`

প্রচলিত নিয়মে পাত্রি দেখা ও এর যৌক্তিকতা ।

  • Views: 2197
  • Share:
জুন ২৭, ২০২০ ২০:১৬ Asia/Dhaka

মো: মোস্তফা কামাল: ভেঙ্গে দিন মানুষ রচিত ইসলাম বিদ্বেষী কুপ্রথা।বিয়ে করবে একজনের পাত্রী।দেখতে যাবে কেন বেগানা পুরুষ১০ জন?মেয়েরা মায়ের জাতি। সৃষ্টির শুরু লগ্ন থেকে মেয়েরা জন্মগতভাবে লজ্জাবতী লজ্জা নারীর ভূষণ ।

 লজ্জা নারীর সম্মান। সামাজিক প্রথার দোহাই দিয়ে মেয়েদের সম্মান নিয়ে টানা হেছড়া  করা সমাজের বিবেকবান মানুষের জন্য লজ্জাকর,অপ্রীতিকর।মেয়েরা মাতৃ  জাতি  পাত্রী দেখার নামে মাতৃ  মায়ের সম্মান টেনে-হিঁচড়ে বাজারে নিলামে করা  বিবেক হীনতার পরিচয় বলে আমি মনে করি।সামাজিকতার দোহাই দিয়ে বিয়ের পাত্রী দেখার কুপ্রতা আপনার আমার  বানানো যে রীতি,তা কি ইসলাম সমর্থন করে? প্রশ্নটা আপনাদের কাছে।আশাকরি বিবেচনা পূর্বক দৃষ্টিতে উপলব্ধি করবেন।আমি কখনো সমাজবিরোধী নয়। আমার লেখনি  স্বার্থন্বেষী মানুষের বানানোর সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে।আপনার ছেলেকে বিয়ে দেবেন ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে যাবে  এটা চিরায়িত স্বাভাবিক চলমান গ্রহণযোগ্য  নিয়ম।তবে ছেলের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়ে  ধর্মীয় এবং মানবিক গ্রহণযোগ্যতা তখনই হারিয়ে যায়, যেখানে বিয়ের আগে ছেলে এবং মেয়ে উভয়ই একে অন্যের জন্য বেগানা,সেখানে কনে দেখতে  ছেলের সাথে ছেলের বন্ধু,ছেলের বোন জামাই,চাচাতো ভাই  সহ বিশাল বেগানা পুরুষের বহর নিয়ে আপনার ছেলের জন্য  মেয়ে দেখতে কনের পিত্রালয়ে যাওয়ার  ধর্মীয় রীতির কতটুকু অনুমোদন আছে তা অবশ্যই আমাদেরকে ভেবে দেখতে হবে,

বিয়ের জন্য পাত্রী  দেখতে যাওয়ার সময় ছেলে পক্ষের বেগানা আত্মীয়-পরিজনের উপস্থিতি ধর্মীয় ঋতির পরিপন্থী।পাত্রী দেখতে পাত্রের  সাথে আগত বেগানা পুরুষদের ভূমিকা অবাঞ্চিত অযাচিত শরিয়া বিরুদি।এসব মানুষ রচিত রীতিনীতির  বিরুদ্ধে এখনই রুখে না দাঁড়ালে  আগামীতে চলমান অসামাজিক অনৈতিক কর্মকান্ড  মহামারী আকারে আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়বে।বিবাহ উপযুক্ত ছেলে মেয়ে নিজ নিজ পরিবারের সম্মতি ক্রমে  তাদের জীবনসঙ্গী নির্বাচনে একে অন্যকে দেখার  সম্পূর্ণ জায়েজ আছে, অবশ্য তা শালীনতার মাধ্যমে।তবে আমাদের সামাজিক প্রচলিত নিয়মে কখনো জায়েজ নয়।

ধর্মীয় রীতির গ্রহণযোগ্য  নিয়মটা এভাবে হওয়া উচিৎ।বিয়ের কথাবার্তা প্রাথমিক ভাবে শুরুতে  ছেলে পক্ষের নিকটপরিজন মেয়ে সদস্য  যেমন মা বোন বড় ভাইয়ের বউ ছোট ভাইয়ের বউ পাত্রীর  বাড়ীতে পাত্রীকে দেখতে যাওয়াতে কোন আপত্তি নেই।আপত্তি  করার অনু-পরিমানও  যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়,
ছেলে পক্ষের পরিবারের মেয়ে সদস্যরা  প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকভাবে রাত্রি  দেখার পর্ব শেষ হলে 
অথবা ছেলে পক্ষের পরিবারের মেয়ে সদস্যাদের পাত্রীকে প্রাথমিকভাবে পছন্দ হলে,এক্ষেত্রে দিন তারিখ ঠিক করে  ছেলে  এবং মেয়ে উভয় উভয়কে দেখার পর পছন্দ হলে, উভয় পক্ষের গণ্যমান্য মুরুব্বীরা বিয়ের দিন তারিখ নিয়ে  আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে বিয়ের দিন তারিখ  ধার্য করতে পারেন।
বিয়ে একটা সামাজিক পারিবারিক আল্লাহ প্রদত্তপবিত্র বন্ধন।এখানে ইসলামিক রীতি অনুসরণ করা অবশ্যই জরুরী। আপনার আমার বানানো নিয়ম দুনিয়া ও আখেরাতে অকল্যাণকরও তা অবশ্যই অধিকাংশ বেগানা পুরুষ নিয়ে পাত্রী  দেখতে গিয়ে  সামাজিকথার দোহাই দিয়ে পাত্রীকে  এমন ভাবে দেখা হয় তা দেখে মনে হয় যেন ছেলের জন্য পাত্রী নয় কোরবানির হাটে গরু দেখার বিরাট আয়োজন চলতেছে।

বিবাহ উপযুক্ত একটি মেয়েকে  পরপুরুষের সামনে দাঁত দেখাও,মুখ দেখাও, চুলদেখাও হেঁটে দেখাও।  পাত্র পক্ষের পক্ষ থেকে একটি মেয়েকে  যখন অবাঞ্চিত লজ্জা কর মানহানিকর এতসব কাজ করে দেখাতে বলা হয়,তখন একটি মেয়ের মানসিক অবস্থা কি হতে পারে তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন?একটি মেয়েকে এত প্রশ্নে জর্জরিত করার পরেও,আপনাদের বিষাক্ত চোঁখের অঙ্গভঙ্গিতে দেখার পরেও আপনাদের নির্লজ্জ মানসিকতার আরেকটি  বহিঃপ্রকাশ  হলো পাত্রপক্ষের বেগানা সকলের সাথে পাত্রীকে দাঁড় করিয়ে গ্রুপ ছবি তোলা।পাত্র পক্ষের কাছে আমার প্রশ্ন হল, পাত্রীকে গরুর মত পর্যবেক্ষণ করে সকলের সাথে গ্রুপ ছবি তুলার পর আপনাদের পক্ষ থেকে কোনো গ্যারান্টি কি আছে যে আপনার ছেলের জন্য সেই পাত্রীকে বউ হিসাবে আপনার ঘরে তুলে নেবেন?যদি তাই না হয় তাহলে আঁকদ আনুষ্টানরে আগে পাত্রী কে নিয়ে কেন এত বিরূপ আয়োজন?প্রিয় সুধী সমাজ- আছে কি আপনাদের কাছে  আমার প্রশ্নের সদুত্তর, কোন জবাব?
 যদি তাই নাইবা থাকে তাহলে এখনই  আমাদেরকে রুখে  দিতে হবে ধর্মীয় নীতি যা সমর্থন করেনা মানুষের বানানো সেই নিয়ম। আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে,না কাবিন হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত  যে কোন ছেলে মেয়ে একে অন্যের জন্য বেগানা।

মো: মোস্তফা কামাল

কুয়তে প্রবাশী

 

user
user
Ad
Ad