`

মাহে রমজান : সিয়াম সাধনা ও তাকওয়া অর্জন

  • Views: 981
  • Share:
এপ্রিল ১৬, ২০২১ ০১:১২ Asia/Dhaka

মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর:: আলহামদুলিল্লাহ, বছর ঘুরে আবার এসেছে মাহে রমজান। মাহে রমজান আরবী মাস। আরবী মাসগুলোর সেরা মাস। এ মাস মুসলিম বিশ্বে সিয়াম সাধনার মাস, কুরআন নাযিলের মাস, রহমত নাযিলের মাস, বরকত নাযিলের মাস, মাগফেরাতের মাস, শবে কদরের মাস, ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে বিজয়ের মাস, সহমর্মিতা ও আত্ম সংযমের মাস হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের যে কোন প্রান্তের মুসলিম সম্প্রদায় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের মধ্য দিয়ে সিয়াম সাধনা পালন করেন।

মাহে রমজান বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্ম পালনে নবরূপে উজ্জিবিত করে। তারা সকল ভেদাভেদ ভুলে মসজিদে মসজিদে একই কাতারে সারি সারি দাঁড়ায়, মহান আল্লাহপাকের সামনে নিজেদের মস্তক অবনত করার মধ্য দিয়ে তাঁকে সিজদা করে। সারা দিন রোজা পালন শেষে ইফতার করে। গরিব মিসকিনদের সামর্থ অনুযায়ী দান সদকা করে। পরম আনন্দে ও উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে সদলবলে তারাবিহ এর নামাযে শামিল হয়। দীর্ঘক্ষণ দাাঁড়িয়ে খতম তারাবিহ কিংবা সুরা তারাবিহ পড়ে যে যার গন্তব্যে ছুটে যায়। ভোর রাতে মুয়াজ্জিন কিংবা মুরব্বিরদের ‘সেহরির সময় হয়েছে’ ডাকে সাড়া দিয়ে বরকতপূর্ণ সেহরী খেয়ে রোজা রাখার শপথ গ্রহণ করে। সারাদিন একমাত্র মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করার নিমিত্তে সর্বপ্রকার পানাহার, স্ত্রীর সাথে স্বামী সূলভ আচরণ বাদ দিয়ে সংযম পালনে ব্রতী হয়।

মাহে রমজানের ফযিলতঃ পবিত্র মাহে রমজানে সিয়াম সাধনার রয়েছে বিরাট ফযিলত। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার বিষয়ে ইরশাদ করেনঃ  ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি; যাতে তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বনকারী (মুত্তাকী) হতে পার। (সূরা বাকারা: আয়াত: ১৮৩)। আল্লাহপাক আরো বলেন, ‘রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সুপথ প্রাপ্তির সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর হক্ব-বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী। সুতরাং তোমাদের যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন অবশ্যই এর রোযা রাখে।’ (সূরা বাকারা: আয়াত: ১৮৫)।

পবিত্র হাদিস শরীফে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের রোযার ফযিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদিস বর্ণনা করা হলো। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: ‘যখন রমযান মাসের আগমন ঘটল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমযান এসেছে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এ মাসের রোযা ফরয করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শিকলে বন্দী করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে তো প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত। (মুসনাদে আহমদ ৭১৪৮; সুনানে নাসায়ী ২৪১৬; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৮৩৮৩; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৮৯৫৯)।

 হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবপ্রাপ্তির আশা নিয়ে রমযানের রোযা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।  (সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম: হাদিস: ৭৫৯)।

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ তাআলার কসম! মুসলমানদের জন্য রমযানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমযান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমাদ ৮৩৬৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৮৯৬৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা ১৮৮৪; তবারানী হাদীস ৯০০৪; বাইহাকী শুআবুল ঈমান ৩৩৩৫)।

হযরত কা’ব ইবনে উজরা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমরা মিম্বরের নিকট সমবেত হও। আমরা সকলেই সেখানে উপস্থিত হলাম। যখন তিনি মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলেন, তখন বললেন, আমীন, যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন, যখন তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন,আমীন। হযরত কা’ব ইবনে উজরা রা. বলেন, যখন তিনি (মিম্বর থেকে) অবতরণ করলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আজ আমরা (মিম্বরে উঠার সময়) আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। উত্তরে তিনি বললেন, জিব্রাইল (আ.) আমার নিকট আগমনকরেছিলেন, যখন আমি প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমযান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ হল না। আমি বললাম, আমীন।যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলাম তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যার নিকট আপনার নাম উচ্চারিত হল অথচ সে আপনার প্রতি দরূদ পড়ল না। আমি বললাম আমীন। যখন তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে বৃদ্ধ পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল অথচ তারা উভয়কে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। অর্থাৎ তাদের খেদমতের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতবাসী করতে পারল না। আমি বললাম, আমীন। (মুসতাদরাকে হাকেম: ৭৩৩৮;মাযমাউয যাওয়াইদ: ১৭৩১৭)।

রাসুল (সা.) বলেন, যখন রমযান মাসের প্রথম রাতের আগমন ঘটে, তখন দুষ্ট জ্বিন ও শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তার একটি দরজাও খোলা হয় না এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, তার একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষক ঘোষণাকরতে থাকে “হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের প্রার্থী! থেমে যাও।” আর আল্লাহ তাআলা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দান করেন। (জামে তিরমিযী:হাদিস: ৬৮২; বাইহাকী শুয়াবুল ঈমান: হাদিস: ৩৬০১; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৪২; মুসতাদরাকে হাকেম: ১৫৭২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৮৯৬০)।

অপর বর্ণনায় রাসুল (সা.) বলেন, জান্নাতে একটি দরজা আছে, যার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে কেবল রোযাদার ব্যক্তিরাই প্রবেশ করবে। অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে - কোথায় সেই সৌভাগ্যবান রোযাদারগণ? তখন তারা উঠে দাড়াবে। তারা ব্যতীত কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। অতঃপর রোযাদারগণ যখন প্রবেশ করবে, তখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।ফলে কেউ ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী: ১৮৯৬; সহীহ মুসলিম: ১১৫২; মুসনাদে আহমদ: ২২৮১৮)।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, যখন রমযান মাসের আগমন ঘটল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমযান এসেছে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এ মাসের রোযা ফরয করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শিকলে বন্দী করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে তো প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত। (মুসনাদে আহমদ: ৭১৪৮; সুনানে নাসায়ী: ২৪১৬; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক: ৮৩৮৩; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৮৯৫৯)। 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,  রোযা ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে রব! আমি তাকে খাদ্য ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি। অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, (অর্থাৎ না ঘুমিয়ে সে তেলাওয়াত করেছে) অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতঃপর তাদের উভয়কে সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (মুসনাদে আহমদ: হাদীস: ৬৬২৬; মুসতাদরাকে হাকিম: হাদীস: ২০৮০; বাইহাকী শুয়াবুল ঈমান: হাদ: ১৯৯৪)।

হযরত আমর ইবনে মুররা আলজুহানী (রা.) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে এসে বললো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি যদি একথার সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং অবশ্যই আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করি, যাকাত প্রদান করি, রমযান মাসের সিয়াম ও কিয়াম (তারাবীহসহ অন্যান্য নফল) আদায় করি তাহলে আমি কাদের দলভুক্ত হব? তিনি বললেন, সিদ্দীকীন ও শহীদগণের দলভুক্ত হবে। (মুসনাদে বাযযার: ২৫; সহীহ ইবনে খুযাইমা: ২২১২; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৩৪২৯)।

সিয়াম সাধনাঃ রমজান মাসে সিয়াম সাধনাই আসল উদ্দেশ্য। কেননা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রমজান মাসকে কেবল সিয়াম সাধনার জন্য নির্ধারণ করেছেন। সিয়াম পালন এমন একটি ইবাদাত যেটির প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহপাক নিজ হাতেই দিবেন। হাদীসে কুদসীতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, বনী আদমের সকল আমল তার জন্য, অবশ্য রোযার কথা আলাদা, কেননা রোযা আমার জন্য এবং আমিই এর পুরস্কার দিব।’’ (সহীহ বুখারী: হাদীস: ১৮০৫, ৫৫৮৩ ও সহীহ মুসলিম: হাদীস: ২৭৬০)।

রোজাদারের জন্য রোজা শাফায়াত করবেঃ উত্তম সনদে ইমাম আহমাদ ও হাকেম বর্ণনা করেন যে, রোযাদারের জন্য রোযা শাফায়াত করবেঃ উত্তম সনদে ইমাম আহমাদ ও হাকেম বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন বলেছেন, ‘‘রোজা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য শাফায়াত করবে। রোজা বলবে, হে রব! আমি তাকে দিবসে পানাহার ও কামনা চারিতার্থ করা থেকে নিবৃত্ত রেখেছি। অতএব, তার ব্যাপারে আমাকে শাফায়াত করার অনুমতি দিন।’’ (মুসনাদ আহমদ: হাদীস: ৬৬২৬, আল-মুস্তাদরাক: হাদীস: ২০৩৬)।
রোযা জাহান্নামের অগ্নি থেকে মুক্তিলাভের ঢালঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বৎসরের দূরত্বে নিয়ে যান।’ (সহীহ বুখারী: হাদীস: ২৬৮৫ ও সহীহ মুসলিম: হাদীস: ২৭৬৭ )।
তাকওয়া অর্জনঃ সিয়াম সাধনার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া তথা আল্লাহকে সকল অবস্থায় স্মরণ করা, তাঁকে ভয় করা। সকল ইবাদাতের জন্য তাকওয়া প্রধান শর্ত। কেননা তাকওয়া বিহীন ইবাদাত আসলে ইবাদাত নয় বরং সেটি কেবল মাত্র লৌকিকতা। মহান আল্লাহপাক লৌকিকতা পরিহার করে কেবল তাঁরই ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন। তাকওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। যে ব্যক্তির মধ্যে তাকওয়া থাকে তাকে মুত্তাকি বলা হয়। সৎ গুণাবলির মধ্যে তাকওয়া হচ্ছে অন্যতম। যার মধ্যে তাকওয়া থাকে সে পার্থিব জীবনের লোভে কোনো খারাপ কাজ করে না এবং পরকালীন জীবনের কল্যাণ ও মঙ্গলের কাজে সব সময় নিজেকে নিয়োজিত রাখে। সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজেকে শিরক, কবিরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজকর্ম-কথাবার্তা থেকে বিরত রাখে তাকে মুত্তাকি বলা হয়। তাকওয়া মানব চরিত্রের অন্যতম সম্পদ। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের মূল ভিত্তি হচ্ছে তাকওয়া। ব্যক্তিগত ও জাতীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবনযাপনের চালিকাশক্তি হচ্ছে তাকওয়া। মানব জীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর। (সূরা আলে ইমরান: আয়াত: ১০২)।
আরও ইরশাদ হয়েছে- এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর মনে রেখ, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন। (সূরা বাকারা: আয়াত: ১৯৪)। তাকওয়া আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা লাভ করার উপায়। কোরআন মাজিদে এরশাদ হয়েছে- নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন। (সূরা তাওবা: আয়াত: ৪)।

তাকওয়া প্রসঙ্গে রসুল (সা.) থেকে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুল (সা.) কে প্রশ্ন করা হলো, ইয়া রসুলুল্লাহ মানুষের মধ্যে অধিক সম্মানিত কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে অধিক মুত্তাকি বা পরহেজগার। (বুখারি ও মুসলিম)।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রসুল (সা.) আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করতেন, হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা এসব গুণ দান করুন। (সহিহ মুসলিম)। 

পরিশেষে বলা যায়, পবিত্র মাহে রমজানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাকওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়ে তা ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তাবায়ন করা। সংযমের প্রশিক্ষন থেকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করে প্রভূত কল্যাণ হাসিল করা। মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা যথাযথভাবে পালন করে অগণিত সাওয়াব ও মহান আল্লাহ প্রদত্ত পুরস্কার হাসিলের তাওফিক দান করুন। আমীন।
লেখকঃ মুহাদ্দিস, নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদরাসা, সোনাপুর, নোয়াখালী।

user
user
Ad
Ad