`

পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় স্কুলে যে কাণ্ড ঘটালেন শ্বশুর

  • Views: 3258
  • Share:
অক্টোবার ৪, ২০২৬ ১১:৫১ Asia/Dhaka

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলে ও পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অভিযোগে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছের চারা রোপণ ও প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের কার্যালয়ের দরজায় নতুন করে তালা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আজাদ আলীর বিরুদ্ধে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) উপজেলার ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসে এসব কর্মকাণ্ড করেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ নাম নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেজল্যুশনে আজাদ আলী নিজেই এ নাম প্রস্তাব করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। পর্যায়ক্রমে উচ্চতর শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমোদন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা অভিযোগ করে বলেন, শনিবার সকাল ১১টার দিকে আজাদ আলী লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কার্যালয়ের আগের তালার ওপর আরেকটি তালা লাগান। পরে প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয় এবং বিদ্যালয়ের মাঠে সারি করে কলাগাছের চারা রোপণ করা হয়।

অন্যদিকে, আজাদ আলীর দাবি, টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি জমি দান করেছিলেন। সেখানে তার ছেলে ও পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার দেওয়া শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি এবং পুত্রবধূকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা লাগানো ও মাঠে কলাগাছ রোপণের পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান।

তবে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আজাদ আলী প্রথমে নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনা নির্মাণের পর জমি রেজিস্ট্রির সময় তিনি ছেলে ও পুত্রবধূর চাকরির দাবি করেন। তার পুত্রবধূকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগও দেওয়া হয়েছিল। চাকরিরত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে আজাদ আলীর ছেলে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর চাকরির বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ-সংক্রান্ত রেজল্যুশনও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন আজাদ আলী। তার অভিযোগ, যে নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য তিনি জমি দিয়েছিলেন, সে নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

user
user
Ad