`

ভুল আগাছানাশক দেওয়ায় ২০০ বিঘা ধানের জমি নষ্টের অভিযোগ

  • Views: 894
  • Share:
আগষ্ট ২৭, ২০২৬ ১৯:০৮ Asia/Dhaka

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহার করে ২০০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কীটনাশক ডিলার মেসার্স হৃদয় ট্রেডার্সের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। উপজেলার বড়মহেশপুর, শিমর, শিবরামপুর, কয়রাপুর, কালিয়া, তিখুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চলতি আমন মৌসুমে জমি রোপণের পর ভাদুরিয়া বাজারের মেসার্স হৃদয় ট্রেডার্স নামের একটি কীটনাশকের দোকান থেকে আগাছা দমনের জন্য আগাছানাশক ক্রয় করেন বেশ কিছু কৃষক। সেই আগাছানাশক জমিতে ব্যবহারের পর হঠাৎ ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের।

সমাধান চেয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন বাবু মিয়া নামে একজন কৃষক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে নিম্নমানের কীটনাশক বিক্রেতা ও ডিলারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সরকারি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়মহেশপুর, শিমর, শিবরামপুর, কয়রাপুর, কালিয়া, তিখুরসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন মাঠে সম্প্রতি কৃষকেরা আমন ধান চাষাবাদ করেন। জমিতে আগাছা দমনের জন্য স্থানীয় ভাদুরিয়া বাজারের মেসার্স হৃদয় ট্রেডার্স নামের একটি কীটনাশকের দোকান থেকে আগাছানাশক ক্রয় করেন বেশ কিছু কৃষক। কিন্তু স্প্রে করার মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সবুজ ধানগাছগুলো প্রথমে হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং পরবর্তীতে সম্পূর্ণ কুঁকড়ে পচে মারা যায়। একাধিকবার চারা রোপণ করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলেও কৃষকেরা অভিযোগ করেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের বড়মহেশপুর গ্রামের কৃষক বাবু মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিক্রি করা ভেজাল বা নিম্নমানের আগাছানাশক অথবা ডিলারদের ভুল পরামর্শের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। অনেক কৃষক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং চড়া সুদে ধার করে জমিতে বীজ, সার ও সেচ দিয়ে আমন আবাদ করেছিলেন। ধানক্ষেত এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন চরম খাদ্য ও আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করছেন তারা। তবে কৃষি অফিস সরেজমিনে এসে দেখে গেলেও কোনো সমাধান দেয়নি। কীটনাশক ডিলার মেসার্স হৃদয় ট্রেডার্সের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি কোম্পানির লোকের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করবেন বলে জানান। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান করেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


কীটনাশক ডিলার মেসার্স হৃদয় ট্রেডার্সের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কীটনাশক ব্যবহারের ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া জমির ধানের বিষয়ে কৃষকদের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। কী দিয়ে সমাধান করা হয়েছে, সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

এদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস জানান, কৃষকের অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করা হয়েছে। কৃষক বাবু মিয়া ২০০ বিঘা জমি নষ্ট হয়েছে এমন অভিযোগ দিয়েছেন, কিন্তু ২০০ বিঘা জমি হবে না। এক থেকে দুই বিঘা জমি নষ্ট হতে পারে। ইতোমধ্যে জমির মাটি, পানি, চারা এবং আগাছানাশক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত সঠিকভাবে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

user
user
Ad
Ad