`

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে আগামী সংসদ নির্বাচন: আইনমন্ত্রী

  • Views: 156
  • Share:
জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:৩৬ Asia/Dhaka

জালালাবাদ ডেস্ক :: তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হওয়ার পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খারিজ করে দেন। পরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

এক সাংবাদিক জানতে চান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে কি না।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ। এটা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল।’

রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকল।’

তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের রায়ে হাইকোর্ট চারটি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল, গণভোট ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায় বহাল রেখেছেন।’

২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ, অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি এবং জাতীয় চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহাল করা হয়।

গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট বিলোপসংক্রান্ত সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধনী) আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত সংবিধানের ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ৮ জুলাই প্রকাশিত হয়। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি পৃথকভাবে আপিলের অনুমতি চান। আপিল বিভাগ গত বছরের ১৩ নভেম্বর তাদের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল দায়ের করা হয়।

বৃহস্পতিবার সেই আপিলগুলো খারিজ করে দেওয়ায় হাইকোর্টের রায় বহাল থাকল।

user
user
Ad