`

এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 

  • Views: 3282
  • Share:
সেপ্টেম্বার ৩০, ২০২৬ ১৭:৪০ Asia/Dhaka

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সই করেছেন প্রযুক্তি খাতের ছয় শীর্ষ নির্বাহী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউজে প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালীদের নিয়ে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজের পর বহুল আলোচিত এ চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

জয়েন্ট কমিটমেন্ট অন ফ্রন্টিয়ার রেসপনসিবিলিটিজ’ নামের এই নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করেছেন অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ, এক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং।

চুক্তি অনুযায়ী, এআই মডেলগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ে কাজ করবে স্বাধীন নিরীক্ষক দল। ভবিষ্যতে এসব স্বেচ্ছামূলক পদক্ষেপকে আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা যুক্তিসংগত হতে পারে বলেও সম্মত হয়েছেন নির্বাহীরা। তবে সরকারি কড়া আইনি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অনিচ্ছার বিষয়টিও এ আয়োজনে স্পষ্ট হয়েছে।

সম্প্রতি এআই এজেন্টদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবেদনশীল তথ্য ও ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশের ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি বেড়েছে। এমনকি অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত হওয়ায় চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই তাদের সর্বশেষ মডেলটি বাজারে আনা স্থগিত করেছে এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ডাটাবেজে এআই এজেন্টের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো এআই তদারকি সংস্থা গঠনের চেষ্টার কঠোর বিরোধিতা করেন। প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় চীনকে পেছনে ফেলে শীর্ষে থাকাই তার মূল অগ্রাধিকার বলে জানান।

হোয়াইট হাউজের এই সমঝোতাকে ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস আমেরিকান প্রযুক্তির সুরক্ষায় ইতিবাচক পদক্ষেপ বললেও কড়া সমালোচনা করেছেন স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা। সিডনির ইউএনএসডব্লিউ এআই ইনস্টিটিউটের প্রধান টবি ওয়ালশসহ একাধিক বিশ্লেষকের মতে, বাধ্যবাধকতাহীন এই চুক্তিতে স্বাধীনতার চরম অভাব রয়েছে; কারণ কোনো ট্রিলিয়ন ডলারের শিল্প নিজেদের তৈরি নীতিমালায় নিজের মূল্যায়ন নিজে করতে পারে না।

user
user
Ad