`

পৌরসভা নির্বাচনঃ আওয়ামী লীগের জয়জয়কার

  • Views: 540
  • Share:
এপ্রিল ২, ২০২১ ২২:০১ Asia/Dhaka

মোহাম্মদ কামরুল আনাম চৌধুরী :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ সহ প্রতিটি নির্বাচন ও উপনির্বাচনে চলছে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। নৌকা মার্কার জয়জয়কার। আর বিএনপির ভরাডুবি। বিএনপির পরাজয়। ধানের শীষের পরাজয়। ধানের শীষের ভরাডুবি।

এবারের পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় পাচ ধাপে। পৌরসভা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। প্রথম ধাপে ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ অনুষ্ঠিত হয় ২৪ পৌরসভার নির্বাচন। সব কটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হয়। ২৪টির মধ্যে ১৯টিতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হন। দুটিতে বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থী। তিনটিতে জয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ১২টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জামানত হারান। 
 
১৬ জানুয়ারি ২০২১ অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচন। এ ধাপে ৪৫টিতে নৌকা মার্কার প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হন। বিএনপির মাত্র ৪জন মেয়র নির্বাচিত হন। তৃতীয় ধাপ নির্বাচন হয় ৩১ জানুয়ারি। ৬১টি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা পেয়েছেন আট লাখ ৩১ হাজার ৩৬৯ ভোট। আর বিএনপি প্রাথীরা পেয়েছেন ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯১১ ভোট। ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ ধাপের নির্বাচন। চতুর্থ ধাপের ৫৪টি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি। চতুর্থ ধাপে দেশের ৫৪ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়জয়কার। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ৪৬টি পৌরসভায়। বিএনপি মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন চার পৌরসভায়, যাদের তিনটি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।
 
সাতক্ষীরা পৌরসভায় শুধু বিএনপির তাজকিন আহমেদ চিশতি বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের যারা বিজয়ী হয়েছেন- ঠাকুরগাওয়ে আঞ্জুমান আরা বেগম, রানীশৈংকলে মোস্তাফিজুর রহমান, পাটগ্রামে রাশেদুল ইসলাম সুইট, জয়পুরহাটের কালাইয়ে রাবেয়া সুলতানা, চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সৈয়দ মনিরুল ইসলাম, রাজশাহীর তানোরে ইমরুল হক, তাহেরপুরে আবুল কালাম আজাদ, নাটোরের বড়াইগ্রামে মাজেদুল বারী নয়ন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে রফিকুল ইসলাম, আলমডাঙ্গায় হাসান কাদির গনু, যশোরের চৌগাছায় নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল, বাঘারপাড়ায় কামরুজ্জামান বা”চু, বাগেরহাটে খান হাবিবুর রহমান, ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিমাই চন্দ্র সরকার, সিলেটের কানাইঘাটে লুৎফুর রহমান, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সাইফুল আলম রুবেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তাকজিল খলিফা কাজল, কুমিল্লার হোমনায় অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, দাউন্দকান্দিতে নাঈম ইউসুফ শেখ, চাদপুরের কচুয়ায় নাজমুল আলম স্বপন. ফরিদগঞ্জে আবুল খায়ের পাটোয়ারী, নোয়াখালীর চাটখিলে মো. নিজামউদ্দিন বিপুল, সোনাইমুড়িতে নুরুল হক চৌধুরী, লক্ষীপুরের রামগতিতে এম মেজবাহউদ্দিন মিজু, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মো. জোবায়ের (বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায়), চন্দনাইশে মাহবুবুল আলম খোকা, পটিয়ায় আইয়ুব বাবুল, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় শামসুল হক, বান্দরবান সদরে মোহাম্মদ ইসলাম বেবী, রাঙামাটি সদরে আকবর হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, বরিশালের বানারীপাড়ায় সুভাষ চন্দ্র শীল, মুলাদীতে শফি উজ জামান রুবেল, শেরপুর সদরে মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া লিটন, শ্রীবরদিতে মোহাম্মদ আলী লাল, টাঙ্গাইলের গোপালপুরে রকিবুল হক ছানা, কালিহাতীতে নুরন্নবী সরকার, ময়মনসিংহের ফুলপুরে শশধর সেন, কিশোরগঞ্জের বাজতপুরে আনোয়ার হোসেন, করিমগঞ্জে মোসলেমউদ্দিন, হোসেনপুরে আব্দুল কাইয়ুম খোকন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নজরুল ইসলাম মÐল, নরসিংদীর মধাবদীতে মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক, মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমে আব্দুস সালাম, নেত্রোকোনা সদরে নজরুল ইসলাম খান। এবং জামালপুরের মেলান্দহে শফিক জায়েদী রবিন। 
 
স্বতন্ত্র যারা নির্বাচিত হয়েছেন- ময়মনসিংহের ত্রিশালে আনিছুজ্জামান আনিছ, লালমনিরহাটে রেজাউল করিম স্বপন, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মনিরুল ইসলাম বাবু, রাজবাড়ী সদরে আলমগীর শেখ।
 
২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম ধাপের পৌর নির্বাচন। ২৩০টি পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল হতে দেখা যায় আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে ১৮৫টি, বিএনপি মাত্র ১১টি, স্বতন্ত্র ৩২টি, জাতীয় পার্টি ১টি এবং জাসদ ১টি। নির্বাচনে আর এখন জৌলুস নেই। নেই উৎসাহ উদ্দীপনা। নেই উৎসব। অবশ্য এখন নির্বাচনে আর সহিংসতাও নেই। প্রতিদ্বন্ধী নেই, তেমন প্রতিযোগিতাও নেই। একতরফা নির্বাচন বলা যায়। তবে সরকার দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী মাঝে মধ্যে ভোটের মাঠে কিছুটা হলেও উত্তাপ ছড়ান। এই বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে নির্বাচন করার আর হয়ত প্রয়োজনই পড়ত না বেশির ভাগ নির্বাচনী এলাকায়। বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসতেন বেশির ভাগ চেয়ারম্যান, মেম্বার, কাউন্সিলর ও মেয়র। অন্তত নির্বাচন হ”েছ এসব দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কল্যাণে। বিশেষ করে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এ অব¯’া চলে আসছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, পৌর নির্বাচন ও জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন গুলোতে। শঙ্কা নিয়েই পঞ্চম ধাপের ভোট কাল(২৮-০২-২০২১)। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পঞ্চম ধাপে ২৯টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে। প্রচারের শেষ দিনে বিভিন্ন  আচরণবিধি লঙ্গনের অভিযোগ। এ ধাপে সব পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হবে। 
 
এ ধাপের নির্বাচনী লড়াইয়ে মেয়র পদে রয়েছেন ১০০ জন প্রার্থী, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৬৬ এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ১৩১৮ জন প্রার্থী। এছাড়াও চার উপজেলায় উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণও হবে। শেষ মুহূর্তের প্রচারে উৎসবমুখর পাড়া-মহল্লা। বিএনপি প্রার্থীকে প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ। মেয়র পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস। মক ভোটিংয়ে/অনুশীলন ভোট মেলেনি সাড়া। হবিগঞ্জে নৌকার জয় হলে উন্নয়নের দায়িত্ব নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই হচ্ছে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার খবর।
 
রাজশাহীর চারঘাট, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও বারইয়ারহাট, ময়মনসিংহের নান্দাইল, যশোরের কেশবপুর, হবিগঞ্জ পৌরসভায় ভোট হতে যাচ্ছে এ ধাপে। শেষ ধাপেও আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। নৌকা ২৭, ধানের শীষ ১ ও স্বতন্ত্র ১ এই হলো পঞ্চম বা শেষ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল। বিএনপি একমাত্র বগুড়া পৌরসভায় জয় পেয়েছে। এছাড়া রংপুরের হারাগাছ পৌরসভায় স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী এরশাদুল হক বিজয়ী হয়েছেন। একই সময়ে অনুষ্ঠিত চারটি উপজেলার উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সব ক’টিতেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন- ঝিনাইদহের শৈলকূপায় শেফলী বেগম, কুমিল্লার দেবীদ্বারে আবুল কালাম আজাদ, ফরিদপুরের মধুখালীতে শহিদুল ইসলাম ও রাজশাহীর পবায় ইয়াসিন আলী। এ ছাড়া পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের যারা বিজয়ী হয়েছেন-
পৌরনির্বাচনঃ পঞ্চম ধাপঃ ২৮-০২-২০২১
 
১ রেজাউল করিম  চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট
২ মো. গিয়াসউদ্দিন (বিনা প্রতিদ্বন্দিতায়)
চট্টগ্রামের মিরসরাই
৩ আশরাফুল আলম 
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে
৪ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান 
 ভোলা
৫ মো. মোরশেদ 
চরফ্যাসন
৬ গিয়াস উদ্দিন রুবেল 
লক্ষীপুরের রায়পুর 
৭ নায়ার কবির 
বাহ্মণবাড়িয়া
৮ আবু নাঈম বাশার
মানিকগঞ্জের সিংগাইর 
৯ রফিকুল ইসলাম মোড়ল 
যশোরের কেশবপুর 
১০ তোফাজ্জল হোসেন 
রাজশাহীর দুর্গাপুর
১১ এনামুল হক 
চারঘাট
১২ আব্দুর রশিদ খান:
ঝিনাইদহের মহেশপুর
১৩ শাহজাহান সিকদার:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া
১৪ ইফতেখার হোসেন বেনু 
কিশোরগঞ্জের ভৈরব
১৫ সানোয়ার হোসেন সানু
জামালপুর
১৬ মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির 
মাদারগঞ্জ
১৭ আব্দুল কাদের শেখ 
ইসলামপুর
১৮ রফিক উদ্দিন ভূইয়া 
ময়মনসিংহের নান্দাইলে 
১৯ এসএম রবীন হোসেন 
গাজীপুরের কালীগঞ্জ
২০ আব্দুর রশিদ খান
চাপাইনবাবগঞ্জের নাচোল
২১ মোস্তাফিজুর রহমান 
জয়পুরহাটে
২২ আব্দুল লতিফ 
চাদপুরের শাহরাস্তিতে
২৩ আওলাদ হোসেন লিটন 
মতলব
২৪ খালিদ হোসেন ইয়াদ 
মাদারীপুর
২৫ আওলাদ খান
শিবচর
২৬ আতাউর রহমান 
হবিগঞ্জ
২৭ রাফিকা জাহান আক্তার বেবি:
নীলফামারীর সৈয়দপুর

 

অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বর্জনের কারণে ভোটারদের আগ্রহ কম দেখা গেছে গতবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ না করায় এবারের উপজেলা নির্বাচন ছিল অনেকটা একতরফা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল যেখানে ৮০ শতাংশ সেখানে উপজেলায় ভোটার উপস্থিতি মাত্র ৪০ দশমিক ২২ শতাংশ। ভোটার খরায় গতবার জৌলুস হারিয়েছে পাচ ধাপের উপজেলা নির্বাচন। তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে সরকার দলীয় অনেক নেতা পাতি নেতা বিদ্রোহ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে উপজেলা নির্বাচনে দাড়িয়ে গেছেন। অবশ্য বিষয়টি এমন হওয়ার কথা নয়। যিনি দীর্ঘ দিন থেকে একটি দলের হয়ে কাজ করছেন তিনি শুধু মাত্র দলের টিকেট না পাওয়ার কারণে দলের সাথে বিদ্রোহ করবেন, এটা কোনো আদর্শিক রাজনীতি হতে পারে না। যিনি শুধু মাত্র দলীয় টিকেট না পাওয়ার কারণে দলের সাথে এরকম আচরণ করতে পারলেন, তিনি নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করবেন না তা কিভাবে এলাকার মানুষ বিশ্বাস করবে। দলের সদস্য দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্ত ব্যক্তি স্বার্থে অন্ধ হয়ে একজন লোক যখন দলের নীতি আদর্শের বিপরীতে গিয়ে দাড়ায় তখন আর যাই হোক ঐ লোক গুলোকে নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তার আছে। গতবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে সরকার দলীয় অনেক প্রার্থী দলের নমিনেশন না পেয়ে বিদ্রোহ করে নৌকা প্রতীকের বিপরীতে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। 

যদিও এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু তার পরও প্রশ্ন থেকে যায়? তাহলে কি এত দিন তিনি রাজনীতি করেছেন শুধু মাত্র দলের নমিনেশন পাওয়ার জন্যই? এতে করে দলের শৃঙ্খলাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই দলের শৃঙ্খলা ঠিক রাখার জন্য দলের হাই কমান্ড থেকে বার বার সতর্ক করা হচ্ছে, দল থেকে বহিষ্কার করার কথা বলা হয়েছে এবং কঠোর হস্তে দমনের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু‘ কার কথা কে শুনে। 
 
গতবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যেভাবে সরকার দলীয় থেকে একক প্রার্থী আছে, কোনো কোনো উপজেলায় মাত্র এক জন প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, আবার তার বিপরীত চিত্রও দেখা যায় অর্থাৎ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী হিসাবে নির্বাচন করছেন এমন অনেক সরকার দলীয় নেতা। তাই গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন একেক উপজেলায় একক রূপ ধারণ করছে। কোথাও নৌকার  দলেরই সাবেক কোন নেতা। আবার কোথাও ভিন্ন চিত্রও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তবে মোট কথা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে ঘরের আগুনকেই সামাল দিতে হয়েছে। বিদ্রোহই মূল মাথা ব্যাথার কারণ।
 
তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় মাথা ব্যাথাটা একটু কম আর কি। অবশ্য অনেক জায়গায় প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হওয়ার কারণেও দলে বিদ্রোহ ঘটতে পারে। এর আগে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা উপনির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে সরকার দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল মেয়র পদে জয়লাভ করেন। তারও আগে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচনে সরকার দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী পরাজিত করে, নিজে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাহলে দেখা গেলো পর পর দুই বারই গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সরকার দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হয়েছিলেন নিজ দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে। অবশ্য এবারের গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সরকার দলীয় নৌকা প্রতীকের একক প্রার্থী ছিলেন দলের উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী।
 
গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও এই উপজেলায় এবারে আর দলের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। কিš‘ বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গত বারের মতো এবারেও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিয়ানীবাজারে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আবুল কাশেম পল্লবকে পরাজিত করে দলের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা শাখার আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি আতাউর রহমান খান বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারেও দলীয় প্রার্থী হ”েছন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা শাখার আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান আর বিদ্রোহী প্রার্থী আবারও মোঃ আবুল কাশেম পল্লব ও মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তাই দেখা যায় বিয়ানীবাজারে গৃহবিবাদ রয়েই গেছে। ১৮ মার্চের নির্বাচনের পরই জানা যাবে কার গলায় বিজয়ের মালা উঠবে, দলের প্রার্থী না বিদ্রোহী প্রার্থীর, সময়ই বলে দিবে। তাই অপেক্ষা করতে হবে ১৮ মার্চ পর্যন্ত। আর সে অপেক্ষার পালাও শেষ হয়েছে। শেষ হাসি এখন বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আবুল কাশেম পল্লবের। এ উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কাশেম পল্লব। হেলিকপ্টার প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ৩২ হাজার ৮ শত ৯২ ভোট। 
 
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয় পাওয়া সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে গণফোরাম। তাই দেখা যায় বিদ্রোহ আর দলীয় নির্দেশ অমান্য করা যেন আমাদের রাজনীতির একটি বৈশিষ্ট হয়ে গেছে। এখানে বলে রাখি যে, বর্তমানে ¯’ানীয় পর্যায়ের নির্বাচন সিটি করপোরেশনের মেয়র, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দলীয় প্রতীকে হয়ে আসছে।  
 
কিন্তু বিএনপি এবারের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় ভাবে অংশ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হয়তো কোনো কোনো উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত কোনো প্রার্থী স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করতে পারেন। বলা যায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অনেকটা স্বতন্ত্র কৌশল গ্রহণ করেছে। তবে দলের হাইকমান্ড থেকে বলা হ”েছ যারা আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে সারাদেশে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া হুশিয়ারি উ”চারণ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি। কিš‘ দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে বিএনপির অনেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা পর্যন্ত দিয়েছেন। কিš‘ দলীয় সিদ্ধান্ত না থাকার কারণে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ ব্যবহার করতে পারবেন না। অংশ নি”েছ না ঐক্যফ্রন্টসহ সরকারবিরোধীরা। প্রতি উপজেলায় গড় প্রার্থী তিনজন। এটি আরও কমতে পারে। তাই তেমন প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে না আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও জয়পুরহাট সদর উপজেলায় একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখানের পর বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২৩-দলীয় জোট ও বাম গণতান্ত্রিক জোট। এবারের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া দলটির নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক ও মহাজোটের মিত্র দলগুলো অংশ নিয়েছে।
 
এদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লড়াইয়েও এবার তেমন প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি। একটি জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদন হতে দেখা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ৪ হাজার ৬৩ জন। প্রতি আসনে গড়ে প্রতিযোগী ছিলেন ১৩ জন। সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৩টি পদের জন্য ফরম নিয়েছিলেন ১ হাজার ৫১০ জন। প্রতি আসনে গড়ে প্রতিযোগী ৩৫ জন। অথচ ৪৮১টি উপজেলার জন্য চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন মাত্র ২ হাজার ৭৬ জন। প্রতি উপজেলায় গড়ে চারজন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনে এসে কতটুকু প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে পারবে এটাও একটা সন্ধেহের ব্যাপার। সুতরাং বলা যায় এবারের উপজেলা নির্বাচন অনেকটা একতরফাই হতে যাচ্ছে। এমন নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হবে না, কার্যকর উপজেলাও গড়া সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যে প্রথম ধাপের প্রায় দশটি আসনে একক প্রার্থী হওয়ায় ঐ সব উপজেলায় আর নির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে না। তৃতীয় ধাপেও বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় ১০ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে সাতজন এবং কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও কক্সবাজার জেলায় একজন করে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
 
বরিশাল জেলার ছয় উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিতরা হলেন- সদরে বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, গৌরনদীতে বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুন নাহার মেরী, আগৈলঝাড়ায় আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, বানারীপাড়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, বাকেরগঞ্জে বর্তমান চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু, মুলাদীতে বর্তমান চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম মিঠু। ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় সিদ্দিকুর রহমান, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় আছিয়া আলম, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় সৈয়দ জাবেদ হোসেন, মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলার মধ্যে চারটিতেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন সদরে ইসরাফিল হোসেন, সাটুরিয়ায় আবদুল মজিদ, হরিরামপুরে দেওয়ান সাঈদুর রহমান ও শিবালয়ে রেজাউর রহমান খান। এভাবে দেখা যাবে ৪৯২টি উপজেলার অনেকটি উপজেলায় বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় অনেক উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যাবেন যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।
 
 তবে সরকার দলীয় অনেক প্রার্থী দলীয় নমিনেশন না পেয়ে বিদ্রোহ করে স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচন করতে যা”েছন। এখন প্রতিযোগিতা হবে নিজ দলের লোকের সাথে। ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থী আভাসও দি”েছন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার। তবে লেখাটির ইতি টানছি ¯’ানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ এর বক্তব্য দিয়ে, এ প্রসঙ্গে ¯’ানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, “বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আ¯’া নেই। তাই প্রতিযোগিতা হবে না, এটি অনুমেয় ছিল। পরের চার ধাপের নির্বাচনে প্রার্থী আরও কমে যেতে পারে। আসলে একদল ছাড়া মাঠে আর কোনো দল থাকছে না।” কিš‘ দেশের মানুষ চায় অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যে নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটতে পারে। জনগণের ই”ছার প্রতিফলন দেখতে চায় দেশের মানুষ। সব দলের অংশ গ্রহণ নির্বাচনকে প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ করতে পারে। তাই সব দলের অংশ গ্রহণও গণতন্ত্রের জন্য শুভযাত্রা বয়ে আনে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় থেকে ¯’ানীয় প্রতিটি পর্যায়ে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশ গ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া খুবই জরুরী। আমরা আশা করি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্ব›দ্বীতা হবে দলীয় প্রার্থী বনাম বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। তবে প্রতিদ্ব›দ্বীতা যাদের মধ্যেই হোক না কেন, আমরা চাই নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ। আমরা দেখতে চাই দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
 
এটা শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, গণতন্ত্রের জন্যও বিপজ্জনক। ভোটারদের নির্বাচনবিমূখতা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন আগের যেকোনো  সময়ের তোলনায় অনেক শক্তিশালী। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ ১ম স্থান দখল করে আছে। এভাবে পাট রপ্তানিতে বাংলাদেশ ১ম, ফসলের জাত উদ্ভাবনে ১ম, পাট উৎপাদনে ২য়, তৈরি পোশাক ২য়, কাঠাল উৎপাদনে ২য়, ধান উৎপাদনে ৩য়, সবজী উৎপাদনে ৩য়, মাছ উৎপাদনে ৪র্থ, চাল উৎপাদনে ৪র্থ, ছাগল উৎপাদনে ৪র্থ, আলু উৎপাদনে ৭ম, আম উৎপাদনে ৭ম, পেয়ারা উৎপাদনে ৮ম, আউট সোর্সিং এ ৮ম, বাইসাইকেল রপ্তানিতে ৭ম এবং বৈদেশিক মুদ্রি আয়ে ৮ম স্থানে অবস্থানে করছে বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতার পরিচায়ক। 
 
বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২ শতক জমির মালিকানাসহ ঘর পেলেন ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। ২০১৯ সালে আবুধাবিতে স্পেশাল অলিম্পিকস ওয়ার্ল্ড গেমসে বাংলাদেশের ১৩৯ সদস্যের দল অংশগ্রহণ করে। গেমসে ২২টি সোনা, ১০টি রুপা এবং ৬টি ব্রোঞ্জ পদক জয় করে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এই গেমসে ১৮টি সোনা, ২২টি রুপা ও ১৮টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। স্পেশাল অলিম্পিকস এ বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ২১৬টি সোনা, ১০৯টি রুপা এবং ৮৪টি ব্রোঞ্জ পদক জিতে। 
 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি প্রতিবারই স্পেশাল অলিম্পিক গেমসে সাফল্য অর্জনকারীদের পুরষ্কার প্রদান করে থাকেন এবং গণভবনে নিজেই তাদের সংবর্ধিত করেন। তার সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও অটিজম নিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করছেন। রাষ্ট্রের সর্বো”চ পর্যায় থেকে এমন উৎসাহ ভবিষ্যতের স্পেশাল অলিম্পিকস ওর্য়াল্ড গেমসে বাংলাদেশকে আরও বিশাল বিজয়ের পথে এগিয়ে নিবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি স্বপ্ন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ যার ভিশন হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা প্রদান। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার দিন বদলের সনদ’ এ প্রথম ঘোষণা করা হয় যে ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরষ্কার’ অর্জন করেন। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ এক্ষেত্রে তার অনন্য কৃতিত্বের জন্য ২০১৬ সালে ‘উন্নয়নে আইসিটি পুরষ্কার’ অর্জন করেন।
 
বিগত এক দশকে দারিদ্র্য বিমোচনসহ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক অনুকরণীয় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জুন ২০১৯ পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতে সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ১৮ হাজার ৯৭৫ কি. মি. অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল , ২ হাজার ৪টি ইউনিয়নে ওয়াইফাই রাউটার (ডরভর-জড়ঁঃবৎ)  এবং ১ হাজার ৪৮৩টি ইউনিয়নকে নেটওয়ার্ক মনিটরিং সিস্টেমে সংযুক্ত করা হয়েছে। ই-কমার্স ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশের ফলে আইটি সেক্টরে বহুমানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে ও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে।
 
 ২০১০ সাল থেকে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে ই-সেবার সঙ্গে পরিচিতকরণের লক্ষ্যে প্রতিবছর ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামের মতে, নির্বাচনে যখনই অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট শেষ হওয়ার পর ইসির হাতে আর কোনো ক্ষমতা থাকে না। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের মতে, বর্তমান কমিশন নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থার যে ধস নামিয়েছে সে ক্ষত সারতে প্রচুর শ্রমের প্রয়োজন রয়েছে। আর সুজন, সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এর মতে, দেশের নির্বাচ্ন ব্যবস্থার পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন। এ জন্য জাতিকে অনেক বেশি মাশুল দিতে হবে। দেখা যাচ্ছে একদিকে দেশের অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী হচ্ছে, অপরদিকে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।   
                        
লেখকঃ 
মোহাম্মদ কামরুল আনাম চৌধুরী 
দপ্তর সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ, সিলেট জেলা।

user
user
Ad
Ad