`

কবে জানি দুর হবে হাকালুকি হাওর পাড়ের খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট

  • Views: 2002
  • Share:
মার্চ ১, ২০২১ ২১:১৬ Asia/Dhaka

মোঃ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:: ( কালীকৃষ্ণ পুর) থেকে, বাংলাদেশের সর্ব বৃহত্তর জাতীয় হাওরের মধ্যে হাকালুকির হাওর অন্যতম, বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়ার একাংশ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপ গঞ্জ উপজেলা কে নিয়ে হাকালুকি হাওর গঠিত। হাকালুকি হাওর পাড়ের মানুষ গণ বর্ষা মৌসুমে হাকালুকি হাওরের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে সংগ্রাম করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে, অত্র এলাকার মানুষ দুটি পেশায় নিয়োজিত যেমন: মৎস্য ও কৃষি।

মৎস্য :  বর্ষা মৌসুমে হাকালুকি হাওর পাড়ের ১০০ জন লোকের মধ্যে ৮০থেকে ৮৫ জন লোক মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত থাকে, আর উক্ত কাজের মাধ্যমে এখানকার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে ও এখানকার মানুষ সরকারি ও বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়। অথচ, হাকালুকি হাওরের মাছ পার্শ্ববর্তী এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বাহিরের জেলা গুলোতে বিক্রি করা হয়ে থাকে। কিন্তু মৎস্যজীবি মানুষের ভাগ্যের আর পরিবর্তন হয়না। ইহার সুফল ভোগ করে বড় বড় লাগব বোয়ালেরা। মৎস্যজীবী মানুষের ভাগ্যের চাকা আর পরিবর্তন হয়না, এরা শুধু খেটেই যায়, সুফল পায় ধনী লোকেরা। 

কৃষি:  কৃষি হাকালুকি হাওর পারের মানুষের  প্রধান পেশা। কিন্তু কৃষিতে আমরা লাভবান হতে পারিনা, আগাম বন্যা, অতিরিক্ত ক্ষরার কারণে কৃষক গণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, আমাদের যাতায়াতের মাধ্যম ও খুবই খারাপ। যারফলে অসুখ বিসুখের সময় আমরা বিভিন্ন  ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বর্ষা মৌসুমে এখানকার মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম হলো নৌকা । নৌকা ছাড়া  উক্ত এলাকার মানুষের যাতায়াতের কোন সুযোগ নেই । বর্ষা মৌসুমে চলাচলের জন্য বিকল্প কোন রাস্তা নেই। বর্ষা মৌসুমে পানিতে ভরপুর থাকে হাকালুকি হাওর।

আমাদের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১ নং শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের হাকালুকি পাড়ের রাংজিয়ল, ইসলামপুর, কালীকৃষ্ণ পুর ও নুরজাহান পুর গ্রামের সর্বপূরী লোকজন জনের সকল প্রকার হাট বাজার আমরা ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার থেকে করে থাকি। 

প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার ফেঞ্চুগঞ্জের বাজার হয়। উক্ত বাজার দিনে আমাদের গ্রামের কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ টি ইঞ্জিন নৌকা ফেঞ্চুগঞ্জের বাজারে যায়, এসব নৌকা দিয়ে বিভিন্ন পরিবার ও দোকানের কমপক্ষে ১৫/২০ লক্ষ টাকার মালামাল প্রতি বাজার দিনে আনা হয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা চলাচল সহজ কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে আমাদের গাইজুড়া তথা বরুদল নদীতে পানি না থাকার কারণে ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারে উক্ত এলাকার লোকজন যেতে পারে না। এবং পরিবার ও দোকানদারদের প্রয়োজনীয় মালামাল আনা সম্ভব হচ্ছে না।

কথায় আছেনা,পোঁড়া কপাল কখনো জুড়া লয়না। বিগত দুই বছর আগে আমাদের বরুদল নদী খনন করা হয় ফেঞ্চুগঞ্জ হইতে ঘিলাছড়া হয়ে মধ্য কালীকৃষ্ণ পুরের শানু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি যে, অপরিকল্পিত নদী খননের কারণে আমাদের হাওর পাড়ের ভুক্তভোগী জনসাধারণের কোন উপকারী হয়নি, কিছু কিছু সময় মুরব্বিরা কথা প্রসঙ্গে বলে থাকে ধোঁয়ার চেয়ে আধোঁয়া ভালো, ঠিক তেমনি আমাদের নদী খননের আগেই ভালো ছিল। 

এখন আমাদের কাটা গাঁয়ে লবনের ছিটা দেওয়া হলো। নদী খনন কালীন সময়ে আমি একটি প্রতিবেদন তুলে ধরে ছিলাম। সেখানে উল্লেখ্য ছিল যে, ফকিরের বাজারের লামায় লাইত খালের মুখে একটা সুইস গেইটের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরী, তার সাথে সাথে এ কথা ও জানিয়েছিলাম যে, লাইত খালের মুখ থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার পর্যন্ত নদী খনন করা হলে নদী তার হারানো রুপ ফিরে পাবে এবং অত্র এলাকার নদী পথে যাতায়াতের রাস্তা সুগম হবে, কৃষকদের হাজার হাজার কেয়ার আবাদি জমি চাষাবাদ করতে সক্ষম হবে। 

সরকারি উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, উল্লেখিত রাইত খালের হাওরের  কারণে একটু বারি বৃষ্টি হলে হাওরে আগাম বন্যা হয়, যার ফলে হাকালুকি হাওরের হাজার হাজার কেয়ার জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়,শুধু তা নয় এই রাইত খালের কারণে হাকালুকি হাওরের প্রায় ২৩৮ বিলের মধ্যে অধিকাংশ বিল গুলো পলি মাটি এসে ভরাট হয়ে যাচ্ছে, যার জন্য সরকার আস্তে আস্তে রাজস্ব হারাতে শুরু করতে যাচ্ছে। 

তাই এখনই সময় এসেছে সরকার ভরাট কৃত বিল ও হাওর পারের দরিদ্র জনগণের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে রাস্তা ঘাট সহ হাওর পারের জনগণের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া। হাওর উন্নয়নে সরকার হাতে  নিয়েছে বিভিন্ন কাজ, কেবল মাত্র বঞ্চিত আমরা গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, জুড়ী, ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার হাওর পারের অধিবাসী আজ।

বিঃদ্রঃ বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার বর্তমান এম,পি, ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পরিবেশ ও বন মন্রনালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী সাহাব উদ্দিন ও গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার এর বর্তমান এম,পি,নুরুল ইসলাম নাহিদ সহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। উক্ত এলাকার সকল সমস্যা গুলো গুরুত্ব সহাকারে সমাধানের একটি জরুরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সকলের নিকট সবিনয়ে অনুরোধ করছি।

user
user
Ad
Ad