আপনার রক্তচাপ জানুন, সুস্থ থাকুন
মোহাম্মদ কামরুল আনাম চৌধুরী:: জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস এর সংখ্যা একেবারেই কম নয়। বরং প্রতি মাসের কোন না কোন তারিখে বিভিন্ন ধরণের আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হচ্ছে। জানুয়ারী থেকে শুরু করে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসেই লেগে আছে এসব বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দিবস।
যেমন বর্ণ বৈষম্য বিরোধী দিবস, বিশ্ব পানি দিবস, বিশ্ব সাংবাদিকতা দিবস, আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস, বিশ্ব পরিবেশ দিবস, বিশ্ব মরুময়তা দিবস, মাদক বিরোধী দিবস, আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস, আন্তর্জাতিক আদিবাসি দিবস, আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর রক্ষা দিবস, বিশ্ব শান্তি দিবস, আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, বিশ্ব খাদ্য দিবস, আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য দূরীকরণ দিবস, জাতিসংঘ দিবস, বিশ্ব শিশু দিবস, আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক দূর্যোগ হ্রাস দিবস, আফ্রিকার শিল্পায়ন দিবস, আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস, মানবাধিকার দিবস, আন্তর্জাতিক জীব বৈচিত্র দিবস, বিশ্ব জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন দিবস, আন্তর্জাতিক শুল্ক দিবস, আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস, বিশ্ব ক্রেতা অধিকার দিবস, বিশ্ব বন দিবস, বিশ্ব আবহাওয়া দিবস, বিশ্ব নাট্য দিবস, কমনওয়েলথ দিবস, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস, বিশ্ব রেডক্রস দিবস, বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস, বিশ্ব ধুমপান মুক্ত দিবস, বিশ্ব ডায়াবেটিকস দিবস,বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস, হিরোশিমা দিবস, নাগাসাকি দিবস, বিশ্ব স্বাক্ষরতা দিবস, বিশ্ব নৌ দিবস, বিশ্ব পর্যটন দিবস, বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস, বিশ্ব সামুদ্রিক দিবস, বিশ্ব ডাক দিবস, বিশ্ব মান দিবস, বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবস. বিশ্ব তথ্য উন্নতকরণ দিবস, বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস, বিশ্ব এইডস দিবস, প্যালেস্টাইনীদের সাথে একাত্বতা দিবস, আন্তর্জাতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, শব্দ সচেতনতা দিবস প্রভৃতি। আর এরকমই একটি দিবস প্রতি বছর পালন করা হয় ১৭মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস।
আমাদের দেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ সিস্টোলিক ১২০ এবং ডায়াস্টোলিক ৮০। কোনো ব্যক্তির রক্তচাপ যখন নিয়মিত এই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি (সিস্টোলিক ১৪০, ডায়াস্টোলিক ৯০) থাকে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন(ঐুঢ়বৎঃবহংরড়হ) বলে। হাইপারটেনশন যার আরেক নাম উচ্চ রক্তচাপ হল একটি রোগ যখন কোন ব্যক্তির রক্তের চাপ সব সময়েই স্বাভাবিকের চেয়ে ঊর্ধ্বে থাকে। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ বা এর আশেপাশে থাকে, তাহলে তাকে লো ব্যাড প্রেশার হিসেবে ধরা হয়। যদিও বয়স নির্বিশেষে রক্তচাপ খানিকটা বেশি বা কম হতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের একটি বিশেষ কারণ। ওজন বেশি থাকলে দেশে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। রক্তনালিতে চর্বি জমা হয়ে রক্তনালিকে সংকুচিত করে। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দু একজন হয়তো উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছেন। আগে ধারণা করা হতো শুধু বয়স্ক ব্যক্তিরা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে প্রাপ্তবয়স্ক এবং কম বয়সীরাও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। উচ্চ রক্তচাপের কোনো কারণ সেভাবে এখনও জানা যায়নি।
তবে প্রাত্যহিক জীবনযাপনে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলাকে উচ্চ রক্তচাপের কারল হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। যেমন ঃ অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের অভাব, ধূমপান ও মদ্যপান ও কিছু শারীরিক সমস্যা, যেমন ঃ কিডনি রোগ, থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। এমন অনেকেই আছেন, যারা নিজেরাই জানেন না যে তারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তাই উক্ত উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে নীরব ঘাতক’ বলা হয়।
তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু কিছু অস্বস্তিকর অবস্থায় দেখা যেতে পারে। যেমনঃ মাথা ঘোরানো, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ও চিকিৎসাবিহীন উচ্চ রক্তচাপের কারণে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। আরও কিছু মারাত্মক জটিলতা হকে পারে। যেমন ঃ হৃৎপিন্ডের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়, হৃৎপিন্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, র্হ্টা অ্যাটাক হতে পারে, মস্তিস্কে রক্তের চাপ বেড়ে যায়, স্ট্রোক হতে পারে, কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, চোখের রেটিনাতে রক্তক্ষরণ হয়ে অন্ধত্ব হতে পারে। হঠাৎ যদি কারও রক্তচাপ খুব বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে মাথায় পানি দেওয়া হলে অথবা বরফ দেওয়া হলে রোগী কিছুটা স্বস্তি বোধ করতে পারেন। এ অবস্থায় রোগী যদি দাড়িয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই বসে অথবা শুয়ে পড়তে হবে। এবং তার বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ হলে অতিরিক্ত কোলেস্টরেল জাতীয় খাবার পরিহার করে ফলমূল শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
বিশ্বজুড়ে উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত এবং আরও অনেক দেশের মত বাংলাদেশেও বিপুল সংখ্যক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগে থাকেন। বাংলাদেশ জনমিতি স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৭-১৮ এর হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি চার জনের একজন উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগে থাকেন বিশ্বের প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ। আর এই সমস্যায় সারা বিশ্বে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ প্রতি বছর মারা যায়। প্রতি বছর ১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালন করা হয়। এ বছরও যথা সময়ে পালিত হবে আশা করা যায়। ১৭ মে-২০১৯ সালেও এদিবসটি পালিত হয়েছিল। সেবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল আপনার রক্তচাপ জানুন। আর ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক দিবস সঠিক নিয়মে পালন করা সম্ভব হয়নি। ৮ মার্চ ২০২০ সালে বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় যা এখনও অব্যাহত আছে। এবং ঐ বছরের ২৭ মার্চ থেকে লক ডাউন ঘোষণা করা হয়। অবশ্য লক ডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে অনেক আগেই। তাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক দিবস পালন করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। অনেক দিবস সংক্ষিপ্ত আকারে পালন করা হয়েছে। যাই হোক উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক যা আমরা অনেকেই জানিনা। তাই সচেতনতা বাড়াতে এদিবসটি বিশেষ ভুমিকা রাখবে। হৃদরোগ, ষ্ট্রোক এবং কিডনি রোগের জন্য উচ্চ রক্তচাপ একটা প্রধান কারণ।
অধিকাংশ সময় হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট কোন লক্ষণ এবং উপসর্গ থাকে না। উচ্চ রক্তচাপ-এর চিকিৎসা করা না হলে এটি মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করে। যেমন- হার্ট অ্যাটাক বা করোনারী হৃদরোগ, স্ট্রোক বা পক্ষাঘাত, স্মৃতিভ্রংশ, কিডনি বিকল, অন্ধত্ব ইত্যাদি। একজন স্বাস্থ্য কর্মী বা ডাক্তারের নিকট থেকে আপনার রক্তচাপ জানা যাবে। রক্তচাপ পরিমাপ করতে আপনার নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক ও এনসিডি কর্নার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ যে কোন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা যাবে।
উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে করণীয় হলো- ১) অতিরিক্ত ও পাতে আলগা লবণ খাওয়া যাবে না। ২) শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ৩) শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খেতে হবে। ৪) নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। ৫) নিয়মিত রক্তচাপ মাপতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে। ৬) রক্তে গøুকোজের মাত্রা নিয়মিত মাপতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে। ৭) তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহন থেকে বিরত থাকতে হবে। ৮) চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতীত ওষুধ পরিবর্তন বা সেবন বন্ধ করা যাবে না। তবে প্রতিরোধই হচ্ছে সর্বোত্তম। আশুন আমরা সতর্ক হই। উচ্চ রক্তচাপকে প্রতিরোধ করি। সুস্থ জীবন গড়ি।।
লেখক:
মোহাম্মদ কামরুল আনাম চৌধুরী,
প্রভাষক, সৈয়দ নবীব আলী ডিগ্রী কলেজ
ও
দপ্তর সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ, সিলেট জেলা।
- সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে ১২শ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে MS3 টেকনোলজি বিডি পরিবারের ঈদ শুভেচ্ছা
- এবার এফ-৩৫ জঙ্গি বিমানে ইরানি আঘাত
- শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের মোকাবিলা সম্ভব নয়: মুজতাবা খামেনেয়ী
- ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিণতির বিষয়ে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
- একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজান মাসই বন্ধ থাকছে মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা
- যুদ্ধ, বিভাজন ও অনিশ্চয়তা: বহুমুখী সংকটে ইসরায়েল
- পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
- হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
- বিজেপি-আরএসএসের বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় উইকিপিডিয়া
- আসামে তীব্র শীতের মধ্যেই ১৫০০ মুসলিম পরিবারের ঘর গুঁড়িয়ে দিল ভারত
- নুতন বই পেয়ে উচ্ছাসিত রাঙামাটির শিক্ষার্থীরা
- সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছেছে খালেদা জিয়ার মরদেহ
- আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
- শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান
- জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
- পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরশাসনের পতন
- তারেক রহমানের বহনকারী প্লেন নামল সিলেটে

