বই পড়ি, জীবন গড়ি
মোহাম্মদ কামরুল আনাম চৌধুরী:: বই পড়ি, জীবন গড়ি। প্রিয় জনকে বই উপহার দিন। বই হতে পারে শ্রেষ্ঠ উপহার। বই হচ্ছে আপনার সেরা বন্ধু। বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করুণ। কারণ বই মানসিক উদ্দীপনা বাড়াতে সাহায্য করে, স্ট্রেস কমায়, বই জ্ঞান বাড়াতে সাহায্য করে, শব্দভান্ডার বিস্তার করে, স্মৃতি উন্নয়ন ঘটায়, বিশ্লেষণাত্বক চিন্তার দক্ষতা বৃদ্ধি করে, চিন্তার উৎকর্ষতা ঘটায়, ভাল লেখার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, প্রশান্তি ও বিনোদন আনে মনে। তাই বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বইয়ের বিকল্প বই।
এ বছর ২৩ এপ্রিল ছিল বিশ্ব বই দিবস। নিরবে চলে গেছে বই দিবস। এ দিবস নিয়ে কোনো হইচই বা কোনো অনুষ্ঠানমালার খবরও পাওয়া যায়নি। তার কারণ অবশ্য আছে। বিশ্ব আজ করোনা নামক ভাইরাসে বিপর্যস্ত। তাই বই দিবস নিয়ে কোনো হইচই না থাকারই কথা। দেশের সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এক বছরেরও অধিক সময় ধরে। বই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বই পড়া, বই ছাপানো, বইয়ের কপিরাইট সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়ে জনসচেনতা বাড়ানো। তবে এই বছর (২০২১ খ্রিঃ) বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দিনটিও লকডাউনে আবদ্ধ। দিবসটি উপলক্ষে সরকারিভাবে আনুষ্ঠানিক কোন আয়োজনও ছিল না। বিশ্ব বই দিবস বা বিশ্ব গ্রন্থ দিবস বা বিশ্ব বই এবং কপিরাইট দিবস বা বইয়ের আন্তর্জাতিক দিবস হল পড়া, প্রকাশনা এবং কপিরাইট প্রচারের জন্য জাতিসংঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন (ইউনেস্কো) দ্বারা আয়োজিত একটি বার্ষিক দিবস।
২৩ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো প্রথমবারের মতো বিশ্ব বই দিবস উদযাপন করে। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর ২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘ দ্বারা ঘোষিত বিভিন্ন দিবসের মধ্যে অন্যতম অজ্ঞাত এবং অনুজ্জাপিত দিবস। গোটা পৃথিবীব্যাপী এইদিনটি খুব একটা উদযাপন করতে দেখা যায় না। তবে এই একটা দিন পালন না করলেও চলবে। কিন্তু বই পড়া বা বই অন্যের সঙ্গে বই ভাগ করা জারি থাক আজীবন। প্রতিটা দিন হয়ে উঠুক আপনার নিজস্ব বই দিবস। কারণ বই তো জীবনের কথাও বলে। তাই জীবন থেকে বই কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নয়। বিশ্ব বই দিবসের মূল ধারণাটি আসে স্পেনের লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেসের কাছ থেকে। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান স্পেনের আরেক বিখ্যাত লেখক মিগেল দে থের্ভান্তেস। আন্দ্রেস ছিলেন তার ভাবশিষ্য।
প্রিয় লেখক ও তার সৃষ্টিকে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৯২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে আন্দ্রেস নিজ দেশ স্পেনে পালন করা শুরু করেন বিশ্ব বই দিবস। এরপর দাবি ওঠে প্রতিবছরই দিবসটি পালন করার। অবশ্য সে দাবি তখন নজরে আসেনি কারোই। বহুদিন অপেক্ষা করতে হয় দিনটি বাস্তবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য। অবশেষে ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং পালন করতে শুরু করে। ২৩ এপ্রিল শুধুমাত্র বিশ্ব বই দিবসই নয়, শেক্সপিয়র, সত্যজিৎ রায়, ইনকা গার্সিলাসো ডে লা ভেগাসহ প্রমুখ খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের জন্ম ও প্রয়ান দিবসও। আর এ কারণেও ২৩ এপ্রিলকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।
মনিষীদের মতে নীচের দশটি কারণে প্রতিটি মানুষেরই নিয়মিত বই পড়া দরকার-
১. মানসিক উদ্দীপনা বাড়াতে- স্থবির মনের উদ্দীপনা বাড়াতে বইয়ের চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারেনা
২. স্ট্রেস কমানো- খুবই মানসিক চিন্তায় আছেন। সুন্দর একটি বই পড়া শুরু করুন। দেখবেন অবসাদ কমে যাচ্ছে
৩. জ্ঞান বাড়াতে- কথা একটাই বই হলো জ্ঞানের ভান্ডার
৪. শব্দভান্ডার বিস্তার- একমাত্র বই পড়ার মাধ্যমেই আপনি নতুন শব্দভান্ডারে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন
৫. স্মৃতি উন্নয়ন- বই আপনার স্মরণশক্তি বাড়াতে দারুন এক কার্যকরী ভূমিকা রাখে
৬. বিশ্লেষণাত্বক চিন্তার দক্ষতা- বই পড়ার মাধ্যমে আপনার যেকোনো একটা বিষয়ে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অথবা দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
৭. চিন্তার উৎকর্ষতা- শুধু যে আপনি ভালো বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অর্জন করবেন তা নয় বরং ভালো বই পাঠ চিন্তার উৎকর্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে
৮. ভাল লেখার ক্ষমতা- বই পড়লে শুদ্ধ করে, সুন্দর শব্দ চয়নে লিখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
৯. প্রশান্তি- মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে বই এর চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না
১০. বিনোদন- নির্জনতায় নিজের মতো করে শব্দহীন বিনোদন চান। নিজের মাঝে নির্মল পরিবেশের সুন্দর একটি আবহ তৈরি করতে চান। তবে বই, বই আর বই।
বই কিনে কেউ দেওলিয়া হয় না, আমিও হইনি। শুধু বই কেনা নয়, বই হয়ে উঠুক আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী। বই-ই আপনাকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতে পারে। বই পড়া আমার নেশা। যা আজও ঠিকে আছে। সেই নেশায় আজও আমি আচ্ছন্ন। সাহিত্যের প্রতি আমার দুর্বলতা সেই ছোট বেলা থেকেই। যদিও আমি সাহিত্যের ছাত্র নই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলাম। আর পরবর্তী সময়ে আমার পড়া লেখা অর্থনীতি নিয়ে, অনার্স মাস্টার্স অর্থনীতি বিষয়ে আর বর্তমানে আমি অধ্যাপনাও করছি অর্থনীতি বিষয়ে আর অর্থনীতিও আমার প্রিয় একটি বিষয়। কিন্তু অর্থনীতি নিয়ে পড়াশুনা করেও সাহিত্যের প্রতি এতটুকু প্রেম দুর্বলতা কমেনি। সেই ছোট কালের প্রেম সময়ের ব্যবধানে আরও বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।
সাহিত্যের প্রতি প্রেমের শুরু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মাধ্যমে তারপর শংকর, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, আশা পূর্ণাদেবী, বুদ্ধদেব বসু, সমরেশ বসু, কালকূট, তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব গুহ, জীবননান্দ দাশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নীরদ চন্দ্র চৌধুরী, শেকসপীয়র, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শক্তিপদ রাজগুরু, বিমল কর, বনফুল, নীহার রঞ্জন গুপ্ত, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আহসান হাবীব, সৈয়দ শামসুল হক, মহাদেব সাহা, ইমদাদুল হক মিলন, জাহানারা ইমাম, সেলিনা হোসেন, এম আর আখতার মুকুল, জহির রায়হান, কবির চৌধুরী, শাহরিয়ার কবির, লুৎফর রহমান রিটন, আনিসুল হক, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুন, নীলিমা ইব্রাহিম, হুমায়ুন আজাদ, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, নীল লোহিত, সত্যজিৎ রায়, অরুন্ধতী রায়, প্রফুল্ল রায়, চিরঞ্জীব সেন, সুবোদ ঘোষ, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, মৈত্রেয়ী দেবী, ফনিভূষন আচার্য, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, চানক্য সেন, ফালগুনী মুখোপাধ্যায়, বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, রমাপদ চৌধুরী, নিমাই ভট্টাচার্য।
এক সময় ভাবতাম জীবনে অনেক পড়া হয়েছে। কিন্তু এখন দেখি আসলে কিছুই পড়া হয়নি। এখনও বিশ্বের অনেক অনেক ভালো বই রয়ে গেছে আমার ধরা ছোয়ার বাহিরে। জানি না এ জীবনে এগুলো আর পড়তে পারবো কি না। অনেক বইয়ের নাম পর্যন্ত ভুলে গেছি। কিন্তু কিছু কিছু বই এখনও মনের মধ্যে দাগ কেটে আছে। অসম্ভব অসম্ভব ভালো লাগা সেই বই গুলো এখনও আমাকে আনন্দ দেয়, ভালো লাগা দেয়, আমাকে সঙ্গ দেয়। মন খারাপ হলে আমি এই সব ভালো লাগার বই গুলো নেড়ে চেড়ে দেখি। আবারও পড়তে থাকি। প্রায় প্রতিটি বই আমার নিজের টাকায় কেনা। কিছু বই অবশ্য গিফট হিসাবে পাওয়া যা আমার মোট বইয়ের তুলনায় খুবই সামান্য। স্কুল জীবন থেকে নিজে বই কিনে পড়ার অভ্যাস তৈরি হয় আমার, যা আজও ঠিকে আছে। অসম্ভব অসম্ভব ভালো লাগা সেই বই গুলোর মধ্যে প্রথমেই বলতে হয় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের দূরবীন, যাও পাখি ও নবীগঞ্জের দৈত, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব পশ্চিম, একা এবং কয়েক জন, সেই সময়, ছবির দেশে কবিতার দেশে, মেঘ বৃষ্টি আলো।
সমরেশ মজুমদারের গর্ভধারিনী, উত্তরাধিকার, কালবেলা। সমরেশ বসুর প্রজাপতি। শংকর এর একদিন হঠাৎ। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ঃ এস এম সুলতান স্মারক গ্রন্থ। জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি। যারা এখনও জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ পড়েননি তাদেরকে বলবো এখনই এই বইটি সংগ্রহ করে পড়েন। আমি বলছি ভালো লাগবে। অসাধারণ একটি বই। ভালো লাগার বই। পড়তে পড়তে একদিকে মনে হবে আপনি মনে হয় কোনো উপন্যাস পড়ছেন। অথচ বাস্তব ঘটনা লেখক ফুটিয়ে তোলেছেন কত দক্ষতার সাথে, সফলতার সাথে। সেই সময়, ১৯৭১ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা। একদিকে ইতিহাস আর ইতিহাসের সরল সহজ বর্ণনা। আপনাকে নিয়ে যাবে সেই সময় ১৯৭১ সালে। আর অবশ্যই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়তে হবে আপনাকে। বিশ্ব বই দিবসে লেখক, পাঠক, মুদ্রাকর, ছাপাকর্মী, বইয়ের বিপণনকারী এক কথায় বইয়ের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে বিশ্ব বই দিবসের শুভেচ্ছা। বই পড়ি, জীবন গড়ি।।
লেখক::সেক্রেটারি, কলেজ শিক্ষক পরিষদ, সিলেট।
Email: kamrulanam2007@gmail.com.
- সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে ১২শ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে MS3 টেকনোলজি বিডি পরিবারের ঈদ শুভেচ্ছা
- এবার এফ-৩৫ জঙ্গি বিমানে ইরানি আঘাত
- শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের মোকাবিলা সম্ভব নয়: মুজতাবা খামেনেয়ী
- ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিণতির বিষয়ে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
- একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজান মাসই বন্ধ থাকছে মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা
- যুদ্ধ, বিভাজন ও অনিশ্চয়তা: বহুমুখী সংকটে ইসরায়েল
- পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
- হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
- বিজেপি-আরএসএসের বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় উইকিপিডিয়া
- আসামে তীব্র শীতের মধ্যেই ১৫০০ মুসলিম পরিবারের ঘর গুঁড়িয়ে দিল ভারত
- নুতন বই পেয়ে উচ্ছাসিত রাঙামাটির শিক্ষার্থীরা
- সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছেছে খালেদা জিয়ার মরদেহ
- আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
- শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান
- জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
- পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরশাসনের পতন
- তারেক রহমানের বহনকারী প্লেন নামল সিলেটে

