`

সহীহ বুখারী শরী‌ফের অনন্য বৈ‌শিষ্ট্য: সুলাসিয়্যাত হাদীস

  • Views: 4382
  • Share:
অক্টোবার ১৪, ২০২০ ১০:৩৭ Asia/Dhaka

‌মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর:: প‌বিত্র কুরআন মাজী‌দের পর সর্ব‌শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হ‌লো সহীহ বুখারী শরীফ। ইমাম বুখারী রহ. প্রায় ছয় লক্ষ হাদীস থে‌কে যাচাই বাছাই ক‌রে অনবদ্য গ্রন্থ সহীহ বুখারী শরীফ সংকলন ক‌রেন। তাঁর সংক‌লিত সহীহ বুখারী গ্রন্থটি কতগু‌লো অতুলনীয় সৌন্দ‌র্যে বৈ‌শিষ্ট্যম‌ন্ডিত। তম্ম‌ধ্যে সবচাই‌তে গুরুত্বপূর্ণ বৈ‌শিষ্ট্য হ‌লো সুলা‌সিয়্যাত হাদীস।

উ‌ল্লেখ্য যে, সুলা‌সিয়্যাত হাদীস হ‌লোঃ যে হাদীস মুসান্নিফ (যেমন ইমাম বুখারী রহ.) এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মাঝে তিনজন রাবীর মধ্যস্থতায় বর্ণিত হ‌য়ে‌ছে। সহীহ বুখারীতে মোট ২২ টি সুলাসিয়্যাত রয়েছে। প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ ও গ‌বেষক শা‌য়েখ ড. আবদুল্লাহ ইব‌নে ইবরা‌হিম আল বুখারী' সুলা‌সিয়্যাতুল বুখারী মিনাল জা‌মেইস সহীহ' নামক গ্র‌ন্থে হাদীসগু‌লো উ‌ল্লেখ ক‌রে‌ছেন। ২২ টি সুলা‌সিয়্যা‌তের রাবী তথা বর্ণনাকারী মোট ১১ জন, তাঁরা হ‌লেন, হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ আবু আ‌ছেম আদ দাহ্হাক ইব‌নে মাখলাদ, মুহাম্মদ ইব‌নে আবদুল্লাহ আনসারী, হুমাইদ, হযরত আনাস, হযরত ইছাম ইব‌নে খা‌লেদ, হারীয ইবনে ‘উসমান, খাল্লাদ ইব‌নে ইয়াহইয়া, ঈসা ইব‌নে ত্বহমান। নি‌ম্মে সুলা‌সি হাদী‌সের বাংলা অনুবাদ উ‌ল্লেখ করা হলঃ

১. হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি আমার উপর এমন কথা আরোপ করে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১০৯ 

২. হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ মসজিদের দেয়াল ছিল মিম্বারের এত নিকট যে, মাঝখান দিয়ে একটা বকরীরও চলাচল কঠিন ছিল। 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৯৭

৩. হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, হযরত ইয়াযীদ ইব্‌নু আবূ উবায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি হযরত সালামা ইব্‌নুল আকওয়া (রাঃ)–এর নিকট আসতাম। তিনি সর্বদা মসজিদে নববীর সেই স্বম্ভের নিকট সালাত আদায় করতেন যা ছিল মুসহাফের নিকটবর্তী। আমি তাঁকে বললামঃ হে আবূ মুসলিম! আমি আপনাকে সর্বদা এই স্তম্ভ খুঁজে বের করে সামনে রেখে সালাত আদায় করতে দেখি (এর কারণ কী?) তিনি বললেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–কে এটি খুঁজে বের করে এর নিকট সালাত আদায় করতে দেখেছি। 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫০২ 

৪. হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, সূর্য পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬১

৫. হযরত আবু আছেম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আশূরার দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে এ বলে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেন যে, যে ব্যক্তি খেয়ে ফেলেছে সে যেন পূর্ণ করে নেয় অথবা বলেছেন, সে যেন সওম আদায় করে নেয় আর যে এখনো খায়নি সে যেন আর না খায়। 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৯২৪

৬. হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ,হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে লোকজনের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা দিতে আদেশ করলেন, যে ব্যক্তি খেয়েছে, সে যেন দিনের বাকি অংশে সওম পালন করে, আর যে খায়নি, সেও যেন সওম পালন করে। কেননা আজকের দিন ‘আশূরার দিন। 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২০০৭

৭. হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একদিন আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় একটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, আপনি তার জানাযার সালাত আদায় করে দিন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে? তারা বলল, না। তিনি বললেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? তারা বলল, না। তখন তিনি জানাযার সালাত আদায় করলেন। তারপর আরেকটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি জানাযার সালাত আদায় করে দিন। তিনি বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে? বলা হল, হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? তারা বললেন, তিনটি দীনার। তখন তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। তারপর তৃতীয় আরেকটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, আপনি তার জানাযা আদায় করুন। তিনি বলেন, সে কি কিছু রেখে গেছে। তারা বললেন, না। তিনি বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে। তারা বললেন, তিন দীনার। তিনি বললেন, তোমাদের এ লোকটির সালাত তোমরাই আদায় করে নাও। আবূ কাতাদা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার জানাযার সালাত আদায় করুন, তার ঋণের জন্য আমি দায়িত্ব আমি নিলাম। তখন তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২২৮৯

৮. হযরত আবু আছেম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সালাতে জানাযা আদায়ের জন্য একটি জানাযা উপস্থিত করা হল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তার কি কোন ঋণ আছে? সাহাবীগণ বললেন, না। তখন তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। তারপর আরেকটি জানাযা উপস্থিত করা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তার কি কোন ঋণ আছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমাদের সাথীর সলাতে জানাযা তোমরাই আদায় করে নাও। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার ঋণের দায়-দায়িত্ব আমার উপর। তখন তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২২৯৫

৯. হযরত আবু আছেম আদ দাহ্হাক ইব‌নে মাখলাদ, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ,  সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বার যুদ্ধে আগুন প্রজ্বলিত দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, এ আগুন কেন জ্বালানো হচ্ছে? সাহাবীগণ বললেন, গৃহপালিত গাধার গোশত রান্নার জন্য। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, পাত্রটি ভেঙ্গে দাও এবং গোশত ফেলে দাও। তাঁরা বললেন, আমরা গোশত ফেলে দিয়ে পাত্রটা ধুয়ে নিব কি? তিনি বললেন, ধুয়ে নাও। আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ (বুখারী) (রহঃ) বলেন, ইবনু আবূ উয়াইস বললেন, ------ শব্দটি আলিফ ও নুনে যবর হবে। 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৪৭৭

১০. হযরত মুহাম্মদ ইব‌নে আবদুল্লাহ আনসারী, হুমাইদ, হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রুবাইয়্যি বিনতে নাযর (রাঃ) এক কিশোরীর সামনের দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল। তারা ক্ষতিপূরণ চাইল আর অপরপক্ষ ক্ষমা চাইল। তারা অস্বীকার করল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এল। তিনি কিসাসের আদেশ দিলেন। আনাস ইব্‌নু নাযর (রাঃ) তখন বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! রুবাইয়্যি-এর দাঁত ভাঙ্গা হবে? না, যিনি আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না।’ তিনি বললেন, ‘হে আনাস, আল্লাহ্‌র বিধান হল কিসাস।’ অতঃপর বাদীপক্ষ রাজী হয় এবং ক্ষমা করে দেয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্‌র বান্দাদের মধ্যে এমন বান্দাও রয়েছেন যে, আল্লাহ্‌র নামে কোন কসম করলে তা পূরণ করেন। ফাযারী (রহঃ) হুমায়দ (রহঃ) সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করতে গিয়ে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তখন লোকেরা রাজী হল এবং ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করল।
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৭০৩

১১. হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, ‘আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বায়’আত করলাম। অতঃপর আমি একটি বৃক্ষের ছায়ায় গেলাম। মানুষের ভীড় কমে গেলে, (তাঁর নিকট উপস্থিত হলে) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, ‘ইব্‌নু আকওয়া’! তুমি কি বায়’আত করবে না?’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি তো বায়'আত করেছি।’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আরেক বার।’ তখন আমি দ্বিতীয় বার আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বায়’আত করলাম। (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আবূ মুসলিম! সেদিন তোমরা কোন্‌ জিনিসের উপর বায়’আত করেছিলে?’ তিনি বললেন, ‘মৃত্যুর উপর।’
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৯৬০ 

১২.  হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি গাবাহ্ নামক স্থানে যাবার উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে বের হলাম। যখন আমি গাবাহর উঁচুস্থানে পৌছলাম, সেখানে আমার সঙ্গে ‘আবদুর রাহমান ইব্‌নু আউফ (রাঃ)-এর গোলামের সাক্ষাৎ ঘটল। আমি বললাম, আশ্চর্য! তোমার কী হয়েছে। সে বলল, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুগ্ধবতী উটনীগুলো ছিনতাই হয়েছে। আমি বললাম, কারা ছিনতাই করেছে? সে বলল, গাতফান ও ফাযারাহ্ গোত্রের লোকেরা। তখন আমি বিপদ, বিপদ বলে তিন বার চিৎকার দিলাম। আর মদীনার দুই কঙ্করময় ভূমির মাঝে যত লোক ছিল সবাইকে আওয়াজ শুনিয়ে দিলাম। অতঃপর আমি দ্রুত ছুটে গিয়ে ছিনতাইকারীদের পেয়ে গেলাম। তারা উটনীগুলোকে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করতে থাকলাম। আর বলতে লাগলাম, আমি আকওয়া‘র পুত্র, আর আজ কমিনাদের ধ্বংসের দিন। আমি তাদের থেকে উটগুলো উদ্ধার করলাম, তখনও তারা পানি পান করতে পারেনি। আর আমি তাদের সেগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে আসছিলাম। এ সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে আমার দেখা হয়, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকগুলো তৃষ্ণার্ত। আমি এত তাড়াতাড়ি কাজ সেরেছি যে, তারা পানি পান করার সুযোগ পায়নি। শীঘ্র তাদের পেছনে সৈন্য পাঠিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন, ‘হে ইব্‌নু আক্ওয়া! তুমি তাদের উপর বিজয়ী হয়েছ, এখন তাদের কথা বাদ রাখ। তারা তাদের গোত্রের নিকট পৌছে গেছে।
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩০৪১

১৩.  হযরত ইছাম ইব‌নে খা‌লেদ, হারীয ইবনে ‘উসমান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাহাবী ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন বুসর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দেখেছেন যে, তিনি কি বৃদ্ধ ছিলেন? তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিম্ন দাড়িতে কয়েকটি চুল সাদা ছিল।
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৫৪৬

১৪.  হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি সালামাহ (ইবনুল আকওয়া) (রাঃ)-এর পায়ের নলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ মুসলিম! এ আঘাতটি কিসের? তিনি বললেন, এ আঘাত আমি খাইবার যুদ্ধে পেয়েছিলাম। লোকজন বলাবলি করল, সালামাহ মারা যাবে। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলাম। তিনি ক্ষতটিতে তিনবার ফুঁ দিলেন। ফলে আজ পর্যন্ত এসে কোন ব্যথা অনুভব করিনি।
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪২০৬ 

১৫. হযরত আবু আ‌ছেম আদ দাহ্হাক ইব‌নে মাখলাদ, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং যায়দ ইবনু হারিসাহ্‌ (রাঃ)-এর সঙ্গেও যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে (যায়দকে) আমাদের সেনাধ্যক্ষ নিয়োগ করেছিলেন। 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪২৭২ 

১৬. হযরত মুহাম্মদ ইব‌নে আবদুল্লাহ আনসারী, হুমাইদ, হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি তাবেয়ীগণের কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ্‌র কিতাবের নির্দেশ হল কিসাস। 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৪৯৯ 

১৭.  হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, খাইবার বিজয়ের দিন সন্ধ্যায় মুসলিমগণ আগুন জ্বালালেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি জন্য এ সব আগুন জ্বালিয়েছ? তারা বললঃ গৃহপালিত গাধার গোশ্‌ত। তিনি বললেনঃ হাঁড়ির সব কিছু ফেলে দাও এবং হাঁড়িগুলো ভেঙ্গে ফেল। দলের একজন দাঁড়িয়ে বললঃ হাঁড়ির সব কিছু ফেলে দেই এবং হাঁড়িগুলো ধুয়ে নেই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাও করতে পার।
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৪৯৭ 

১৮. হযরত আবু আছেম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের যে লোক কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিনে এমন অবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কুরবানীর গোশ্ত কিছু থেকে যায়। পরবর্তী বছর আসলে, সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমরা কি তেমন করব, যেমন গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি বললেনঃ তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ, কারণ গত বছর মানুষের মধ্যে ছিল অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম, তোমরা তাতে সহযোগিতা কর।
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৫৬৯ 

১৯. হযরত মাক্কী ইব‌নে ইবরা‌হিম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, সালামা ইব্‌নুল আক্ওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে খায়বারের পথে রওয়ানা হলাম। তথন তাদের এক ব্যক্তি বলল, হে আমির! তোমরা আমাদেরকে উট চালনার কিছু গান শোনাও। সে তাদেরকে তা গেয়ে শোনাল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ চালকটি কে? তারা বলল, আমির। তিনি বললেন আল্লাহ্‌ তাকে রহম করুন। তারা বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদেরকে তার থেকে দীর্ঘকাল উপকার লাভের সুযোগ করে দিন। পরদিন সকালে আমির নিহত হল। তখন লোকেরা বললে লাগল তার ‘আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে, সে নিজেকে হত্যা করেছে। যখন আমি ফিরলাম, আর লোকেরা বলাবলি করছিল যে, আমিরের ‘আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে, তখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম এবং বললাম, হে আল্লাহ্‌র নবী! আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি কুরবান। তাদের ধারণা, আমিরের আমল নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ যে এ কথা বলেছে মিথ্যা বলেছে। কারণ, আমিরের জন্য দ্বিগুণ পুরষ্কার। কারণ সে আল্লাহ্‌র পথে সাধ্যমত চেষ্টা করেছ, অন্য কোন্ প্রকারের হত্যা তাকে এর চেয়ে অধিক পুরষ্কারের অধিকারী করত? 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৮৯১ 

২০. হযরত মুহাম্মদ ইব‌নে আবদুল্লাহ আনসারী, হুমাইদ, হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নাযরের কন্যা একটি বালিকাকে চড় দিয়ে তার দাঁত ভেঙ্গে ফেলল। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এল। তখন তিনি কিসাসের হুকুম দিলেন।
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৮৯৪ 

২১. হযরত আবু আছেম, ইয়াজিদ ইব‌নে আবু ওবায়েদ, হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর কাছে বৃক্ষের নীচে বায়’আত (বায়’আতে রিদওয়ান) গ্রহন করেছিলাম। পরে তিনি আমাকে বললেনঃ হে সালামা! তুমি বায়’আত গ্রহন করবে না? আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি তো প্রথমবার বায়’আত গ্রহন করেছি। তিনি বললেনঃ দ্বিতীয়বারও গ্রহণ কর। 
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭২০৮ 

২২. হযরত খাল্লাদ ইব‌নে ইয়াহইয়া, ঈসা ইব‌নে ত্বহমান, হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেছেন, যাইনাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) -কে উপলক্ষ করে পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়। নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যায়নাবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ উপলক্ষে ওয়ালিমা হিসেবে সেদিন রুটি ও গোশ্ত খাইয়েছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রীদের উপর যাইনাব (রাঃ) গর্ব করে বলতেন, আল্লাহ্ তো আসমানে আমার বিয়ের সিদ্ধান্ত করেছেন।
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৪২১,

প‌রি‌শে‌ষে, মহান রাব্বুল আলা‌মিন আমা‌দের‌কে হাদীস তথা সুন্নাহর উপর আমল করার তাও‌ফিক দান করুন। আ‌মিন।

‌লেখকঃ প্রভাষক, নোয়াখালী কারামা‌তিয়া কা‌মিল মাদরাসা।

user
user
Ad