`

স্বপ্নময় ব্যাটিং, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস রচনার হাতছানি

বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৪১০ রান
  • Views: 859
  • Share:
এপ্রিল ২২, ২০২১ ১৫:১৯ Asia/Dhaka

স্পোর্টস ডেস্ক:: রীতিমতো স্বপ্নময় ব্যাটিং করছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। ম্যারাথন জুটি ভাঙার জন্য যারপরনাই চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন লংকান বোলাররা। তাতে কাজ হচ্ছিল না কোনো। প্রথম সেশনে ৭৬ রান যোগ করল এ জুটি।

১২৬ রান নিয়ে নামা শান্ত আজ ১৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন মুমিনুলের সেঞ্চুরির পরই। টাইগার সমর্থকদের আশা ছিল এবার মিশন ডাবল সেঞ্চুরি। কিন্তু তা আর হলো না। আর মাত্র ১৩ রান যোগ করে থামল শান্তর ব্যাট। ১২৪তম ওভারে শান্তকে নিজের ফিরতি বলে ক্যাচে পরিণত করেন লাহিরু কুমারা।

২৪২ রানের জুটি ভাঙে। ৩৭৮ বল খেলে ১৬৩ রান করে আউট হলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস তার এটি। এর আগে তার সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল ৭১ রানের, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছেন শান্ত প্রথম দিনেই।  ৫০ ছুঁয়েছিলেন ১২০ বলে। সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে লাগে ২৩৫ বল।

গতকাল তামিমের সমান ৯০ রানে পৌঁছেন ১৯৭ বলে।  নার্ভাস নাইনটিতে পৌঁছে আরও সতর্ক হন। পরের ১০ রান করতে তার লাগে ৩৮ বল।  ধনাঞ্জয়াকে চমৎকার কাভার ড্রাইভে চার মেরে নাজমুল পৌঁছে যান শতরানে। ২৮৮ বলে ১২৬ রানে অপরাজিত থেকে দিনশেষ করেন তিনি।

আজ দ্বিতীয় দিনে মুমিনুলের সঙ্গী হয়ে আরও যোগ করলেন ৩৭ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে তার ইনিংসগুলো ছিল-২৫, ০, ৪ ও ১১ রানের।  ৬ টেস্ট শেষে গড় মাত্র ২১.৯০।   ৭ম টেস্টের এক ইনিংসেই তিনি যোগ করলেন ১৬৩ রান, যা তার গড়কে অনেক বাড়িয়ে দিল।

শান্তর অনবদ্য ইনিংসের সমাপ্তির পর ব্যাট হাতে নেমেছেন মি. ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম।  জুটি বেঁধেছেন অধিনায়কের সঙ্গে।  ইতোমধ্যে ১৬ রান যোগ করেছে মুমিনুল-মুশফিক জুটি।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ  ৩ উইকেটে ৪১০ রান। ২৮২ বল খেলে ১১৯ রানে অপরাজিত মুমিনুল। অন্যপ্রান্তে ৩৪ বল মোকাবিলায় ১৮ রান সংগ্রহ করেছেন মুশফিক।

প্রথম দিন যখন নেমেছিলেন, তখন রান পাহাড়ে উঠার চেষ্টায় রত বাংলাদেশ। তামিম-শান্তর ১৪৪ রানের জুটির ওপর দাড়িঁয়ে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মিনি’কে। অধিনায়কের চওড়া ব্যাট স্বস্তি দিয়েছে শান্তকেও। ফলাফল দেড়শ রানের অপরাজিত জুটিতে শেষ হয় প্রথম ৯০ ওভার।

দ্বিতীয় দিনে, নতুন বলে কিছুটা সুবিধা পায় লঙ্কানরা। কিন্তু নিজের চিন্তায় অটল ছিলেন মুমিনুল। ফলাফল, ভালো বল ছেড়েছেন আর বাজে বল মেরেছেন সপাটে। যত সময় গড়িয়েছে, অপেক্ষা বেড়েছে সবার। খরা কেটেছে মিনি’র। ৭ অর্ধশতকের পর, দেখা পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম বিদেশি শতকের।

টেস্টে চলে গেছে ১০০ ওভার। অথচ বাংলাদেশের উইকেটের ঘরে সংখ্যাটা মাত্র ৩। বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেট সমর্থকদের অনেকের কাছে বিষয়টা নতুন হলেও, টাইগার ক্রিকেটে যে ঘটনাটা মোটেও প্রথম নয়।  ২০০৩ এ পাকিস্তানের পেশোয়ারে হাবিবুল বাশার সুমন, জাভেদ ওমর এবং আশরাফুলের কৃতিত্বে শেষবার এমন স্বপ্নের দিন পার করেছিল টাইগাররা।

user
user
Ad
Ad