`

বিশ্ববাজারে কমল সোনার দাম

  • Views: 619
  • Share:
সেপ্টেম্বার ৭, ২০২৬ ১৭:০৬ Asia/Dhaka

যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ দুটি তথ্য প্রকাশের আগে বাজারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০২ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে আসে। এর আগে শুক্রবারও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ১ শতাংশ কমেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর ডেলিভারির গোল্ড ফিউচারসের দামও শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের দাম নেমে এসেছে ৪ হাজার ৪৪৭ দশমিক ৬০ ডলারে।

সোনার দামে চাপ তৈরির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক তথ্যও ভূমিকা রেখেছে। শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগস্টে দেশটির কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি বেড়েছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। এতে শ্রমবাজারের দুর্বলতা কিছুটা কাটছে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

ফলে চলতি মাসের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত কী হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে হিসাব শুরু হয়েছে। বাজার এখন বিশেষভাবে অপেক্ষা করছে মূল্যস্ফীতির তথ্যের জন্য।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং শুক্রবার ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশিত হওয়ার কথা। এই দুই প্রতিবেদনের ফল ফেডের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় সোনার দামে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্য সেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

তার মতে, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হবে। এর প্রভাবে বন্ডের সুদহার বাড়তে পারে এবং সুদ না দেওয়া সোনার চাহিদা আরও কমে যেতে পারে।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে এমন সম্ভাবনা বর্তমানে ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ দেখছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। ফলে উচ্চ সুদের প্রত্যাশা সোনার বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে।

এদিকে সুদের হার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফেডারেল রিজার্ভের প্রতি চাপ অব্যাহত রেখেছেন। শুক্রবার তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ফেড সুদের হার না কমালে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে।

বাজারে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাজনিত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও নতুন করে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৮০০ দশমিক ৫৯ ডলার। আর প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৯৪ ডলারে নেমেছে।

user
user
Ad
Ad