এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি...............
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনি আমাদের 'মাদার অব হিউম্যানিটি’, 'স্টার অব ইস্ট', ও ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’। আপনার মতো একজন 'স্টেট ম্যান' খ্যাত ডায়নামিক নেতৃত্বকে পেয়ে আমরা গর্বিত। তাই বাংলাদেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আপনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
আপনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সালাম/আদাব গ্রহণ করুন। আসন্ন ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নায্য প্রাপ্তি ও বৈষম্য নিরসনের জন্য একখানা খোলা চিঠি আপনার বরাবর পেশ করলাম। কোনরূপ ত্রুটি হলে মার্জনা করে দিবেন।
মাননীয় 'ভ্যাকসিন হিরো',
সারা বিশ্ব আজ করোনার জন্য হুমকির সম্মুখীন।পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় আপনার মেধাভিত্তিক গৃহীত পদক্ষেপ ও মহান আল্লাহর কৃপায় তুলনামূলক আমরা এখনো অনেক ভালো আছি। আপনার ডায়নামিক নেতৃত্বের বদৌলতে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশী হিসেবে আমরা সাহসী জাতির পরিচিতি লাভ করেছি। আপনার মানবতাবাদী পদক্ষেপের জন্য আপনাকে বাংলাদেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা আপনার পাশে আছি এবং আপনার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেও চলেছি। আমাদের বিশ্বাস, আপনার মাল্টিপ্রচেষ্টায় আমরা বিজয়ী হবো- ইনশা আল্লাহ।
মাননীয় 'মাদার অব হিউম্যানিটি’,
আপনার সদয় অবগতি ও সুবিবেচনার জন্য জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে জন্ম নেয়া প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণ করেছিলেন। কথা ছিল পরবর্তীতে মাধ্যমিক স্তর হবে সরকারিকরণ। কিন্তু সেই সুযোগ তাঁকে দেয়নি কতিপয় কুলাঙ্গাররা। সে কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা আজও নানাবিধ বঞ্চনার শিকার। পবিত্র রমজান চলছে। আবার লকডাউনেও আছি। করোনা মহামারীর দুঃসময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চরম আর্থিক ও সামাজিক কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তাদের পক্ষে নায্য অভাব ও অভিযোগের কথা বলার তেমন কেউ নেই। আবার অনেকে বেফাঁস কথা বলে শিক্ষকদেরকে বিভ্রান্তিতে রাখেন। তাই দীর্ঘ অপেক্ষার পর আপনাকে শিক্ষকদের ভরসা স্থল মেনে নিয়ে কিছু আরজ পেশ করতে চাই। এই খোলা চিঠিখানি আমাদের প্রাণের স্পন্দন।
বঙ্গপিতা শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্ব পরবর্তী সময়ে আপনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমপিওভুক্ত বে-সরকারি শিক্ষকরা (আন্দোলন ছাড়াই) জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছে; বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা প্রাপ্তির ব্যবস্থা হয়েছে; অনেক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়েছে। কিন্তু কেন জানি অদৃশ্য কারণে আমরা এখনো বৈষম্যের শিকার।
* যেখানে সরকারি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা বাড়িভাড়া পান মূল বেতনের ৪৫%। সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পায় মাত্র ১ হাজার টাকা।
* সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা চিকিৎসা ভাতা পান ১হাজার ৫শ টাকা। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পায় মাত্র ৫শ' টাকা।
* সরকারি চাকুরীজীবিরা উৎসবভাতা পান মূল বেতনের ১০০%। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পায় সেই ২০০৪ সালের ২২জানুয়ারি দেয়া ২৫% উৎসব ভাতা। দীর্ঘ ১৭ বছরেও এ উৎসব ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়নি।
* এছাড়াও সরকারি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা যাতায়াত ভাতা, শান্তি বিনোদনভাতা, ভ্রমণভাতা, স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণ, আবাসন সুবিধা, পেনশনসহ সরকারের দেয়া সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন।
আগামি ১৪ মে ঈদ উৎসব। শিক্ষা সেক্টরের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী যেখানে শতভাগ উৎসবভাতা ভোগ করেন, সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতনের ২৫ ভাগ উৎসব ভাতা দিয়ে স্বজনদের মুখে কিভাবে হাসি ফুটাবেন, তা বড়ই কষ্টদায়ক বিষয়। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রাপ্তির ন্যায্যতা তখনও ছিল। কিন্তু তখন অজ্ঞাত কারণে ২৫ভাগ উৎসব ভাতা বসিয়ে দিয়ে এই বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে। তখন থেকে শিক্ষকদের পক্ষে দাবি উত্থাপিত হলে বলা হয়ে থাকে, এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দরকার। কিন্তু এ অনুমোদনের দায়িত্ব কে নিবে, আর কোনদিন এর সুরাহা হবে, তা বোধগম্য হয় না।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের এই দেশে সবচেয়ে অবহেলিত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব যেখানে রাষ্ট্রের, যেখানে একই সিলেবাস, একই শিক্ষানীতি, একই শিক্ষাদান পদ্ধতি, একই পাবলিক পরীক্ষার সমদায়িত্বে কর্মরত থেকেও একই দেশে সরকারি-বেসরকারি বিভাজনে পীড়াদায়ক বৈষম্য থাকা মূল বিষয় হতে পারে না।
মহাত্মন 'স্টেট ম্যান',
আপনার হাত দিয়েই এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা এসব বৈষম্য নিরসনের সমাধান চায়। সকলেই চান মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হোক। সকল প্রাতিষ্ঠানিক আয় সরকারি কোষাগারে জমা হোক। এতে করে শহরের সাথে গ্রামের ব্যবধান ঘুচবে এবং শিক্ষকদের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। আর আপনি চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকবেন জাতি গড়ার কারিগরদের মণিকোঠায়। আর ঐতিহাসিক মুজিববর্ষে শতভাগ বোনাসের আনন্দ যেন স্মরণীয় হয়ে রয় বিশ্বাসের উঠানে।
দেশের স্বার্থে, কল্যাণের স্বার্থে, বাঙালি সত্ত্বার স্বার্থে মহান আল্লাহ যেন আপনাকে দীর্ঘায়ু দান করেন। আমীন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে,
আপনার বাধ্য ও বিশ্বস্ত,
মো. আতাউর রহমান,
সহ_সভাপতিঃ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, সিলেট।
আহবায়কঃ বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
- সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে ১২শ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে MS3 টেকনোলজি বিডি পরিবারের ঈদ শুভেচ্ছা
- এবার এফ-৩৫ জঙ্গি বিমানে ইরানি আঘাত
- শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের মোকাবিলা সম্ভব নয়: মুজতাবা খামেনেয়ী
- ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিণতির বিষয়ে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
- একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজান মাসই বন্ধ থাকছে মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা
- যুদ্ধ, বিভাজন ও অনিশ্চয়তা: বহুমুখী সংকটে ইসরায়েল
- পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
- হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
- বিজেপি-আরএসএসের বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় উইকিপিডিয়া
- আসামে তীব্র শীতের মধ্যেই ১৫০০ মুসলিম পরিবারের ঘর গুঁড়িয়ে দিল ভারত
- নুতন বই পেয়ে উচ্ছাসিত রাঙামাটির শিক্ষার্থীরা
- সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছেছে খালেদা জিয়ার মরদেহ
- আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
- শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান
- জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
- পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরশাসনের পতন
- তারেক রহমানের বহনকারী প্লেন নামল সিলেটে

