`
জালালাবাদ২৪ রিপোর্ট..... 

সিলেট-৫: খেজুরগাছ ও দেওয়াল ঘড়ির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই'র আভাস, এগিয়ে খেজুরগাছ 

দুই উপজেলায় খেজুরগাছ- ৯৫ হাজার, দেওয়াল ঘড়ি-৭২ হাজার এবং ফুটবল ৩৬ হাজার
  • Views: 33110
  • Share:
ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬ ২০:০০ Asia/Dhaka

স্টাফ রিপোর্ট:: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষন করে জালালাবাদ২৪ সিলেট-৫ এর রিপোর্টে প্রকাশ করেছে। জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এর আভাস পাওয়া যাচ্ছে খেজুরগাছ ও দেওয়াল ঘড়ির মধ্যে। পিছিয়ে থেকেও প্রতিদ্বন্দিতার আভাস দিচ্ছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদ।

সিলেট-৫। মোট প্রার্থী চার। কানাইঘাটে তিন, জকিগঞ্জে এক। তিন জন তিন দলীয় নমিনী, একজন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী। বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেজুরগাছ), জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. বিলাল উদ্দিন( হারিকেন), আর ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র মামুনুর রশীদ। তবে চারজন প্রার্থী মধ্যে আলোচনায় আছেন তিনজন। 

মোট ভোটার- ৪,২০,৮৩৫, পুরুষ- ২,২১,৩৫৭, নারী- ২,০৭,৩৯১। কানাইঘাটে- ২,২৫,৪৮৩, জকিগঞ্জে- ১,৯৫,৩৫২। পোস্টাল ভোট-সহ ৪ লাখ ২৮ হাজারের সামান্য বেশি। ৭,৯১১ টি পোস্টাল ভোট। এই ভোটাররা দুই উপজেলার কোন না কোন কেন্দ্রের ভোটার। 
উভয় উপজেলার সব এলাকার মাঠ পর্যায়ের খবর নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন। হারিকেন প্রার্থী হিসাবের বাইরে। তিন প্রার্থীর মধ্যে ফুটবলের ভোট কমতেছে, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আরো কমতির দিকেই থাকবে। আসল লড়াই হবে খেজুরগাছ আর দেওয়াল ঘড়ির মধ্যে। 

কানাইঘাট উপজেলয় নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। সাতটি ইউনিয়নে (১,২,৩, ৪,৫,৬ ও পৌরসভা) লিড করবে খেজুরগাছ। আর ৯ নং ইউনিয়নে লিড করবে দেওয়াল ঘড়ি। ফুটবল একটি ইউনিয়নে (৭ নং) লিড করবে। অপরদিকে ৮ নং ইউনিয়নে লড়াই হবে ত্রিমুখী। এবার ইউনিয়ন-ভিত্তিক সারাংশ তুলে ধরছি। 
* ১ নং লক্ষীপ্রসাদ পুর্ব ইউনিয়ন:  
মোট ভোটার- ২৬,৪৫৫। সম্ভাব্য কাস্টিং- ১১ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৪ হাজার, খেজুরগাছ-৫ হাজার, ফুটবল- ২ হাজার।  
* ২ নং লক্ষিপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়ন:
মোট ভোটার-- ২১,৪৭৬। সম্ভাব্য কাষ্ট- সাড়ে ১০ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ১ হাজার, খেজুর গাছ- ৭ হাজার, ফুটবল- ১২০০। হারিকেন- ৩০০। 
* ৩ নং দিঘীরপার ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ১৮,০১৬। সম্ভাব্য কাষ্ট- ৯ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৩ হাজার, খেজুরগাছ- ৫ হাজার, ফুটবল- এক হাজার। 
* ৪ নং সাতবাক ইউনিয়ন:
মোট ভোটার-- ১২,৯৬৬। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ৭ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ২৫০০, খেজুরগাছ- ৪ হাজার, ফুটবল- ৫০০। 
* ৫ নং বড়চতুল ইউনিয়ন:
মোট ভোটার-- ১৯,৭১৩। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ১০ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ১৭০০, খেজুরগাছ- ৭০০০, ফুটবল- ১৩০০। 
* কানাইঘাট পৌরসভা:
মোট ভোটার-- ২৫,৫৯৮। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ১৩ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ২ হাজার, খেজুরগাছ-  ৯ হাজার, ফুটবল- ২ হাজার। 
* ৬ নং কানাইঘাট ইউনিয়ন:
মোট ভোটার-- ১৮,৪৯৩ । সম্ভাব্য কাষ্টিং- ৯ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি--২ হাজার, খেজুর গাছ- ৬ হাজার, ফুটবল- এক হাজার। 
* ৭ নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ২৪,৭৭১। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ১১ হাজার। মোট কেন্দ্র ৯ টি। দেওয়াল ঘড়ি-- ২, খেজুরগাছ- ৪ হাজার, ফুটবল- ৫ হাজার। 
* ৮ নং ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ২৮,৬১৪। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ১৩ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি-- ৬ হাজার, খেজুরগাছ- ৬ হাজার এবং ফুটবল- ২ হাজার। 
* ৯ নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন: 
মোট ভোটার-- ২৯,০৮১। সম্ভাব্য কাস্টিং- ১৩ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৭ হাজার, খেজুরগাছ- ৫ হাজার, ফুটবল- ২ হাজার।
কানাইঘাট উপজেলায় মোট কাস্টিং ভোট ১ লাখ ৭ হাজার ৫০০ শতকরা হিসাবে ৪৭.৬৭%। খেজুরগাছ- ৫৭ হাজার, দেওয়াল ঘড়ি- ৩১ হাজার ২০০ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনের ফুটবল- ১৯ হাজার ৩০০। 

জকিগঞ্জ উপজেলা:

 জকিগঞ্জ উপজেলায় নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। তবে কানাইঘাটের চেয়ে জকিগঞ্জে ২৫ হাজার ভোট কম রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের জরিপে চারটি ইউনিয়নে (১,৩, ৫,৭) লিড করবে খেজুরগাছ। আর ৫টি ইউনিয়নে (২,৪,৬,৮ ও ৯) লিড করবে দেওয়াল ঘড়ি। আর পৌরসভা খেজুরগাছ ও দেওয়ালঘড়ির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। অপরদিকে ফুটবল এককভাবে কোন ইউনিয়নে লিড না করলেও ২টি ইউনিয়নে বেশ ভালো ভোট পাবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিম্নে ইউনিয়ন ভিত্তিক ভোটের সমীকরণ দেওয়া হলো। 
* ১ নং বারহাল ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ২৭,২৪৭। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ১৩ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৫ হাজার, খেজুরগাছ- সাড়ে ৫ হাজার, ফুটবল- সাড়ে ২ হাজার।
* ২ নং বীরশ্রী ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ২০,৬৭০। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ৯ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৪ হাজার, খেজুরগাছ- ৩ হাজার, ফুটবল- এক হাজার।  
* ৩ নং কাজলসার ইউনিয়ন:
মোট ভোটার-- ২২,৬১৭। সম্ভাব্য কাষ্টিং- সাড়ে ১০ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- সাড়ে ৩ হাজার, খেজুরগাছ-৪ হাজার, ফুটবল- ৩ হাজার।  
* ৪ নং খলাছড়া ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ১৬,৮৯৮। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ১০ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৫ হাজার, খেজুরগাছ-৪ হাজার, ফুটবল- ১ হাজার।
* জকিগঞ্জ পৌরসভা:
মোট ভোটার- ১৪,৫৪৬। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ৯ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৪ হাজার, খেজুরগাছ-৪ হাজার, ফুটবল-১ হাজার। 
* ৫ নং জকিগঞ্জ ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ১৩,৬০৮। সম্ভাব্য কাষ্টিং- সাড়ে ৭ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৩ হাজার, খেজুরগাছ- সাড়ে ৩ হাজার, ফুটবল- ১ হাজার।
* ৬ নং সুলতানপুর ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ২০,৪২৭। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ১০ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৫ হাজার, খেজুরগাছ- ৩ হাজার, ফুটবল-২ হাজার। 
* ৭ নং বারঠাকুরী ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ১৮,০৫৮। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ৯ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৩ হাজার, খেজুরগাছ- ৪ হাজার ও ফুটবল- ২ হাজার।
* ৮ নং কসকনকপুর ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ১৬,৬০৪। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ৮ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- সাড়ে ৩ হাজার, খেজুরগাছ- ৩ হাজার, ফুটবল- দেড় হাজার। 
* ৯ নং মানিকপুর ইউনিয়ন:
মোট ভোটার- ২৪,৬৯৭। সম্ভাব্য কাষ্টিং- ১১ হাজার। দেওয়াল ঘড়ি- ৫ হাজার, খেজুরগাছ- ৪ হাজার, ফুটবল- ২ হাজার।

জকিগঞ্জ উপজেলার মোট সম্ভাব্য কাস্টিং ভোট ৯৬ হাজার। এর মধ্যে- দেওয়াল ঘড়ি- ৪০ হাজার ৫০০, খেজুরগাছ-৩৮ হাজার এবং ফুটবল- ১৭ হাজার ৫০০।

দুই উপজেলার ভোট যোগ করলে যা দাঁড়ায়-- খেজুরগাছ: (৫৭,০০০+৩৮,০০০)- ৯৫,০০০,  দেওয়াল ঘড়ি: (৩১২০০+৪০,৫০০)- ৭১,৭০০ এবং ফুটবল: (১৯,৩০০+ ১৭,৫০০)- ৩৬,৮০০। অর্থাৎ খেজুরগাছ- ৯৫ হাজার, দেওয়াল ঘড়ি-৭১ হাজার ৭০০ এবং ফুটবল ৩৬ হাজার ৮০০ সম্ভাব্য ভোট নিয়ে ভোটাভোটিতে অবতীর্ণ হচ্ছে। 

দুই উপজেলার মোট ৪২০৮৩৫ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৩ হাজার ৫০০ জন অর্থাৎ ৪৮.২৫% ভোট কাস্টিং হতে পারে। এর মধ্যে বিএনপি সমর্থিত খেজুরগাছ প্রার্থী প্রায় ২৩ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকতে পারেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি) থেকে। 

user
user
Ad
Ad