`
জালালাবাদ২৪.কম কর্তৃক আয়োজিত "স্কুল-কলেজ এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০২১: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক" আলোচনা সভায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ

শতভাগ উৎসব ভাতা ও বেসরকারি শিক্ষকদের বৈষম্য নিরসনের দাবী

  • Views: 55828
  • Share:
এপ্রিল ৯, ২০২১ ২১:২৯ Asia/Dhaka

স্টাফ রিপোর্ট:: নতুন প্রস্তাবিত এমপিও নীতিমালা-২০২১ এ এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বোনাস এর বিষয় স্পর্ষ্ঠীকরণসহ শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) সিলেট জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। "স্কুল-কলেজ এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০২১: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক" আলোচনায় অংশ নিয়ে শতভাগ বোনাস দাবি করে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাস দীর্ঘ ১৭ বছরেও পরিবর্তন হয়নি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জালালাবাদ২৪.কম নিউজপোর্টালের হলরুমে "স্কুল-কলেজ এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০২১: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক" আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এ দাবি জানান। বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশ উল্লেখ করে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় পেশাজীবি শ্রেণী এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনও নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সকল সুযোগ সুবিধা প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দাবী জানান। স্কেলভিত্তিক পূর্ণ বাড়ি ভাড়া, দেড় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, স্কেলভিত্তিক উৎসব বোনাস, স্কেলভিত্তিক বেতন নির্ধারণ, ধারাবাহিক পদোন্নতি ও বদলির ব্যবস্থা, প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষকের স্কেল ৬ষ্ঠ ও ৭ম গ্রেডে উন্নীতকরণ, বিভাগীয় ভাতা ব্যবস্থা, পূর্ণ অবসর ভাতাসহ মাসিক পেনশন, শিক্ষার্থীদের স্বল্প খরচের সুযোগ, শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা চালু করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানান।    

বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার উল্লেখ করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলার সভাপতি মো. মামুন আহমদ বলেন, ‘সংশোধিত এ নীতিমালায় উৎসব ভাতার প্রসঙ্গটি আনা হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়া হয়নি শতভাগ বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে। এখন শতভাগ বোনাস দিতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করতে হবে। অথচ সামনেই ঈদ। সভাপতি মামুন আহমদ আরো বলেন, আমরা শিক্ষকরা আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় আসন্ন ঈদের পূর্বেই আমরা শতভাগ ঈদ বোনাস নিয়ে ঈদ উদযাপন করবো। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট মহানগরের সভাপতি ও স্কাউটস সিলেট মেট্রোঃ জেলার কমিশনার মো. আব্দুল মুমিত বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে সরকারি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলে শতভাগ বেতন প্রদান, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, নববর্ষ ভাতা প্রদান করা হয়েছে। অনেক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু উৎসব ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত আছেন এটিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দীর্ঘ ১৭ বৎসরেও এই উৎসব ভাতার পরিমাণ আর বৃদ্ধি করা হয়নি। শিক্ষকগণ অত্যন্ত যৌক্তিকভাবেই এই উৎসব ভাতা শতভাগ প্রদানের দাবি করে আসছেন বারবার। সর্বশেষ সবার ধারণা ছিলো এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে শতভাগ উৎসব ভাতা। কিন্তু তা হয়নি! সরকারি শিক্ষকগণ শতভাগ উৎসব ভাতা পাবেন অথচ একই দায়িত্ব পালনকারী বেসরকারি শিক্ষকগণ পাবেন সিকিভাগ, এটি কোনো যুক্তিতেই মেনে নেয়া যায় না। 

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলার সাধারন সম্পাদক শমশের আলী বলেন, নতুন প্রস্তাবিত এমপিও নীতিমালা-২০২১ অনেক ভালো দিক আছে কিন্তু বোনাসের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকায় আমরা শিক্ষকরা হতাশ। সাধারন সম্পাদক শমশের আলী প্রত্যাশা করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় আসন্ন ঈদের পূর্বেই আমরা শতভাগ ঈদ বোনাস নিয়ে ঈদ উদযাপন করবো। 

বর্তমান বাজারে শুধুমাত্র এমপিওর সামান্য টাকা দিয়ে একজন শিক্ষকের সংসার চালানো কোনভাবেই সম্ভব নয়। উপরন্তু গত এক বছর যাবত বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষকগণ প্রতিষ্ঠান থেকে তেমন কিছুই পাচ্ছেন না। বোনাস পাওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। যারা সরকারি নিয়ম মেনে প্রাইভেট টিউশনি করতেন তারাও টিউশনি করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় আসন্ন ঈদে যদি শিক্ষকদের শতভাগ বোনাস দেয়া না হয় তাহলে- ঈদ অর্থ আনন্দ সেটি আর তাদের কাছে সত্য থাকবে না বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট মহানগরের সাধারন সম্পাদক ফয়সল আহমদ। 

সম্পাদকীয় বক্তব্যে মো: ইয়াহইয়া বলেন, মোট ৪৪ পাতার নীতিমালায় সহকারী শিক্ষকদের সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ ছিল না। সরকারি স্কুলের সঙ্গে কিছুটা মিল রেখে সেটি করা হয়েছে, এটি একটি ভালো দিক। সহকারী শিক্ষকরা যোগদানের পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড ডিগ্রি অর্জন করলে ১০ম গ্রেডে বেতন পাবেন। ১০ম গ্রেডপ্রাপ্তির ১০বছর পূর্তিতে তারা সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাবেন। সিনিয়র শিক্ষকরা পাবেন ৯ম গ্রেড। এছাড়া স্কুল ও কলেজে কর্মরত গ্রন্থাগারিক, সহকারী গ্রন্থাগারিক ও ক্যাটালগারদের শিক্ষকের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এটিও একটি ভালো দিক।

কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছর থেকে বেতনহীন অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি নিয়ে নীতিমালায় কিছুই বলা হয়নি। উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ) প্রভাষকরা হবেন সিনিয়র প্রভাষক। যদিও তাদের বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক বলা হয়। তবে সিনিয়র প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বেতন স্কেল একই থাকবে, এ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। 

user
user
Ad
Ad