`

যাকাত : সম্পদ পরিশুদ্ধি, প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র বিমোচন

  • Views: 491
  • Share:
এপ্রিল ৩০, ২০২১ ২১:৫১ Asia/Dhaka

মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর:: মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানবজাতীকে তাঁর ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। শরীয়ত মোতাবেক সার্বজনীনভাবে প্রাপ্ত বয়স্ক সকল মুসলমানের জন্য ইবাদাত হিসেবে ইমানের পর সালাত ও সাওম ফরয। যাকাত ও হজ্ব শর্ত সাপেক্ষে নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপর ফরয। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইমানদারের জীবনকে সালাত ও সাওমের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করেন। সালাতের প্রাত্যহিক অনুশীলনের মাধ্যমে বান্দাহগণ আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের প্রবৃদ্ধি ঘটান। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে দৈহিক ও আত্মিক অপরিসীম কল্যাণ হাসিল করেন।

সম্পদ মানব জাতির প্রতি মহান আল্লাহপাকের বিশেষ অনুগ্রহ ও মহাদান। দুনিয়াবী জীবনে বান্দাগণ যাতে জীবনযাত্রা স্বচ্ছলভাবে ও সাচ্ছন্দে কাটাতে পারে সেজন্য আল্লাহপাক বান্দাহদেরকে সম্পদশালী করেন। সব বান্দাহকে আল্লাহপাক সম্পদশালী করেন না, কাউকে ধনী কাউকে গরীব বানান। আল্লাহপাক বান্দাহকে সম্পদের মালিক বানিয়ে তাকে পরীক্ষা করতে চান, সত্যিকার অর্থে  সে সম্পদ পেয়ে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে, নাকি অকৃতজ্ঞ বনে যায়। ধনী ও স্বচ্ছল ব্যক্তিরা গরীবের প্রতি সদাচার করে কিনা ? তিনি তা দেখতে চান। 

আল্লাহপাক ধনীদের সম্পদের মধ্যে গরীবের অধিকার নির্ধারণ করে দেন। ধনী ও স্বচ্ছল ব্যক্তি যারা নির্দিষ্ট সময়ে নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হন আল্লাহপাক তাদের উপর যাকাত ফরয করে দেন। 

যাকাত ফরয ইবাদাত। নেসাব পরিমান মাল পুরো একবছর অতিবাহিত হবার পর মালের মালিকের উপর যাকাত দেয়া ফরয। শরীয়ত নির্দেশিত পন্থায়, নির্দিষ্ট খাতে যাকাত বন্টন করতে হয়। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে যাকাতের বর্ণনা, খাত ও ফযিলত সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো। যাকাত শব্দের অর্থ শুচিতা ও পবিত্রতা, শুদ্ধি ও বৃদ্ধি।

পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরিয়ত নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ কুরআনে বর্ণিত আট প্রকারের কোন এক প্রকার লোক অথবা প্রত্যেককে দান করে মালিক বানিয়ে দেয়াকে যাকাত বলে। অপর বর্ণনায় এসেছে, কোন অসচ্ছল গরীব মুসলমানকে বা মুসলমানদেরকে কোন প্রকার বিনিময় ও শর্ত ছাড়া যে সকল মালের উপর যাকাত প্রযোজ্য ঐ মালের (বর্তমান বাজারের বিক্রয় মূল্যের) চল্লিশ ভাগের এক অংশের মালিক বানানো। (আদ্দুরুল মুখতার ২:২৫৬)। 

যাকাত সম্পর্কে পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লাহ  তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু কর’। (সূরা বাক্বারা: আয়াত: ৪৩)। আল্লাহপক আরো বলেন,‘যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎ কাজ করেছে, নামায প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যাকাত প্রদান করেছে, তাদের জন্য পুরস্কার তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে। তাদের কোন ভয় নাই এবং তারা দুঃখিত হবে না ’। (সুরা বাক্বারা: আয়াত: ২৭৭)।

তিনি আরো বলেন, ‘আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভুত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও। যে দিন জাহান্নামের অগ্নিতে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দ্বারা তাদের ললাট,পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে, সেদিন বলা হবে এটাই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভুত করতে। সুতরাং তোমরা যা পুঞ্জীভুত করেছিলে তা আস্বাদন কর। (সূরা তাওবা: আয়াত: ৩৪-৩৫)। উল্লেখ্য যে, ইসলামী বিশ্বকোষ এর ভাষ্যমতে, আল-কুরআনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৮২ বার যাকাতের কথা বলা হয়েছে। আল-কুরআনে প্রত্যক্ষভাবে ৩২ বার যাকাত এর কথা বলেছেন। এর মধ্যে নামায ও যাকাতের কথা একত্রে বলেছেন ২৮ বার। ফুয়াদ আব্দুল বাকী বর্ণনা করেছেন, আল-কুরআনে মোট ১৯টি সুরায় ২৯টি আয়াতে যাকাত শব্দটির উল্লেখ দেখা যায়।

পবিত্র সহীহ সুন্নাহয় যাকাত সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা এসেছে। প্রবন্ধে সামান্য কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করা হলো, আবি আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে ওমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী (সা:) থেকে শুনেছি যে, ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। এতে সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত রাসুল, নামায প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত দেয়া, শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে হজ্জ্ব করা এবং রমযান মাসে রোযা রাখা’। (বুখারী ও মুসলিম)।

আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ যাকে ধন-মাল দিয়েছেন, সে যদি তার যাকাত আদায় না করে, তা হলে কিয়ামতের দিন তা একটি বিশধর অজগরের যার দুচোখের উপর দুটো কালো চি‎হ্ন রয়েছে রূপ ধারণ করবে। বলবে, আমিই তোমার ধন-মাল, আমিই তোমার সঞ্চয়। অত:পর রাসূল (সা.) এর আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন, আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে, তাদের জন্য এটা মঙ্গল, এটা যেন তারা মনে না করে। না এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যাতে তারা কৃপণতা করবে কিয়ামতের দিন সেটাই তাদের গলায় বেড়ী হবে। আসমান ও জমিনের স্বত্বাধিকারী একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত আছেন (সূরা আলে ইমরান: ১৮০) । (নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সোনা রূপার (নিসাব পরিমাণ) মালিক হবে অথচ তার হক (যাকাত) আদায় করবে না তার জন্য কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন (তা দিয়ে) আগুনের পাত বানানো হবে। এগুলোকে জাহান্নামের আগুনে এমনভাবে গরম করা হবে যেন তা আগুনেরই পাত। সে পাত দিয়ে তার পাঁজর, কপাল ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। তারপর এ পাত পৃথক করা হবে। আবার আগুনে উত্তপ্ত করে তার শরীরে লাগানো হবে। আর লাগানোর সময়ের মেয়াদ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। (এ অবস্থা চলবে) বান্দার (জান্নাত জাহান্নামের) ফায়সালা হওয়া পর্যন্ত। তারপর তাকে নেয়া হবে জান্নাত অথবা জাহান্নামে। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! উটের বিষয়টি (যাকাত না দেবার পরিণাম) কি? 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উটের মালিক যদি এর হক (যাকাত) আদায় না করে- যেদিন উটকে পানি খাওয়ানো হবে সেদিন তাকে দুহানোও তার একটা হক- কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তিকে সমতল ভূমিতে উটের সামনে মুখের উপর উপুড় করে। তার সবগুলো উট গুণে গুণে (আনা হবে) মোটা তাজা একটি বাচ্চাও কম হবে না। এসব উট মালিককে নিজেদের পায়ের নীচে ফেলে পিষতে থাকবে, দাঁত দিয়ে কামড়াবে। এ উটগুলো চলে গেলে, আবার আর একদল উট আসবে। যেদিন এমন ঘটবে, সে দিনের মেয়াদ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। এমনকি বান্দার হিসাব-নিকাশ শেষ হয়ে যাবে। তারপর ঐ ব্যক্তি জান্নাত অথবা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হবে। 

সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! গরু-ছাগলের যাকাত আদায় না করলে (মালিকদের) কি অবস্থা হবে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি গরু-ছাগলের মালিক হয়ে এর হক (যাকাত) আদায় করে না কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন তাকে সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলা হবে। তার সব গরু ও ছাগলকে (ওখানে আনা হবে) একটুও কম-বেশি হবে না। গরু-ছাগলের শিং বাঁকা কিংবা ভঙ্গ হবে না। শিং ছাড়াও কোনটা হবে না। এসব গরু ছাগল শিং দিয়ে মালিককে গুতো মারতে থাকবে, খুর দিয়ে পিষবে। এভাবে একদলের পর আর একদল আসবে। এ সময়ের মেয়াদও হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। এর মধ্যে বান্দার হিসাব-নিকাশ হয়ে যাবে। তারপর ঐ ব্যক্তি জান্নাত অথবা জাহান্নামে তার গন্তব্য দেখতে পাবে।

সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! ঘোড়ার অবস্থা কি হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঘোড়া তিন প্রকারের। প্রথমতঃ যা মানুষের জন্য গুনাহের কারণ হয়। দ্বিতীয়তঃ যা মানুষের জন্য পর্দা। আর তৃতীয়তঃ মানুষের জন্য সাওয়াবের কারণ। গুনাহের কারণ ঘোড়া হলো ঐ মালিকের, যেগুলোকে সে মুসলিমদের ওপর তার গৌরব, অহংকার ও শৌর্যবীর্য দেখাবার জন্য পালন করে। আর যেগুলো মালিক-এর জন্য পর্দা হবে, সেগুলো ঐ ঘোড়া, যে সবের ঘোড়ার মালিক আল্লাহর পথে লালন পালন করে। সেগুলোর পিঠ ও গর্দানের ব্যাপারে আল্লাহর হক ভুলে যায় না। মানুষের জন্য সাওয়াবের কারণ ঘোড়া ব্যক্তির যে মালিক আল্লাহর পথের মুসলিমদের জন্য তা’ পালে। এদেরকে সবুজ মাঠে রাখে। এসব ঘোড়া যখন আসে ও চারণ ভূমিতে সবুজ ঘাস খায়, তখন ওই (ঘাসের সংখ্যার সমান) সাওয়াব তার মালিক-এর জন্য লিখা হয়। এমনকি এদের গোবর ও পেশাবের পরিমাণও তার জন্য সাওয়াব হিসেবে লিখা হয়। সেই ঘোড়া রশি ছিঁড়ে যদি এক বা দু’টি ময়দান দৌড়ে ফিরে, তখন আল্লাহ তা‘আলা এদের কদমের চিহ্ন ও গোবরের (যা দৌড়াবার সময় করে) সমান সাওয়াব তার জন্য লিখে দেন। 

এসব ঘোড়াকে পানি পান করাবার জন্য নদীর কাছে নেয়া হয়, আর এরা নদী হতে পানি পান করে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা ঘোড়াগুলোর পান করা পানির পরিমাণ সাওয়াব ওই ব্যক্তির জন্য লিখে দেন। যদি মালিক-এর পানি পান করাবার ইচ্ছা নাও থাকে। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! গাধার ব্যাপারে কি হুকুম? তিনি বললেন গাধার ব্যাপারে আমার ওপর কোন হুকুম নাযিল হয়নি। সকল নেক কাজের ব্যাপারে এ আয়াতটিই যথেষ্ট ‘‘যে ব্যক্তি এক কণা পরিমাণ নেক ‘আমল করবে তা সে দেখতে পাবে। আর যে ব্যক্তি এক কণা পরিমাণ বদ ‘আমল করবে তাও সে দেখতে পাবে’’- (সূরাহ্ আয্ যিলযাল ৯৯: ৭-৮)। (সহীহ : মুসলিম ৯৮৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৪১৮, সহীহ আত্ তারগীব ৭৫৪, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৭২৯)।

আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, ‘সুদখোর, সুদদাতা, উহার সাক্ষী ও লেখক, উল্কি অংকনকারিণী এবং যে নারী উল্কি অংকন করায়, অভিশপ্ত ঐ ব্যক্তি যে যাকাত দিতে অস্বীকার করে, হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করানো হয়, এদের সকলের উপর আল­াহর অভিশাপ বা লা’নত ”। (আহমাদ ও নাসায়ী)।

সম্পদের পরিশুদ্ধি বা পবিত্রকরণঃ
হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেনঃ যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ¢। এটা শারী‘আতের একটি শক্তিশালী বিষয়। যে ব্যক্তি যাকাতের ফারযিয়্যাতকে অমান্য করবে সে কাফির হয়ে যাবে। যাকাতের লাগবী অর্থ বৃদ্ধি, বারাকাত ও পবিত্র করা। যাকাত আদায় করলে মাল বৃদ্ধি পায় ও মাল পবিত্র হয়। আর যাকাত আদায়কারী গুনাহ থেকে পবিত্র হয়। যাকাত পবিত্রতা অর্থে এসেছে সূরা কাহাফ: ৮১; সূরা মারিয়াম: ১৩। স্বতন্ত্রভাবে: সূরা আরাফ: ১৫৬; সূরা মুমিনুন: ৪; সূরা রুম: ৩৯; সূরা হা-মীম সাজদাহ: ৭। জাকাত সালাতের সঙ্গে- সূরা বাকারা: ৪৩, ৮৩, ১১০, ১৭৭, ২৭৭; সূরা নিসা: ৭৭, ১৬২; সূরা মায়িদা: ১২ ও ৫৫; সূরা তাওবা: ৫, ১১, ১৮ ও ৭১; সূরা মারিয়াম: ৩১ ও ৫৫; সূরা আম্বিয়া: ৭৩; সূরা হাজ: ৪১ ও ৭৮; সূরা নুর: ৩৭ ও ৫৬; সূরা নামল: ৩; সূরা লুকমান: ৪; সূরা আহজাব: ৩৩; সূরা মুজাদালা: ১৩; সূরা মুজাম্মিল: ৩০; সূরা বাইয়িনা: ৫ আয়াত সমুহে।

সম্পদের প্রবৃদ্ধিঃ
পৃথিবীতে সকল মানুষই চায় সম্পদের পরিবৃদ্ধি ঘটুক। মহান আল্লাহ বান্দাহদেও সম্পদেও পরিবৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির জন্য যাকাত এর ব্যবস্থা করেছেন। যাকাত আদায় করলে যাকাত দাতার সম্পদের প্রবৃদ্ধি হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহপাক বলেন, ‘আর তোমরা যে সূদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলতঃ আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে (তাই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগুণ সম্পদ প্রাপ্ত। (সূরা রূম: আয়াত: ৩৯)।

দারিদ্র দুরীকরণঃ
দারিদ্রতা সামাজিক অভিশাপ। নবী করিম (সা.) তাঁর জীবনব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত আরবদের তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর প্রবর্তিত অর্থব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল সমাজে সুষম, ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকরী জাকাতব্যবস্থা প্রচলনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যাকাত ইসলামের সেতু।’ (মুসলিম)।

ধনী লোকেরা তাদের ধনসম্পদের ৪০ ভাগের এক অংশ অসহায় দরিদ্রদের মধ্যে যাকাত বিতরণ করলে গরিব লোকেরা দারিদ্র্যের নিষ্ঠুর কশাঘাত থেকে মুক্তি পায়। ইসলামি বিধান অনুসারে যাকাত প্রদানের ফলে সমাজের ঋণগ্রস্থ গরিব-দুঃখী, অনাথ, বিধবা, বৃদ্ধ, রুগ্ন, পঙ্গু ও অক্ষম ব্যক্তিরা মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে অভাব মোচন করতে পারে। যাকাতের অর্থ অভাবী মানুষের হাতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বণ্টিত হয়ে তাদের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হয়। ধনী লোকেরা যদি ঠিকমতো যাকাত আদায় করে, তাহলে সমাজে কোনো অন্নহীন, বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন, শিক্ষাহীন দরিদ্র লোক থাকতে পারে না। যাকাতের সুষ্ঠু উশুল ও সুষম বণ্টনের মাধ্যমেই মুসলিম সমাজের দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব। যেমনভাবে পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘তাদের ধনসম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্থ ও বঞ্চিতের হক।’ (সূরা আল-জারিআত। আয়াত: ১৯)। আল্লাহপাক বলেন, ‘সাদকা বা জাকাত তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্থ, যাকাত আদায়কারী কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্তাকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণ ভারাক্রান্ত ব্যক্তিদের, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী ও মুসাফিরদের জন্য; এটা আল্লাহর বিধান।’ (সূরা আত-তাওবা: আয়াত: ৬০)।

পরিশেষে বলা যায়, কুরআন বর্ণিত পন্থায় সুষ্ঠভাবে যদি সমাজস্থিত সাময়িক কিংবা স্থায়ী অক্ষম ও কর্মক্ষম অভাবী লোকদের মাঝে যাকাত বিতরণ করা হয়, তাহলে সমাজ থেকে দারিদ্রতা দূরীভূত হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহপাক আমাদেরকে যাকাতের বিধানের উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক:
মুহাদ্দিস মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর,
নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদরাসা, সোনাপুর, নোয়াখালী

user
user
Ad
Ad