`

জীবনের নানা বাঁক অতিক্রম করা এক মজির উদ্দিন স্যার

  • Views: 2057
  • Share:
ডিসেম্বার ১০, ২০২১ ২০:০৪ Asia/Dhaka

ফয়সল আহমদ রুহেল ::  মজির উদ্দিন আনসার। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি এ রাজনীবিদ মজির উদ্দিন আনসার ১৯৫২ সালের ১৫ জুলাই সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ৮নং তিলপাড়া ইউনিয়নের দাসউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইন্তাজ আলী ও মাতা নেওয়ারুন নেছা। মজির উদ্দিন একমাত্র ছেলে ।তাঁর চার বোন। তাদের মধ্যে তিনি সবার বড়। বোনেরা সবাই বিবাহিত।

শিক্ষাজীবন : মজির উদ্দিন আনসার প্রাথমিক শিক্ষা লাভের জন্য সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দাসউরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তারপর বাবার ইচ্ছায় দাসউরা সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে ১৯৬৮ সালে দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে বিয়ানীবাজার সিনিয়র মাদ্রাসায় আলিম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৭০ সালে যথারীতি উত্তীর্ণ হন। তারপর ১৯৭১ সালে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসায় ফাজিল ক্লাসে ভর্তি হন । ইতিমধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের নিমিত্তে ১৯৭১ এর এপ্রিলে ভারত চলে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারেননি তিনি। 

স্বাধীনতার পরে দেশে ফিরে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতে যাননি। ১৯৭২ সালে সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট এসএসসি পরীক্ষার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সিলেট এমসি ইন্টার কলেজ হলের সিলেট সরকারী কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ক্লাসে ভর্তি হয়ে এইচএসসি পাশ  করেন। রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে সিলেট শহর ছেড়ে ১৯৭৫ সালে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি ন। কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষার পূর্বে নানাবিধ প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার স্বার্থে সর্বোপরি আত্মরক্ষার্থে তিনি ভারত চলে যান। সেখানে ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন।  প্রায় ৬ বছর সেখানে অবস্থান করার পর ১৯৮৩ সালে দেশে ফিরে আসেন।

কর্মজীবন : ভারত থেকে দেশে ফেরার পর এলাকাবাসী শিক্ষানুরাগী মুরুব্বিয়ানদের চাপে স্থানীয় দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) হিসাবে যোগদান করেন। শিক্ষকতায় যোগদানের পর স্নাতক ডিগ্রি ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ এবং পরবর্তীতে উচ্চতর ২য় বিভাগে বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতায় কাটানোর পর ২০০৭ সালে ঐ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হয়ে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন।

রাজনৈতিক জীবন : শৈশবকাল থেকে স্বাধীনচেতা মনোনভাবাপন্ন চিন্তাধারার মানুষ হিসাবে রাজনীতি মনষ্ক ছিলেন মজির উদ্দিন আনসার। দাসউরা সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় অধ্যায়নকালীন ১৯৬৮ সালে মাদ্রাসা ছাত্র সংসদের সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতে নিরুৎসাহী ছিলেন। কিন্তু তাঁর পরিবারের একান্ত ইচ্ছা ছিল মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন মৌলানা হওয়ার। 

মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত অবস্থায় লাউতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্তের চাপে তা সম্ভব হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের ভূমিকা মজির উদ্দিনকে অত্যন্ত ব্যথিত করে। তাদের পাকিস্তান প্রীতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চেতনা তাঁর জন্য মাদ্রাসার ছাত্রত্ব পরিত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের ধারণার বিপরীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন মজির উদ্দিন। কারণ তাঁর রাজনৈতিক চেতনা ছিল মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ ভিত্তিক। ১৯৭২ সালের ৩১ শে অক্টোবর তৎকালীন ছাত্রলীগের বাঘা বাঘা নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে জাসদ গঠিত হলে তিনি জাসদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং ১৯৭৩ সালে সিলেট এমসি এন্টার মিডিয়েট কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

মজির উদ্দিন আনসার সভাপতি থাকাকালে জাসদ ছাত্রলীগের পুরো প্যানেল ১৯৭৪ সালে এমসি ইন্টার কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে শুধুমাত্র একটি শ্রেণী প্রতিনিধি পদ ছাড়া। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল ছিল বর্তমান মৌলভীবাজার কুলাউড়া আসনের সাংসদ জনাব সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের নেতৃত্বাধীন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগ সিলেট সদর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমিটি নির্বাচনের জন্য সিলেটের ঐতিহাসিক সারদা হলে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না। তারা জাসদ ছাত্রলীগের দু’জন নেতাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু জেলা নেতৃবৃন্দ মইনুল ইসলাম (বর্তমানে প্রবীন চিকিৎসক) কে সদর থানা সভাপতি ও মজির উদ্দিন আনসারকে সাধারণ সম্পাদক করে সদর থানা কমিটি ঘোষণা করলে তারা বিক্ষোভের সাথে মিছিল করে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করে। এসময় মজির উদ্দিন আনসার নিজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তখন তাদের এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং মজির উদ্দিনকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছিল। জেলা ছাত্রলীগ তাদেরকে দায়িত্ব প্রদানের সময় তৎকালীন জেলা সভাপতি জনাব সিরাজ উদ্দিন আহমদ ভাই মজির উদ্দিনকে প্রশ্ন করেন, ‘তুই কেন তাদের সাথে বেরিয়ে গেলে?’ উত্তরে মজির উদ্দিন আনসার বলেছিলেন, ‘সিরাজ ভাই ক্ষমতার রাজনীতি আমি করি না-আদর্শের রাজনীতি করি।’  মজির উদ্দিন আনসারের আফসোস লাগে-আজকের যুগে ক্ষমতা ও লোভ-লালসার কাছে রাজনৈতিক আদর্শ পরাজিত দেখে।

১৯৭৪-৭৫ সালে জাসদ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর সরকারি দল ও বাহিনীর নির্যাতন চরম অবস্থায় পৌঁছলে মজির উদ্দিন আনসারসহ অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপন তথা সিলেট শহর থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে মজির উদ্দিন নিজ উপজেলা বিয়ানীবাজার চলে আসেন এবং বিয়ানীবাজার কলেজে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন। চূড়ান্ত পরীক্ষার পূর্ব মুহুর্তে ভারত চলে যান এবং সেখানে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।  ১৯৮৩ সালে দেশে ফেরার পর শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি জাসদ রাজনীতিতে পুরোদমে সম্পৃক্ত হন। প্রথমে বিয়ানীবাজার উপজেলা জাসদের সহ সভাপতি এবং পরবর্তীতে সভাপতি মনোনীত হয়ে এখন পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয় উপজেলা পর্যায়ের এ দায়িত্বের পাশাপাশি সিলেট জেলা জাসদের সহ সভাপতি এবং জাসদ জাতীয় কমিটির সদস্য হিসাবে রাজনীতির মাঠে বিচরণ তাঁর।

আন্দোলন/সংগ্রাম : রাজনৈতিক সক্রিয় কর্মী হিসাবে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে অন্তরে লালন করে এ  জাতি, এ সমাজ অসাম্প্রদায়িক হোক, প্রগতিশীল হোক এটুকু প্রতিনিয়তই ভাবেন মজির উদ্দিন আনসার। তাই যে রাজনীতিকে মনে প্রাণে ধারণ করে তারই ধারাবাহিকতায় সামরিক জান্তা জিয়া ও এরশাদ বিরোধী লড়াই, সংগ্রাম ও আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। এলাকাভিত্তিক দাবি-দাওয়া ও উন্নয়নের স্বার্থে প্রতিটি আন্দোলনে নির্মোহভাবে অংশ্রগ্রহণ করেন। বহুজাতিক কোম্পানী সাইপ্যাম সিমিটার বিরোধী আন্দোলনে সামনের কাতারে ছিলেন তিনি। এ আন্দোলনকে গণআন্দোলনে রূপদানের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে তাকে আহ্বায়ক ও তৎকালীন মাথিউরা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব জমির উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে তিন ইউনিয়ন গ্যাস সরবরাহ আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। ফলে বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ড থেকে গোলাপগঞ্জ পর্যন্ত পাইপলাইন বসানোর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ আন্দোলনে বিস্তীর্ণ এলাকার জনগণ তাদেরকে সর্বাত্মক সমর্থন ও সাহস যোগায়। তাদের আন্দোলনের ব্যাপকতার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সাংসদ আন্দোলনের যৌক্তিতার পক্ষে মহান জাতীয় সংসদের জোরালো ভূমিকা পালন করেন বক্তব্যের মাধ্যমে। তাদের আপোসহীন লড়াই ও সংগ্রাম সর্বোপরি সংসদ সদস্য জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবের ভূমিকা মাথিউরা ও তিলপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকায় পাইপলাইন বসিয়ে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হয়। গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারী বাজার ইউনিয়ন প্রথম দিকে তাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকলেও পরবর্তীতে হাল ছেড়ে দিলে ঐ ইউনিয়নে গ্যাস সরবরাহ হয়নি যা আজো সরবরাহবিহীন অবস্থায় আছে।

এলাকার উন্নয়নে সরব : ঝরাপাতা প্রকাশিত জমাদার খাল বিয়ানীবাজার উপজেলার মুল্লাপুর ও তিলপাড়া ইউনিয়রে পানি প্রবাহের অন্যতম এবং একমাত্র মাধ্যম। মুল্লাপুর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান খালটি দখল করে নিয়েছিলেন। এ খালটি পুনরুদ্ধারের জন্য তারা দলমত নির্বিশেষে উভয় ইউনিয়নের জনতা আন্দোলন গড়ে তুলেন। চেয়ারম্যান ঐ খালের জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে আমন জমি হিসাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে কারসাজি করে লিজপ্রাপ্ত হোন এবং মহামান্য আদালত থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা করেন। তারা এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মহামান্য আদালতের স্মরনাপন্ন হন। চেয়ারম্যানের লিজগ্রহন এবং নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে তারা আর্থিকভাবে অনিশ্চিয়তায় পড়েন। ঠিক সেই সময়ে তৎকালীন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মুজাম্মিল আলী সাহেব মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলে তারা সম্মত হন। পরবর্তীতে মহামান্য আদালতের মাধ্যমে সদরপুর হতে কটুখালির পার পর্যন্ত ১৫ ফুট প্রস্থের রাস্তার জন্য জমি উদ্ধার করা হয়। রাস্তার সাথে আরো ১৮ বিঘা জমি জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্য আদালত কর্তৃক ডিক্রীপ্রাপ্ত হন। এখানে উল্লেখ্য, সমঝোতামূলক মীমাংসায় মজির উদ্দিন বাহ্যিকভাবে সমর্থন দিলেও আদালতে স্বাক্ষর করেননি। তাঁর বিশ্বাস ভবিষ্যত প্রজন্ম হয়তো একদিন এ ঝরাপাতা তথা জমাদার খাল পরিপূর্ণ উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।

সমাজ কর্ম : ঐতিহাসিক নানকার আন্দোলনের  রক্ষার্থে তারা স্থানীয়ভাবে চাঁদা সংগ্রহ করে স্মৃতিস্তম্ভের জন্য জমি ক্রয় করেন। এ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন যথাক্রমে সানেশ^র গ্রামের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক বাবু উমেশ চন্দ্র দাস, উলুউরা গ্রামের অধর বাবু ও পুতুল বাবুসহ অনেকে। অথচ প্রকাশিত কোনো এক গ্রন্থে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জনাব গোলাম কিবরিয়া তাপাদার লিখেছেন-বিয়ানীবাজার কমিউনিষ্ট পার্টি স্মৃতিস্তম্ভের এ জমি ক্রয় করেছিলো।

১৯৭৪ সালে মজির উদ্দিন আনসার এর নিজ গ্রাম দাসউরায় ‘সংহতি যুব পরিষদ’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠন প্রতিষ্ঠায় যিনি তাকে সক্রিয়ভাবে উৎসাহ ও সাহস যুগিয়েছিলেন তিনি হলেন মরহুম নাজিম উদ্দিন রফিক (দাসউরা)। সংগঠনটির মাধ্যমে তারা অনেক সমাজসেবা ও গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কাজ করেন।  তাদের প্রথম প্রকল্প ছিল ‘নালবহর’ খালের উপর বাঁশের নির্মিত (তর্জা) সাঁকো। প্রতি বছরই তারা এ প্রকল্পে কাজ করতেন। সদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের খালেও বাঁশের সাঁকো নির্মাণ, লেংড়া খালের উপর সাঁকো নির্মাণ ও চান্দলায় সাঁকো নির্মাণ করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও সাবলিল রাখার চেষ্টা করেন। বর্ষা মৌসুমে গ্রামের প্রতিটি রাস্তা কাঁদামুক্ত রাখার কাজও করেন তিনি। এলাকার উন্নয়নে সরকারী অনুদান পাবার জন্য প্রচেষ্টা নিরলসভাবে করেন মজির উদ্দিন আনসার।

১৯৮৫ সালে বিয়ানীবাজার উপজেলায় রূপান্তরিত হলে তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তাকে নৌকাযোগে দাসউরা আলিম মাদ্রাসা ও হাইস্কুল পরিদর্শনে নিয়ে আসে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একটি সভা আয়োজন করে নালবহর খালের উপর কালভার্ট নির্মাণের গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরেন এবং বাস্তবায়নের জন্য জোরালো দাবি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে ওয়াদা প্রদান করেন এবং পরবর্তী তা যথারীতি বাস্তবায়ন করেন। তাদের সার্বিক যোগাযোগ ও প্রচেষ্টায় সানেশ্বর খালে ও লেংড়া খালের উপর সেতু নির্মিত হয়। নালবহর, দাসউরা বাজার রাস্তা পীচ উপযোগী করার জন্য তারা স্থানীয়ভাবে চাঁদা সংগ্রহ করত: ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগী হিসাবে কাজ করেন। বিয়ানীবাজার চন্দরপুর রাস্তা পাকাকরনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রায়শই যোগাযোগ করেন তারা। এ প্রেক্ষিতে মাথিউরা ও তিলপাড়া ইউনিয়নবাসী সম্মিলিতভাবে তৎকালীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নালবহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলেন। মূলত নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয় চন্দরপুর-বিয়ানীবাজার রাস্তা পাকাকরনের প্রকল্প কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি চন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। চন্দরপুরে কুশিয়ারা নদীর ফেরিঘাট নিয়ে তাঁর এলাকার লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তিনি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে ধীরগতি সম্পন্ন হয়ে যান।

কিন্তু সংবর্ধনা প্রাপ্তির মাধ্যমে তিনি আবারও বাস্তবায়নে গতিশীল হন এবং বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনায় প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। মাথিউরা ও তিলপাড়া ইউনিয়নবাসী তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা তাদের পক্ষ থেকে। তৎকালীন তিলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মরহুম আমিন আলী (তোতা মিয়া), নালবহর গ্রামের ছুফি মাস্টার ও তিলপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ আল আনসারী যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলার সকল নিবন্ধিত সমাজকল্যাণমূলক সমিতিগুলোকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার জন্য ‘বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সমিতি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেন। মজির উদ্দিন আনসার এ সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে গোটা বিয়ানীবাজার উপজেলায় সামাজিক আন্দোল এবং কর্মকা- জোরদার করেন। কানিজ ট্রাভেলসের স্বত্তাধিকারী লায়ন আব্দুল আহাদ, রাজনীতিবিদ লোকমান আহমদ ও মজির উদ্দিন আনসারের প্রচেষ্টায় উপজেলা পর্যায়ে প্রথম লায়নস ক্লাব বিয়ানীবাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। সিলেট বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলন সংগঠিত হলে বিয়ানীবাজারে বিভাগ আন্দোলন পরিষদ গঠন করেন। সময়ের পরিক্রমায় সিলেট বিভাগ গঠিত হলে ঢাকায় সিলেটের নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ গঠিত হয়। মজির উদ্দিন আনসার ঐ সংগঠনের বিয়ানীবাজার শাখার সভাপতি ও বর্তমান বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আওয়াল সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেন। এ সংগঠনের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ বিভাগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ত আন্দোলন করেন। যা জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাদের আন্দোলন জাতীয় পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার পেয়েছিল তখনকার সময়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কানসাটে বিদ্যুৎ নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল যার ফলে তৎকালীন সরকার বিপর্যস্ত অবস্থানে চলে যায়। সবার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন তৎকালীন বিএনপি সরকারকে বিচলিত করে তোলে। মজির উদ্দিন আনসার সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

 ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে সুজন বিয়ানীবাজার শাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সৎ, নীতিবান ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন। জনগণকে আকৃষ্ট করতে খোলা ট্রাকে মঞ্চ তৈরি করে নাটক প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রচারণা চালান। এব্যাপারে নাট্যকার আব্দুল অদুদ ও তার নাট্যদল সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। সুজনের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সব দলের প্রার্থীদের নিয়ে উপজেলা পরিষদের হলরুমে মুখোমুখী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং কেন্দ্রীয় সুজন কর্তৃক সরবরাহকৃত শর্তাবলী সম্বলিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। এই অঙ্গীকানামায় একজন প্রার্থী স্বাক্ষর প্রদানে অক্ষমতা প্রকাশ করায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হোন এবং ভোটের মাঠে পিছিয়ে পড়েন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক মায়ন ভাই।

নালবহর-দাসউরা বাজার রাস্তাটি সম্ভবত: ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবের প্রচেষ্টায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে পাকাকরণ হয়। এক/দুই বছর যেতে না যেতেই রাস্তাটির পীচ উঠে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায় এবং গর্তের সৃষ্টি হয়। তারা জনগণ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রাস্তার মাটি কাজ সম্পাদন করেন। ২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসে এবং জনাব ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন। মজির উদ্দিন আনসার স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এমপি’র সাথে যোগাযোগ করতে লাগলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, রাস্তাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে পাকা করে দিবে। এ প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রকৌশলী রাস্তাটি পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেন যে, রাস্তাটি তার বিভাগের মাধ্যমে পাকা করা যাবে না কারন রাস্তাটির শুরু স্পট থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত ১০ ফুট প্রস্থের কম। তারা স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে পাশর্^ প্রাচীর তৈরি করে মাটি ভরাট করে দেন। ফলে রাস্তাটির বিধিমত প্রস্থতা বেড়ে যায়। পরবর্তীতে প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে পাকাকরন সম্পন্ন হয়।

দাসউরাবাজার টু শানেস্বর রাস্তার অর্ধ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরন তৎকালীন বিএনপি নেতা মরহুম কমর উদ্দিনের উদ্যোগে ও সহায়তায় সম্পন্ন হয়। সদরপুর চান্দলা রাস্তার ৮০০ মিটার অংশ উনার মাধ্যমে পাকাকরন করা হয়। এ দুটি রাস্তা নির্মাণে নেতৃবৃন্দকে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। দাসউরা টু শানেস্বর রাস্তার ২ কিলোমিটার অংশ সাংসদ সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার উদ্যোগে পাকাকরন হয়। এ কাজ সম্পাদনে চেয়ারম্যান জনাব ওমর ফারুক মজির উদ্দিনকে কল্পনাতীত সহযোগিতা করেন। মজির উদ্দিন আনসার স্থানীয়ভাবে এবং প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে গাংকুল টু শানেস্বর বাজার পর্যন্ত রাস্তার মাটির কাজ করিয়ে পাকাকরণ উপযোগী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এ কাজে তাদের চার লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়। মজির উদ্দিন আনসারে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জনাব দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আওয়ালের আন্তরিকতায় সর্বোপরি মাননীয় সাংসদ মহোদয়ের বদ্যান্যতায় গাংকুল নিউমার্কেট-চান্দলা রাস্তায় ইট সলিং করা হয়েছে।

প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ জনাব আলী আহমদ স্যারকে সভাপতি ও  মজির উদ্দিন আনসারকে সদস্য প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ জনাব আলী আহমদ স্যারকে সভাপতি ও  মজির উদ্দিন আনসারকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করে বিয়ানীবাজার নাগরিক কমিটি গঠিত হয়। বিয়ানীবাজারের প্রয়াত গুণীজনদের স্মরনে এক স্মরন সভার আয়োজন করেন এবং একটি স্মরণিকাও প্রকাশ হয়। তেল, গ্যাস সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির বিয়ানীবাজার শাখার আহ্বায়ক হিসাবে  মজির উদ্দিন জাতীয় সম্পদ পাঁচারের বিরুদ্ধে ও পরিবেশ আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। প্রখ্যাত দার্শনিক ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (জিসি দেব) এর পৈত্রিক ভিটা উদ্ধারের জন্য তখন জিসি দেব স্মৃতিরক্ষা পরিষদ গঠন করা হয়।  মজির উদ্দিন ঐ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেক আন্দোলন করেও প্রয়াত জিসি দেবের পৈত্রিক বসতবাড়ি ভূমিখেকোদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারেননি। জিসি দেবের বসতভিটা পুনরুদ্ধার আন্দোলন এক সময় জোরালো থাকলেও আজকাল বিষয়টি নিয়ে কেউ এগিয়ে আসছে না।

পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মজির উদ্দিন আনসার ১৯৮৭ সালে কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ভর্তির জন্য গেলে সঙ্গীয় সহকর্মীসহ কলেজ গেইট পেরিয়ে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বাজারে চলে যান। কলেজের গেইটের উপর রড দিয়ে বাঁকা করে কলেজের নাম লিখা ছিল বলে তাদের কারোই নজরে পড়েনি। তিনি কলেজের  Students Representative Council রাব ঈড়ঁহপরষ এর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হলে সমাজকল্যাণ তহবিল থেকে ৮ ফুট বাই ৪ ফুট সাইজের দুইটি নামফলক নির্মাণ  করেন যাতে গেইটটি সবার চোখে দৃশ্যমান হয়।  মজির উদ্দিন আনসার প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে দাবি দাওয়ার মাধ্যমে এসআরসি অফিস এর জন্য টিটি কলেজে আলাদা কক্ষের অনুমোদন করান। তাদের প্রচেষ্টায় কলেজে ক্যান্টিন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। এসআরসি এর সদস্যবৃন্দের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কুমিল্লা টিটি কলেজ মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন এবং তারা ১৯৮৭-৮৮ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা এ মসজিদ নির্মাণে প্রাথমিক তহবিলও গঠন করেন। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ কলেজের অনেক সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় । কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তখনকার সময় এসআরসি এর সাধারণ সম্পাদক জনাব ইয়াকুব ভূইয়ার ভূমিকা প্রণিধানযোগ্য ।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন : মজির উদ্দিন আনসার প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসীকে সমন্বিত করে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ের জন্য দুটি পাকা ভবনের অনুমোদন করিয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত  এ সকল উন্নয়নে এলাকার কৃতিসন্তান তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি মহোদয়ের ভূমিকাই ছিল প্রধান। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণের মাধ্যমে একটি এক তলা ভবনও নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে এ ভবনকে দ্বিতল ভবনে রূপান্তর করেছিলেন নির্মাণ কাজ শেষ করে। শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেননি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্ক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেন তিনি। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণকালে বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল খুবই অপ্রতূল ছিল। কিন্তু বহুমুখী প্রেষণামূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে বড় অংকের সাধারণ তহবিল বিদ্যালয়ে রেখে অবসরগ্রহণ করেন এই শিক্ষক।

শিক্ষক সমিতি সংশ্লিষ্টতা ও আন্দোলন : শুধু শিক্ষক হিসাবে সুদীর্ঘকাল কাটাননি শিক্ষক আন্দোলন, রাজনৈতিক আন্দোলন, সামাজিক আন্দোলনে শরীক হয়েছিলেন। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি দাওয়ার আন্দোলনে এখনো সম্পৃক্ত আছেন। শিক্ষক সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে লড়াই করার অংশীদার হতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতিতে সংযুক্ত হন। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষক আন্দোলনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সিলেট বিভাগীয় শিক্ষক সমিতি গঠন এবং সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় পরিষদের সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। নানাবিধ কারনে সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় তিনি এখনো সে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। শিক্ষকদের সকল আন্দোলনে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ এবং সফলও হয়েছিলেন তিনি। শিক্ষক সমিতিকে তৃণমূল পর্যায়ে বিকশিত করার লক্ষ্যে সিলেট বিভাগের প্রতিটি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষকদের সমন্বয় করেন। সমিতির কার্যক্রম তথা শিক্ষক আন্দোলন যুগোপযোগী ও শিক্ষকের দাবি দাওয়ার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার নিমিত্তে মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষক সমিতি গঠন করেন। হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষক সমিতি ও সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষক সমিতিকে মূল সংগঠনের সাথে পুন:সর্ম্পক্ত করেছিলেন। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা সফর করে সকল শিক্ষককে একই কাতারে নিয়ে আসার চেষ্টা চালান। মজির উদ্দিন আনসারের এসব সাংগঠনিক পথ পরিক্রমায় সার্বক্ষণিক সহযোগী ছিলেন জেলা শিক্ষক সমিতি নেতৃবৃন্দ। যার মধ্যে প্রধান শিক্ষক জনাব ঈসরাইল আহমদের নাম অগ্রগণ্য।

মজির উদ্দিন আনসার জীবন সায়াহ্নে আজ উপনীত, নানাবিধ শারীরিক, সামাজিক ও বৈষয়িক জটিলতা বিরাজমান। জীবনের আঁকাবাঁকা পথে বিচরণ করে আজ এ পর্যায়ে এসেছেন। শিক্ষক হিসাবে কর্মময় জীবন পার করেছিলেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আন্দোলন লড়াইয়ে ছিলেন। সমাজকর্মী হিসেবে সমাজ বিনির্মানে সহযোগী ছিলেন। তারপরও  মজির উদ্দিন আনসার এর পরিচয় হলো-তিনি আপাদমস্তক একজন শিক্ষক। এর বাইরে বাকী পরিচয় ছিল তাঁর সহযোগী। জীবনে কতটুকু সফলতা পেয়েছেন এ শিক্ষক। তবে চেষ্টা করেছেন সততা, শালীনতা, নৈতিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, স্পষ্টবাদিকতার মৌলিক আদর্শকে ধারন করে জীবন ধারন করতে। জীবনের পড়ন্ত বেলায় তেমন কোন আকাঙ্খা নেই এই সংগ্রামী মানুষটির।

`Life is short; art is long'  মানুষের জন্মের পর জীবনের প্রতিটি স্তরে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে চলাফেরা করতে হয়। প্রতিটি স্তরে একজন মানুষ নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আর এ অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার জীবনের শেষ অবধি পর্যন্ত চলমান থাকে। চলমান ধারাবাহিকতাকে বজায় রেখে একজন মানুষ অপরিপক্ক অবস্থান থেকে পরিপক্কতায় আসীন হয় জীবনের পড়ন্ত বেলায়।

জীবনের নানা বাঁক অতিক্রম করে আজ গ্রামের বাড়িতে অবসরোত্তর জীবনযাপন করছেন মজির উদ্দিন আনসার। রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টার পাশাপাশি সমাজকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন স্বকীয়তা বজায় রেখে। তিনি এখনো সেই ধারা বজায় রেখে চলছেন সীমান্তপানে।

গুনী এই শিক্ষক ২০২১ সালে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে কাজ করা হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক বৃহত্তর সিলেটের বিয়াীবাজার উপজেলার কৃতি সন্তান জনাব টি, আলী স্যারের নামে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাজ্য ভিত্তিক চ্যারেটি সংস্থা টি,আলী স্যার ফাউন্ডেশনের জরিপে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার আদর্শ শিক্ষকের সন্মাননার স্বীকৃতি হিসেবে টি, আলী স্যার পদকে ভুষিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ফাউন্ডেশন সিলেট জেলার বার উপজেলার ২৪ জন আদর্শ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে পদক দেয়ার পাশাপাশি তাদের জীবনী ধারাবাহিকভাবে লিখছেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি টি, আলী স্যারের সুযোগ্য পুত্র বৃটেনের জনপ্রিয় চ্যানেল এস টেলিভিশনের সাংবাদিক ফয়সল আহমদ (রুহেল)। পদকপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে থেকে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা ৫ জন শিক্ষককে আর্থিক সহযোগিতাও দেবে সংস্থাটি।

পারিবারিক জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি ।মেয়ে বিবাহিত। বড় ছেলে টুকটাক ব্যবসার করছে ।ছোট ছেলে ইন্টার পড়ছে । জীবনে সৎ থেকে অনেক পয়সার মালিক হতে পারেননি তিনি ,একই সময় লেখাপড়া শেষ করে বন্ধুদের অনেকেই অন্য পেশা বেছে নিয়ে হয়েছেন কোটিপতি ,বাসা, বাড়ী-গাড়ী সহ অনেক জায়গা সম্পত্তির মালিক,তারপরও আক্ষেপ নেই এই শিক্ষকের। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বলে গর্ব করেন গুনী এই শিক্ষক। আমরা তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। 

user
user
Ad