`

মেয়েটি কালো বলে বিয়ে হলো না! 

  • Views: 1083
  • Share:
জুলাই ২৭, ২০২১ ০০:২০ Asia/Dhaka

আতাউর রহমান:: সবকিছু ঠিকঠাক। কিন্তু মেয়েটি কালো বলে পাত্রপক্ষ এ বিয়েতে রাজি হলো না। কালো রঙ এই মেয়েটিকে কে উপহার দিয়েছেন? এর জন্য কি মেয়েটি দায়ী! নাকি তার বাবা-মা দায়ী! বাস্তবতা বড়ই কঠিন। এ বাস্তবতা দেখে নিজেও বাকরুদ্ধ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হলো- তাদের চোখে কালো রঙ অস্বাভাবিক রঙ; বিতৃষ্ণার রঙ। 

তাদের মতে, সাদা মানেই নাকি শুভ্র, শুভ ও শান্তির নাম! আর কালো মানে অশুভ। প্রশ্ন হলো- সাদা বা শ্বেত রঙ যদি শুভ হয়, তবে মাথার চুল কালো রবে কেন? কালো নামক অশুভ মাথায় তুলে ত্বকের শুভ্রতা কি খুব বেশি অহংকারের? আমার বুঝে পড়ে না।

আমাদের সমাজে অনেকের চোখে ‘কালো' মেয়ে নাকি কথিত সাদা মেয়ের তুলনায় তুচ্ছ৷ কালো রঙের কন্যা সন্তান নাকি পরিবারে ‘শোকের বার্তা' বয়ে আনে৷ সে কারণে কন্যার গায়ের রং ‘কালো' বা ‘ময়লা' হলে সেই পরিবারে হতাশার কোনো সীমা থাকে না৷ জন্মের পরমুহূর্ত থেকেই মেয়েটিকে নিয়ে বাবা-মা দুশ্চিন্তায় ভোগেন – ‘মেয়েটি বিয়ে দিতে পারবো তো?'

সমাজের এক শ্রেণি মেয়ে ‘কালো' হলে তাকে করুণার পাত্র বানিয়ে দেয় ৷ বিয়ের ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতার চেয়ে পাত্র পক্ষকে যথাযত সম্ভব খুশি করতে হয়৷ কৃষ্ণবর্ণকে  ‘শ্যামলা' বানিয়ে গায়ের রং-টা পাত্রপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার কারুকাজ করতে হয়। এর সাথে যৌতুক তো অবধারিত। 

কালো মেয়ের প্রতি কেন এ নিষ্ঠুরতা৷ গায়ের রং তো স্বাভাবিক ও প্রকৃতি প্রদত্ত ঘটনা৷ এ তো সৃষ্টিকর্তার দান। অথচ গায়ের রং ফর্সা না হলে মেয়েটিকে সইতে হয় নানা গঞ্জনা৷ কুশ্রী শব্দটা তার সাথে সহবাস করে। চলে ফর্সা হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা। এই সুযোগ নেয় রঙ ফর্সা করা সামগ্রীর বিক্রেতারা। তারা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য এসব সামগ্রীর বিজ্ঞাপন প্রচার করে। সেগুলোতে নারীর গায়ের রঙ ফর্সা করার উপর বেশি জোর দিতে দেখা যায়। ফর্সা হলে নাকি তারা চাকরি, স্বামী ও সুখ খুঁজে পায়। তাই স্নো-পাউডার, ‘ফেয়ারনেস ক্রিম'-এ নির্ভরশীল হয়ে উঠেন অনেকেই। তাহলে কালো রঙের নারীরা কি এসবের যোগ্য নয়।

ওরা কি জানে না, পবিত্র মক্কাঘর কালো, রজনী কালো, কৃষ্ণ কালো, কোকিল কালো, কেশ কালো, কুরআনের হরফ কালো, পুস্তকের অক্ষর কালো। তা হলে কালো রঙ অশুভ হয় কি করে?

আসলে এই সাদা প্রীতি আর কালো বিদ্বেষী মনোভাব সম্বলিত সমাজ ও সংস্কৃতির ছোবল সেই আদিকাল থেকেই আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। এই ভ্রান্তি, এই অনাচার দূর না হলে নিজেদেরকে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হিসেবে দাবি করা তো অন্যায়।

user
user
Ad