`

করোনা প্রতিরোধের এ কঠিন সময়ে আমাদের সর্টকাট প্রচেষ্টা

  • Views: 488
  • Share:
এপ্রিল ২৮, ২০২১ ২৩:৪৮ Asia/Dhaka

অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন :: বর্তমান সময়ে আমরা অনেকটা আশংকা, বিভ্রান্তি ও তালগোলের মধ্যেই বিরাজ করছি। একদিকে পাইপ লাইনে টিকা নেই, হসপিটালে জায়গা নেই এবং করোনায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় যে অক্সিজেন ভ্যান্টিলেশন যা শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য আবশ্যিক, তাও সবার জন্য available নয় বরং নতুন নতুন সংকটের আশংকা।এমতাবস্থায় প্রতিরোধাত্বক সতর্কতা ও সর্টকাট পথে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করাই হচ্ছে আমাদের অন্যতম কাজ।

আমরা জানি যে পরিমিত খাবার-দাবার, পুষ্টি, ভিটামিন যেমন  সি,ডি,এ, ই,বি বা বিকমপ্লেক্স ও জিংক, ক্যালসিয়াম,পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সহ নানা  মিনারেল তথা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার গ্রহণ করা একান্তভাবে প্রয়োজন, তবে এটা একটি জটিল আয়োজন ও সামর্থের বিষয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, প্রতিদিন ৩০ মিনিট যে কোনো সাধারণ ব্যয়াম করা, গায়ে ৩০ মিনিট রোদ লাগানো এরকম কিছু কিছু বিষয় আমাদের কাছে সহজ হলেও, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যে সম্বিত পুষ্টি, ভিটামিন ও মিনারেল প্রয়োজন, যেমন ভিটামিন ডি, সি, ই, বি-৩, ইত্যাদি কোন খাদ্যে কোথায় কি পরিমাণ আছে তার হিসাব মেলানো বর্তমান সময়ে একটি কঠিন কাজ । কাজেই সহজ উপায় হিসেবে আপাতত এ সংকটকালীন সময়ে প্রতিদিন বড়রা ২০ মিলিগ্রামের একটি জিংক টেবলেট, আর ছোট মানুষ হলে ১০ মিলিগ্রামের একটি, দুই বেলা ২টি ভিটামিন সি বা সিভিট, ক্যালসিয়াম+ডি, একটি টেবলেট, আয়রন, বি-৩ ও মাল্টি-ভিটামিন মিনারেল টেবলেট প্রভৃতি আপানার দৈহিক চাহিদা অনুযায়ী এভাবে কিছু দিন গ্রহণ করে এবং গ্যাপ দিয়ে আবারও গ্রহণ করতে পারবেন।

এভাবেই এ সংকটকালীন সময়ে সহজ উপায়ে ভালো থাকার চেষ্টা করা যেতে পারে এবং এগুলো দামেও খুব বেশি নয়। আর বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য একান্ত প্রয়োজন, কারণ বয়স্কদের ভিটামিন ও মিনারেল যেমন, ভিটামিন সি, ডি ও জিংক ইত্যাদির প্রায়ই ঘাটতি থাকে। এছাড়া জানা প্রয়োজন যে, কিছু ভিটামিন কেন প্রয়োজন? যেমন বি-৩।

আমাদের ফুসফুসের কোষগুলোকে বিভিন্ন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে ফুসফুসের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর করোনা ভাইরাসের অন্যতম আক্রমণের জায়গায় হচ্ছে এ ফুসফুস। কাজেই এ ভিটামিন বি- ৩, দৈনিক ১৫/১৬ মিলিগ্রাম হিসেবে টেবলেট আকারে গ্রহণ করা যেতে পারে।

কোভিড-১৯ হচ্ছে আরএনএ পরিবারভুক্ত। তার মানে হচ্ছে এ ১৯ ভাইরাস তার আরএনএ পলিমারেজ এনজাইম দ্বারা আমাদের ভেরো ই-৬ নামক কোষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোষকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোষ  বিভাজন বা বংশবৃদ্ধি শুরু করে । জিংক এ কোষ বিভাজনে বাঁধা প্রদান করে । কাজেই জিংক এ সময়ে একটি প্রয়োজনীয় সুপার মিনারেল। এভাবে আয়রন আমাদের অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এভাবে ভিটামিন ডি ও সি আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে নানা সহায়ক  কাজগুলো করে । অতএব এ সংকটকালীন সময়ে নানা খদ্যদ্রব্যের পরিমিত হিসাব নিকাশ না মিলিয়ে আমরা যারা সাধারণ মানুষ সর্টকাট উপায়ে আপাতত বাঁচতে চাই । তারা এগুলোর ঘাটতি মনে করলে টেবলেট আকারে কিছু দিন গ্রহণ করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে একজন সাধারণ চিকিৎসকেরও পরামর্শ নিতে পারেন । সহজকথায় আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হচ্ছে বেশ কিছু পুষ্টি, ভিটামিন বা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও মিনারেল এর সম্বিত আবস্হা যা আমাদের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করে । এতএব , থাকুন সুস্থ, বাঁচুন শতবছর । 
লেখকঃ
মোঃ জহির উদ্দিন,
অধ্যক্ষ, শাহ নিমাত্রা এস.এফ. ডিগ্রী কলেজ, ফুলতলা, জুড়ি

user
user
Ad
Ad