবর্তন-পরিমার্জন করা নতুন পাঠ্যবই বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’
- ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিণতির বিষয়ে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
- একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজান মাসই বন্ধ থাকছে মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা
- যুদ্ধ, বিভাজন ও অনিশ্চয়তা: বহুমুখী সংকটে ইসরায়েল
- পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
- নির্বাচন একটি অধ্যায় মাত্র; আমাদের আদর্শিক ও নৈতিক সংগ্রাম চলমান থাকবে - ওবায়দুল্লাহ ফারুক
- ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা
- সিলেট-৫: বিশাল ব্যবদানে বিজয়ের পথে খেজুর গাছ
- নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান বিএনপির
- হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
- বিজেপি-আরএসএসের বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় উইকিপিডিয়া
- আসামে তীব্র শীতের মধ্যেই ১৫০০ মুসলিম পরিবারের ঘর গুঁড়িয়ে দিল ভারত
- নুতন বই পেয়ে উচ্ছাসিত রাঙামাটির শিক্ষার্থীরা
- সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছেছে খালেদা জিয়ার মরদেহ
- আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
- শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান
- জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
- পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরশাসনের পতন
- তারেক রহমানের বহনকারী প্লেন নামল সিলেটে

