`

টিকা ও ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট

  • Views: 986
  • Share:
এপ্রিল ৬, ২০২১ ১২:৫৩ Asia/Dhaka

জহির উদ্দিন:: ভাইরাসের মিউটেশন বা পরিবর্তন ঘটা একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া । এ স্বাভাবিক মিউটেশন হাজার হাজার ঘটলেও তেমন কোনো নতুন মারাত্বক সমস্যার সৃষ্টি হয় না । কিন্তু দু একটি ব্যতীক্রমধর্মী বা অস্বাভাবিক মিউটেশন ঘটলেই নতুন করে বাড়তি সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্সিং হচ্ছে এটাকে জানার উপায় । যেমন , ভারতে সাত হাজারেরও বেশি মিউটেশন ঘটলেও, যে দুটি উচ্চতর নতুন মিউটেন্ট পাওয়া গেছে (এন-৪৪০কে এবং ই-৪৮৪ কিউ) কেবল তাতেই নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং এ ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ব্যাতীক্রমধর্মী যে তিনটি মিউটেন্ট পাওয়া গেছে, এগুলোই বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশ সহ এখন পর্যন্ত প্রায় শ'খানেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যা আগের ভাইরাসের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৭০ গুণ বেশি সংক্রমক ও তীব্র ক্ষমতা সম্পন্ন এবং যা সকল বয়সী মানুষের জন্যই ঝুকিপূর্ণ।

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ভয়ানক বি্১.১.৭ (201/501y.V.1)  ভেরিয়েন্টটি যা আমেরিকায়ও সনাক্ত হয় তা তার স্পাইকের এস প্রোটিনে ২৩ টি রুপান্তর ঘটিয়ে নতুন আকার ধারণ করে এবং ব্রাজিলেও এরকম পি. ১ ধরনটির এস প্রোটিনের তিনটিসহ ১৭ টির মতো নতুন আকারের মিউটেশন ঘটায়। ভাইরাস তার বাইরের স্পাইক আমাদের দেহের কোষের বাইর বা পৃষ্ঠভাগে ব্যবহার করে কোষের মধ্যে প্রবেশ করে রেপ্লিকেশন বা বংশবৃদ্ধি ঘটায়। 

কাজেই তার স্পাইকের আকার বা ডিজাইনে পরিবর্তন হওয়াতেই আমাদের অ্যান্টিবডি তাকে চিন্তে না পারায়  নতুন করে এ সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ পর্যন্ত  প্রকাশ না করেও ভিতরে ভিতরে অঙ্গ -প্রত্যঙ্গকে অকার্যকর করতে থাকে এবং একটা সংকটাপন্ন অবস্থায় গিয়ে উপসর্গ প্রকাশ করে যা অত্যন্ত ভয়ানক । কিন্তু আমাদের অ্যান্টিবডি তাকে প্রতিরোধ করতে পারলে ভাইরাস অকার্যকর হয়ে পড়ে। 

আমাদের বডির এন্টিভাইরাল সক্ষমতা সবার সমান বা পর্যাপ্ত থাকে না । কাজেই নতুন অতিমারী ভাইরাসের জন্য টিকা আবিষ্কারের  প্রয়োজন হয় । করোনা ভাইরাসেরও অনেকগুলো টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে এবং অনেক দেশেই এগুলো প্রয়োগও হচ্ছে। লন্ডন ও আমেরিকার প্রায় ৬০% মানুষকে এ পর্যন্ত পুশ করা হয়ে গেছে। কিন্তু বিভিন্ন  টিকায় তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি এ নতুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে কি না বা কতটা সময় কার্যকর থাকবে  ইত্যাদি প্রশ্ন দেখা দিলেও দেখা যায় যে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকহারে টিকা প্রয়োগের পর উভয় দেশেই রোগটি নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে । 

তবে মার্ডানার তৈরি টিকা নতুনটির বিরুদ্ধে ভালো কাজ করছে বলে জানা যাচ্ছে। নতুন ভ্যারিয়েন্টের ভাইরাসের এস প্রোটিনের গঠনে ব্যাতীক্রম হওয়াতে অ্যান্টিবডির টি-সেল বা মেমোরি সেল এ নতুন ভাইরাসের আকার বা রুপ পরিবর্তন করাতে সৃষ্ট অ্যান্টিবডি এদেরকে চিহ্নিত বা আইডেন্টিফাই করতে পারছেনা বলেই প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 নতুন মিউটেন্টের এ ভাইরাসের স্পাইকের প্রোটিনের গঠন তথা ডিজাইনে পরিবর্তন হওয়াতে এন্টিবডি তাকে চিন্তে ব্যার্থ হচ্ছে। কাজেই আক্রান্তের সমস্যাও  নতুন করে ব্যাপক আকারে দেখা দেয়ার কারণ বলেই এটাকে মনে করা হচ্ছে । এজন্যই টিকা  মডিফিাইড না হওয়া পর্যন্ত বা নতুন টিকা না আসা পর্যন্ত আমরা অনেকটা দ্বিধদন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে । কাজেই একদিকে পূর্বের বিধি নিষেধসহ মাস্কের ব্যাবহার ও হাত ধোয়ার বিষয়টি  সতর্কতার সাথে পালন করার বিকল্প কোনো উপায় যেমন  আপাতত নেই, তেমনি টিকারও বিকল্প আপাতত নেই । কেননা, নানা প্রশ্ন থাকার পরও যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে পোনে তিন কোটির মতো মানুষকে এ পর্যন্ত টিকার আওতায় আনতে সক্ষম হওয়াতে রোগটি নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে । 

কাজেই বুঝা যাচ্ছে, যে যাই বলুক না কেন, টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে । এ ছাড়া গত জানুয়ারীতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগ (সিডিসি) মাস্কের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেন যে, যথাযথ ও সঠিক প্রক্রিয়ায় দুটি সাধারণ মাস্কের ডাবল ব্যবহারও  প্রায় ৯০% পর্যন্ত ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সক্ষম । কাজেই ভাইরাস নতুন, পুরাতন যাই হোক না কেন,  এ রোগের অবসানে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে একদিকে টিকা গ্রহণ যেমন প্রয়োজন, তেমনি মাস্কের ব্যবহারও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

মোঃ জহির উদ্দিন
অধ্যক্ষ, 
শাহ নিমাত্রা এস.এফ. ডিগ্রী কলেজ, ফুলতলা, জুড়ি

user
user
Ad
Ad