ইসলামী ব্যাংক এবং প্রচলিত ব্যাংক এর মধ্যে পার্থক্য
পুজিবাদী অর্থনীতি এবং ইসলামের রিবা ও বর্তমান সুদ সম্পর্কে স্পষ্ঠ ধারণা প্রদান ও পার্থক্য নিরূপনে কোরআন ও হাদীসের আলোকে অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক জনাব আকমল হোসেন স্যার অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় "সুদ, যাকাত এবং ইসলামী অর্থনীতি" নামক প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেছেন। জালালাবাদ২৪.কম পত্রিকার তা ধারাবাহিকভাবে লেখা হচ্ছে। (১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম অংশ অংশ প্রকাশের পর আজকের ৬ষ্ঠ পর্ব)
আকমল হোসেন:: আমরা আলোচনা হতে পরিস্কার দেখেছি যে ইসলামী ব্যাংক ‘মুদারাবা’ এবং ‘আল ওয়াদীয়াহ’ পদ্ধতিতে জনগণের নিকট হতে তহবিল সংগ্রহ করে থাকে, যা সম্পূর্ণ শরীয়াহ মোতাবেক। এই তহবিল ইসলামী ব্যাংক বিনেয়োগকারীদের বিনিয়োগের জন্য প্রদান করে থাকে। এখন দেখতে হবে ইসলামী ব্যাংক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শরীয়াহ অনুসরণ করে কিনা? এক্ষেত্রে আলোচনায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটিড (IBBL) এর কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কারণ ব্যাংকটি বাংলাদেশের প্রথম ইসলামী ব্যাংক, যা ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
(১) ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি ছড়ান বিনিয়োগকারীরা। অবশ্য এই বিভ্রান্তি ছড়ানোর পিছনে অজ্ঞতা অনেকাংশে দায়ী রয়েছে। অনেকেই শতকরা হারকে সুদ মনে করেন। যেমন ইসলামী ব্যাংক বলল ১০% এবং অন্য ব্যাংক বলল ১০%। দুজনই শতকরা ১০ ভাগ এর কথা বলল। অতএব সোজা হিসাব দুজনেই সুদ খাচ্ছে! ধরুন একজন ১০০ টাকা দিয়ে বলল বছর শেষে আমাকে ১০ টাকা অতিরিক্তসহ ১১০ টাকা দিতে হবে। আর অন্যজন বলল, আমার এই ল্যাপটপটি এর ক্রয় মূল্য ১০০ টাকা। আপনি ১ বছর পর ১০% মুনাফা ধরে আমাকে দাম দেবেন ১১০ টাকা। বলুন-তো দুটিতে শতকরা ১০ টাকা অতিরিক্ত এসেছে। দুটিই কী সুদ? এজন্য আল্লাহপাক কোরআনে সূরা বাকারায় বলেছেন, “এরা বলে সুদ তো ব্যবসা-বাণিজ্যের মত। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” রাসুল (সাঃ) হাদীস হতে স্পষ্ট যে সমজাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে কম-বেশি করা হলো সুদ। বিশেষ করে রাসুল (সাঃ) হাদীস “দুই সা (১ সা = ২ কেজি ৪০ গ্রাম হতে ৩ কেজি) মিশ্রিত খেজুরের বিনিময়ে এক সা উত্তম খেজুর ক্রয়-বিক্রয় করবে না। বরং মিশ্রিত খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করে দিরহাম দিয়ে উত্তম খেজুর ক্রয় করবে” (সহীহ বুখারী)। যদি রাসুল (সাঃ) এক সা উত্তম খেজুরে বিনিময়ে দুই সা মিশ্রিত খেজুর গ্রহণ করা বৈধ ঘোষণা করতেন, তবে একসময় ১০০ টাকা ঋণ দিয়ে ১১০ টাকা ফেরত আনা বৈধ হয়ে যেত, যা বর্তমান সুদী ব্যাংক করে থাকে।
রাসুল (সাঃ) এর হাদীস অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংকসমূহ সরাসরি অর্থ ঋণ না দিয়ে ব্যাংক নিজে দ্রব্য ক্রয় করে এবং দ্রব্য মূল্যের সাথে মুনাফা যুক্ত করে গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করে। প্রচলিত ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকের এই কার্যক্রমের পার্থক্য যারা সাদা চোখে দেখেন, তারা তেমন কোন পার্থক্য খুঁজে পাবেন না। কিন্তু এই দুটি পদ্ধতির প্রয়োগ অর্থনীতিতে ভিন্ন ফলাফল নিয়ে আসে। এখানে প্রচলিত ব্যাংক গ্রাহককে ১০% সুদে নির্দিষ্ট মেয়াদে ১০০ টাকা প্রদান করে। গ্রাহক সেই ১০০ টাকা নিজের ভোগে ব্যয় করতে পারে অথবা অন্য যে কোন কাজে ব্যয় করতে পারে। কিন্তু মেয়াদ শেষে প্রচলিত সুদী ব্যাংককে ১১০ টাকা প্রদান করবে।
আবার ইসলামী ব্যাংক গ্রাহককে ১০০ টাকা নগদ না দিয়ে ১০০ টাকা দিয়ে একটি ল্যাপটপ ক্রয় করে গ্রাহকের নিকট ১১০ টাকায় বাকীতে বিক্রয় করে দিল। অর্থাৎ এখানে গ্রাহক কোন নগদ টাকা পেল না। সে পেল একটি ল্যাপটপ, যা তার ভবিষ্যত আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসাবে কাজ করছে। মেয়াদ শেষে গ্রাহক ইসলামী ব্যাংককে ১১০ টাকা প্রদান করল। এক্ষেত্রে দুটি ব্যাংকই অতিরিক্ত ১০ টাকা গ্রহণ করেছে।
কিন্তু একটি গ্রহণ করা হয়েছে নগদ টাকা প্রদানের মাধ্যমে এবং অপরটি গ্রহণ করা হয়েছে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে। ইসলামী শরীয়াহ একটিকে সুদ বলে নিষিদ্ধ করেছে এবং অন্যটিকে মুনাফা বলে বৈধ ঘোষণা করেছে। আর একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, নগদ টাকার প্রবাহ অপ্রয়োজনীয় ভোগের সৃষ্টি করে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ নীতিমালা অপ্রয়োজনীয় ভোগের সৃষ্টি করে না। তবে দুষ্ট লোকেরা বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগকে নগদে পরিণত করে, যার জন্য ব্যাংক দায়ী নয়। অবশ্য এ বিষয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে।
(২) একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকের মুনাফার হার সুদী ব্যাংকের চেয়ে বেশি না কম সেটি এখানে আলোচনা করা হচ্ছে না। এখানে আলোচনা করা হচ্ছে কার্যক্রম শরীয়াহ ভিত্তিক কিনা ? যদি ইসলামী ব্যাংকের মুনাফার হার খুবই উচ্চ হয় তবে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী এটি খুবই নিন্দনীয় কাজ হবে, কিন্তু হারাম নয়। তবে এতটুকু বলা যায়, ইসলামী ব্যাংকে তুলনামূলকভাবে মুনাফার হার কম হয়। তবে এই আলোচনা করতে হলে বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে।
(৩) ইসলামী ব্যাংক সবধরনের বিনিয়োগ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে না। আবার অংশগ্রহণ করলেও অতিরিক্ত প্রাপ্তির সবটুকু মুনাফায় অন্তর্ভূক্ত করতে পারে না। এই বিষয়টি পাঠকদের জানার প্রয়োজন রয়েছে। এই বিষয়টি জানতে পারলে সুদী ব্যাংকের সাথে ইসলামী ব্যাংকের পার্থক্য পাঠকদের চোখে ফুটে উঠবে।
(ক) বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে বাংলাদেশে ব্যাংকে প্রায় ১৮% অর্থ জমা রাখতে হয়। এর মধ্যে একটি অংশ ক্যাশ হিসাবে এবং বাকী টাকা বন্ডে রাখতে হয়। যেহেতু ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক সেহেতু ইসলামী ব্যাংকসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংকে বন্ডে টাকা জমা রাখে না। কারণ ইসলামী ব্যাংক বন্ড হতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত সুদ গ্রহণ করে না।
তাই অন্যান্য সুদী ব্যাংক যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বন্ডে টাকা রাখতে বাধ্য, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকসমূহকে বন্ডে টাকা রাখতে বাধ্য করে না। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সুদী ব্যাংকের বাধ্যতামূলক জমা প্রায় ১৮% হলেও ইসলামী ব্যাংকসমূহের বাধ্যতামূলক জমা হচ্ছে প্রায় ১২% বা ১৩%। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকসমূহকে শরীয়াহভিত্তিক কার্যক্রমে সহযোগীতা করছে, সেখানে কিছু সংখ্যক বুদ্ধিজীবি বলছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ঘুরিয়ে সুদ খায়’! এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশ সরকার ইসলামী ব্যাংকিংকে সহযোগীতা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ইসলামী বন্ড চালু করার চেষ্টা করছে।
এরপরও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে ইসলামী ব্যাংকের কোন লেনদেনে সুদ থাকলে, ইসলামী ব্যাংক সেই সুদের অর্থ তাদের আয়ের সাথে যুক্ত না করে জনকল্যাণ তহবিলে পাঠিয়ে দেয়। তাই ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা নিশ্চিত থাকতে পারেন, তাদের মুনাফায় সুদ নেই, শেয়ার হোল্ডাররা নিশ্চিত থাকতে পারেন, তাদের ডিভিডেন্ডে সুদ নেই, ব্যাংকের কর্মকর্তারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, তাদের বেতন-ভাতায় সুদ নেই।
(খ) বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন ধরনের ট্রেজারি বিল ও বন্ড আছে। বিভিন্ন সুদী ব্যাংকগুলো এ সমস্ত বন্ড এবং ট্রেজারি বিল ক্রয় করে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরকারি বন্ড ও ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ একেবারেই ঝুঁকিমুক্ত ও খুব বেশি লাভজনক হওয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ সমস্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু সুদ থাকার কারণে ইসলামী ব্যাংক এ সমস্ত বিনিয়োগে অংশগ্রহণ করতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ গ্রাহকের নিকট হতে ৯% এর অতিরিক্ত রাখতে পারবে না।
কিন্তু সেখানে বাংলাদেশ সরকারের স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিল ও বন্ডসমূহ ৯% এর বেশি সুদের হারে ক্রয়- বিক্রয় হচ্ছে। ফলে সুদী ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ঋণ প্রদানের চেয়ে সরকারি ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগ করাকে লাভজনক এবং নিরাপদ মনে করছে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংক সুদের কারণে এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারছে না।
(গ) ইসলামী ব্যাংক কলমানি মার্কেটে বিনিয়োগ করতে পারে না। কলমানি মার্কেটে ব্যাংকসমূহ তাদের স্বল্পকালীন তারল্য ঘাটতি মেটানোর জন্য যাদের তারল্য বেশি, তাদের নিকট হতে স্বল্প সময়ের জন্য নির্দিষ্ট সুদে ঋণ গ্রহণ করে থাকে। ইসলামী ব্যাংকে (IBBL) সবচেয়ে বেশি তারল্য রয়েছে। আর কলমানি মার্কেটে ঋণ প্রদান করে স্বল্প সময়ে সুদের ভিত্তিতে খুব সহজেই অতিরিক্ত প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু ইসলামী শরীয়াহ সুদ নিষিদ্ধ করায় ইসলামী ব্যাংক কলমানি মার্কেটে অংশগ্রহণ করতে পারে না।
(ঘ) সুদী ব্যাংকের আয়ের অন্যতম উৎস হলো সি সি লোন (ক্রেডিট সিলিং)। ব্যাংক আপনার কোন সম্পদ জামানত রেখে একটি নতুন ঋণ একাউন্ট খুলে ৫০ লক্ষ (ধরে নেয়া হলো) টাকা প্রদান করল। আপনি এই একাউন্ট হতে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা উঠাতে পারবেন। আপনি যে পরিমাণ অর্থ উঠাবেন এবং যতদিন পর্যন্ত হাতে রাখবেন, ততদিন এর সুদ প্রদান করতে হবে।
যেমন আপনি ২৫ লক্ষ টাকা ২০ দিনের জন্য উঠালেন। আপনাকে ২০ দিনের সুদ প্রদান করতে হবে। নির্দিষ্ট সমসয়ের মধ্যে সুদ প্রদান করতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হবে এবং ঋণ এবং সুদের পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। সি সি লোন সুদী ব্যাংকের জন্য খুবই লাভজনক। কারণ একাউন্টে ৫০ লক্ষ টাকা থাকলে মানুষের ব্যয় প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ফলে মানুষ অপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করতে পারে। উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না করার কারণে সিসি লোনের টাকা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে এবং একসময় গ্রাহক ব্যাংকে রাখা তার জামানত হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংক সুদ ভিত্তিক সি সি লোন এ বিনিয়োগ করতে পারে না। ফলে ইসলামী অর্থনীতিতে অপ্রয়োজনীয় ঋণের পরিমাণ হ্রাস পাবে।
(ঙ) গ্রাহক সময়মত অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে প্রত্যেকটি ব্যাংক গ্রাহককে জরিমানা করে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে সুদী ব্যাংকে জরিমানার অর্থ আসলে (মূলধন) যুক্ত হয়ে চক্রবৃৃদ্ধি হারে কাজ করে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে চক্রবৃদ্ধি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। আবার জরিমানার অর্থ ইসলামী শরীয়াহ এর দৃষ্টিকোণ হতে সন্দেহযুক্ত অর্থ হিসেবে গণ্য হয়।
তাই জরিমানার অর্থ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়িত হয় না, শেয়ার হোল্ডার এবং ব্যাংকে অর্থ জমাকারীদের মুনাফায় যুক্ত হয় না। তাহলে জরিমানার অর্থ যায় কোথায় ? প্রতিটি ইসলামী ব্যাংকে একটি জনকল্যাণমূলক তহবিল আছে। এই তহবিলে জরিমানার অর্থসহ সন্দেহযুক্ত অর্থ প্রদান করা হয়। বৈদেশিক মুদ্রা হতে প্রাপ্ত সুদও এই তহবিলে যুক্ত হয়। দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো যে, ইসলামী ব্যাংকের এই কার্যক্রম তাদের অনেক গ্রাহকই জানেন না। তাই অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত সুদী ব্যাংকের সাথে ইসলামী ব্যাংকের পার্থক্য নির্ধারণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
(চ) ইসলামী ব্যাংক তার সম্পদ হতে যাকাত আদায় করে। তবে আমানতকারীদের সুষ্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া তাদের একাউন্ট হতে যাকাত আদায় করা হয় না।
(ছ) ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী যে সমস্ত ব্যবসা বৈধ নয়, সে সমস্ত ব্যাবসায় ইসলামী ব্যাংক বিনিয়োগ করতে পারে না।
(জ) ইসলামী ব্যাংক মুনাফা ছাড়াই গ্রাহকদের ঋণ (কর্জ) প্রদান করে থাকে। ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (IBBL) কোন ধরনের মুনাফা গ্রহণ ব্যতীত প্রায় ৩ হাজার ৩ শত ৫০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করেছে (Annual Report -2019, Page-49)। সাধারণত গ্রাহকরা তাদের মেয়াদী আমানতের বিপরীতে এবং গ্রামীণ প্রকল্পের গ্রাহকরা নলকূপ, স্যানিটারি সিষ্টেম এর জন্য এ ধরনের ঋণ পায়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কিছু ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের যে ঋণ (কর্জ) প্রদান করে, সেখানে অতিরিক্ত ৩% গ্রহণ করে থাকে। এই অতিরিক্ত ৩% এর কোন শরীয়াহভিত্তিক ব্যাখ্যা নেই, বরং এটি সুদ হবে।
(৪) বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কার্যক্রম ১০০% শরীয়াহ ভিত্তিক, এটি তারা নিজেরাই দাবী করে না। এজন্যই ইসলামী ব্যাংকসমূহে ‘জনকল্যাণমূলক তহবিল’ রাখা হয়েছে, যেখানে সন্দেহযুক্ত লেনদেনের অর্থ এবং শরীয়াহভিত্তিক হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের দূর্বলতা এবং গ্রাহকের ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকার কারণে শরীয়াহ অডিট কর্তৃক প্রশ্নবিদ্ধ লেনদেনের অর্থ জমা হয়, যা ব্যাংকের আয় বা মুনাফায় আসে না। ইসলামী ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালিত করতে হলে ব্যাংক কর্মকর্তাকে যেমন শরীয়াহ আইন জানতে হবে, ঠিক তেমনিভাবে গ্রাহককেও শরীয়াহ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তা না হলে ইসলামী ব্যাংকিং এবং সুদী ব্যাংকিং এর মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না। (চলবে..............)
লেখক,
আকমল হোসাইন,
সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ,
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার।

- সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে ১২শ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে MS3 টেকনোলজি বিডি পরিবারের ঈদ শুভেচ্ছা
- এবার এফ-৩৫ জঙ্গি বিমানে ইরানি আঘাত
- শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের মোকাবিলা সম্ভব নয়: মুজতাবা খামেনেয়ী
- ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিণতির বিষয়ে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
- একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজান মাসই বন্ধ থাকছে মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা
- যুদ্ধ, বিভাজন ও অনিশ্চয়তা: বহুমুখী সংকটে ইসরায়েল
- পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
- হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
- বিজেপি-আরএসএসের বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় উইকিপিডিয়া
- আসামে তীব্র শীতের মধ্যেই ১৫০০ মুসলিম পরিবারের ঘর গুঁড়িয়ে দিল ভারত
- নুতন বই পেয়ে উচ্ছাসিত রাঙামাটির শিক্ষার্থীরা
- সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছেছে খালেদা জিয়ার মরদেহ
- আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
- শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান
- জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
- পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরশাসনের পতন
- তারেক রহমানের বহনকারী প্লেন নামল সিলেটে

