`

৩০৪ কলেজ জাতীয়করণে দীর্ঘসূত্রিতাঃ ভারি হচ্ছে খালি হাতে অবসরের পাল্লা, নন- এমপিও শিক্ষকদের হাহাকার

  • Views: 12547
  • Share:
জুন ১৪, ২০২০ ১৩:০৭ Asia/Dhaka

প্রভাষক এম. হাবিবুল্লাহ বাহারঃ আজ থেকে প্রায় দু-বছর আগে ২০১৮ সালের ৮ই আগস্ট জিও জারীর মাধ্যমে দেশের ২৭১টি সরকারী কলেজ বিহীন উপজেলায় ২৭১টি কলেজ সরকারি করা হয়।পরবর্তীকালে তা বেড়ে ৩০৪টিতে দাঁড়ায়।

কিন্তু সরকারিকৃত এসব কলেজের শিক্ষকদের কপালে 'শনির দশা' হিসেবে আবির্ভূত হয় " নো বিসিএস, নো ক্যাডার" নামক শিক্ষা ক্যাডারের কতিপয় অতি উৎসাহী তরুণ ক্যাডার। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারমূলক এ উদ্দোগকে মেনে নিতে পারেন নি। তারা শুধু বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হননি,রবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্দোগকে বানচাল করার জন্য আদালতে মামলা পর্যন্ত করেছেন। কারণ তারা জানেন, আদালতই একমাত্র কালক্ষেপনের জায়গা।হ্যাঁ তারা এ ক্ষেত্রে সফল ও হয়েছেন। জিও জারিকে দু-বছর পিছিয়ে দিয়েছেন, ক্যাডারের বদলে নন ক্যাডার মর্যাদা এনে দিয়েছেন।অতপর একটি পর্যায়ে জিও জারি হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার  কারণে নিয়োগ নিষেধাজ্ঞার পর প্রায় চার বছরের এডহক নিয়োগ তো দূরের কথা, সামান্য পদায়নটুকুও হয়নি।একাধিক পত্রিকায় প্রকাশ, যারা জাতীয়করণের ঘোর বিরোধী এমন কি নো বিসিএস নো ক্যাডার সমিতির সদস্য তাদের কেউ কেউ নাকি কাগজ-পত্র যাচাই বাছাইয়ের সাথে সম্পৃক্ত। বিষয়টি এমন যেন" শুটকির রাজ্যে বিড়াল চৌকিদার "। 

দ্রুত পদ সৃজনের কৌশল হিসেবে মাউশি থেকে সমন্মিত পদ সৃজনের কথা বলা হয়েছিল।শিক্ষকগণ কিছুটা আশার আলো দেখেছিল।কিন্তু কে জানিত সেই দ্রুতগতির কৌশল নির্ধারণেই বছর লেগে যাবে! স্বাভাবিক গতিতে হলেও যেখানে পদায়নে এক বছরের বেশী লাগার কথা নয়, সেখানে দ্রুতগতির স্পিড দেশের মোবাইল অপারেটরের টুজির চেয়েও নিচে!  যেন " শিয়ালের পাঠশালায় খরগোশের বাচ্চার উচ্চ শিক্ষা"।

২০১৬সালে নিয়োগ নিষেধাজ্ঞার পর মাউশির পরিদর্শক টিম একবার কলেজগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেন।সে সময় প্রত্যেক শিক্ষকক-কর্মচারীর যাবতীয় তথ্য পুঙ্খনাপুঙ্খ রূপে যাচাই -বাছাই করে প্রতিবেদন করেন।অতপর প্রায় তিন বছর পর সেই একই অধিদপ্তর একই কাজ পূণরায় করছেন।তাহলে কি বিষয়টি কন্ট্রাডিকশন হয়ে গেল না? তাদের গঠিত টিমের প্রতি কি তাদের আস্থা নেই? কেনো প্রত্যেকটি কলেজকে আলাদা-আলাদাভাবে বারবার ডাকতে হবে? যেহেতু এডহক নিয়োগের পর স্থায়ী নিয়োগের জন্য তাদের কাগজ-পত্র যাচাই-বাছাই করার সুযোগ আছে সেহেতু তাদেরকে এডহক নিয়োগ দ্রুত দিতে বাধা কোথায়!

সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে যে মাউশি এই শিক্ষকদেরকে এমপিও দিয়েছে,  সেই মাউশিন এসব শিক্ষকের ফাইলে ৫৫ রকমের ত্রুটির নোট লেখে! তাহলে কি সরিষায়ই ভূত ছিল এতদিন? মাউশি কি এসব শিক্ষকের ফাইল জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও দিয়েছিলেন? এভাবে চলতে থাকলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার যেমন ভেস্তে যাবে  তেমনি শিক্ষকগণও বঞ্চিত হবেন চরমভাবে।কারণ নিয়োগ আয়-ব্যেয়  নিশেধাজ্ঞার কারণে এসব শিক্ষক কলেজ প্রদত্ত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।অন্যদিকে হাজারের অধিক  প্রবীন শিক্ষক অশ্রুসজল চোখে খালি হাতে আশাহত হয়ে বিদায় নিয়েছেন।আরও দুই সহস্রাধিক শিক্ষক এক বছরের মধ্যে ৫৯বছর অতিক্রম করবেন।এ সব শিক্ষকের জন্য তজাতীয়করণ আশির্বাদ না হয়ে বরং অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে! কাজের এই রহস্যজনক কচ্ছপ গতির সাথে যুক্ত হয়েছে করোনা বাহানা।

এখন আসা যাক এসব কলেজের অনার্সসহ নন- এমপিও শিক্ষকগণ কেমন আছেন? তারা কেমন আছেন তা নিঃসন্দেহে বর্ণনাতীত। তারা এখন শিক্ষক না হয়ে ভিক্ষক হয়ে গেছেন। জাতি গড়ার কারিগর নাকি শিক্ষকগণ! বাহ! চমৎকার। তাহলে তারা আজ কেনো অনুদানের জন্য হাত পাতেন?
যদি স্বাভাবিক গতিতে কাজ হতো তবে তো করোনার কতো আগেই তো এডহক নিয়োগ হয়ে যেত!
অনুদান মানেই তো দানের চেয়ে ক্ষুদ্র। হয়তো তা ৩/৫হাজার হলেও হতে পারে।এই দানে একজন শিক্ষক কয়দিন চলতে পারবেন কর্তৃপক্ষ কি ভেবে দেখেছেন একবারও?

এ সমস্ত শিক্ষক সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মেনে ১০০% প্রাতিষ্ঠানিক বেতন পাওয়ার শর্তে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠান সরকার নিয়ে নিল কিন্তু শিক্ষককে কে নিবে? কে নিবে তাদের পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়?
 এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ হল না তাহলে নন এমপিওদের বন্ধ হল কেন? কর্তৃপক্ষ বলবেন আমরাতো বন্ধ করিনি। বাস! দায় সাড়বেন কিন্তু বাস্তবতা হল আয়-ব্যয়ে নিষেধাজ্ঞা এবং ডিড অব- গিফট   হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের আয় বলতে এমন কিছু থাকে না যা দিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া যাবে। এফডি আর ভেঙে দু মাসের বেতনের আদেশ দিলেন। দু মাস তো প্রায় শেষ।তাহলে কি এ মাস থেকেই এডহক নিয়োগ দিয়ে দিবেন? কোন কলেজ এফডিআর ভেঙে কেতন দিয়েছে কিনা তা কি কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিয়েছেন?

এমন দায় সাড়া আদেশ আমরা চাইনা। কোন দান-দক্ষিণা নয়,আমরা চাই দ্রুত পদায়ন করা হোক।অন্যথায় বলবো "ফিরিয়ে দাও এ অরণ্য, নাও এ নগর"। অন্ততঃ আগের মত খেয়ে-পড়ে কয়টা দিন বাঁচি।করোনা থেকে বাঁচতে হলে আপাতত নুন ভাত খেতে হবে।অন্যথায় এন্টিবডি হবে কী করে!
তিনদিনের নোটিশে যদি দেশের দু-লক্ষাধিক শিক্ষক -কর্মচারীর বিকাশ নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য নেওয়া যায়, তবে কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে এডহক নিয়োগ সম্ভব।

তাই কর্তৃপক্ষেরর নিকট বিণীত অনুরোধ আপনারা দ্রুত আমাদের এডহক নিয়োগ সম্পন্ন করুন,অন্যথায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও  এসব কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম হয়তো স্বাভাবিক হবে না।

কারণ এসব কলেকের সমস্যার অন্ত নেই।অধিকাংশ কলেজের বহু বিভাগের এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সব পদ শুন্য।সেখানে নন এমপিও অনার্স শিক্ষকই ভরসা।কিন্তু করোনার এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নন এমপিও শিক্ষকদের মহা বিপর্যয় ডেকে এনেছে।ফলে বাঁচার তাগিয়ে তারা কেউ কেউ অন্য রোজগারের পথে হাঁটবে।আবার বাকীরা হয়তো একদফা দাবীতে কর্মবিরতিতে যেতে পারেন।

user
user
Ad
Ad