`

টিকাতেই করোনা বিদায় হবে

  • Views: 1009
  • Share:
ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১ ১০:৫২ Asia/Dhaka

জহির উদ্দিন:: টিকায় একদিকে ভয় যেমন কেটে যাচ্ছে তেমনি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হচ্ছে। গত ৮ ই ফেব্রুয়ারী থেকে ১৫ ই ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত স্কটল্যান্ডে ১১ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে টিকা দেয়া হয় এবং তাদের জনস্বাস্থ্য বিভাগ ঐ টিকা গ্রহণকারীদের উপর গবেষণামূলকভাবে পরীক্ষা চালিয়ে এক জরিপে দেখান যে, ঐ সময়ে স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ৮ হাজার ৫৮ জন ভর্তি হন এবং এ ৮ হাজার ৫৮ জনের মধ্যে টিকা গ্রহণকারী ঐ ১১ লাখ ৪০ হাজারের মধ্য থেকে মাত্র ৫৮ জন আর বাকী ৮ হাজার রোগী এসেছেন এখনো যারা টিকা নেননি কেবল তাদের মধ্য থেকে। কাজেই দলের অন্যতম মুখপাত্র অধ্যাপক আজিজ তাই বলেন যে, ফাইজার ও অ্যাস্ট্রজেনেকা এ দুটো টিকাই দারুণ ভাবে কাজ করছে।

ফলাফলে দেখা যায় যে, ফাইজারেরটি ৮৫% এবং অ্যাস্ট্রজেনেকারটি ৯৪% কার্যকর হচ্ছে এবং টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে যে ৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন তারা  মাত্র দু'চার সপ্তাহ পূর্বে টিকা গ্রহণ করেন এবং টিকা গ্রহণে যাদের সময় পর্যাপ্ত হয়েছে তাদের কেউই আক্রান্ত হননি। কেননা টিকায় একটা পরিমাণ কার্যকরি অ্যন্টিবডি বা  ইমিউনিটি তৈরী হতে অন্তত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগে যায় ।

প্রথম টিকাতে ৬২থেকে ৬৫% প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয়ে থাকে এবং দ্বিতীয় টিকায় বাকিটুকু অর্থাৎ ৯২থেকে ৯৪% পর্যন্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী করে থাকে।  এ জন্যই দ্বিতীয় ডোজটি অন্তত ৮ সপ্তাহ পরে গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় এবং দ্বিতীয় টিকা গ্রহণের দুই সপ্তাহ পর আমাদের শরীর সম্পূর্ণভাবে রোগপ্রতিরোধে সক্ষম হবে।  কাজেই টিকা গ্রহণ করলেও দ্বিতীয় টিকা গ্রহণের  অন্তত ২ সপ্তাহ  পর্যন্ত সতর্কতার সাথে পূর্বের মতো নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। 

তাছাড়া যেহেতু কোনো টিকাই ১০০% কার্যকরী নয়। কাজেই টিকা নেয়ার পরও দু'চার জনের ক্ষেত্রে আক্রান্তের ঘটনা ঘটতেই পারে। তবে টিকাগ্রহণকারী আক্রান্ত হলেও দ্রুত সেরে উটেন। কাজেই এটাও নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত। 

প্রথম পর্যায়ে নরওয়ের ২৯ জন সহ কয়েকটি দেশে আরো দু-চারজন মারা গেলে মানুষের মধ্যে এক আতংক সৃষ্টি হয় এবং  বাংলাদেশ ঐ সব স্টাডি করেই সে অভিজ্ঞতা মোতাবেক এবং টিকা প্রয়োগে আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সে মোতাবেক যাদেরকে টিকা দেয়া আপাতত সন্দিহান মুক্ত হবেনা, তাদেরকে বাদ দিয়ে একটি গাইড লাইন তৈরি করেই টিকা প্রয়োগ শুরু করে। কাজেই কিছু পাশ্বপ্রতিক্রিযা ছাড়া আমাদের দেশে এখনও পর্যন্ত কোনো মানবিক দূর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। 

তাছাড়া প্রথমত বুঝতে হবে যে, টিকা মানুষকে বাঁচানোর জন্যই আবিষ্কার করা হয়, কাজেই করোনায় যেখানে এ পর্যন্ত ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং এখনও যেখানে থেমে নেই মৃত্যুর মিছিল। সেখানে এ পর্যন্ত সারাবিশ্বে  ২১ কোটির মতো মানুষকে টিকা দেয়া হলেও প্রথমদিকের কয়েকটি দূর্ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত  আর তেমন কোনো মানবিক বিপর্যয়ের সংবাদ পাওয়া যায় নি। 

আমাদের দেশে গতকাল পর্যন্ত ২৮ লাখেরও বেশি মানুষ টিকা গ্রহণ করেছেন এবং প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ এ পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন এবং এখন পর্যন্ত তন্মধ্যে জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি গ্রহণ করেছেন কুমিল্লা জেলার মানুষ এবং শহরের হিসেবে ঢাকা শহরের মানুষ । 

তাছাড়া টিকা গ্রহণের হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ষষ্ঠতম দেশ।  কাজেই সময়ের স্রোতে ভয় যেমন কেটে যাচ্ছে তেমনি টিকা গ্রহণের আগ্রহও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । আর স্কটিসদের গবেষণার এ ফলাফলে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, বাংলাদেশ টিকা সিলেকশনের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরেছে। 

কেননা এ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে যে, অক্সফোর্ডের টিকাই সবচেয়ে নিরাপদ ও বেশি কার্যকরী। আর বাংলাদেশ এ অক্সফোর্ডের টিকাই প্রয়োগ করছে। কাজেই তাদের গবেষণার এ ফলাফল সঠিক ভাবেই দেখিয়ে দিচ্ছে যে, নিরাপত্তার জন্য  নির্ভয়ে দ্রুত টিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন। 

মোঃ জহির উদ্দিন
অধ্যক্ষ, শাহ নিমাত্রা এস.এফ. ডিগ্রী কলেজ, ফুলতলা, জুড়ি

user
user
Ad
Ad