বকধার্মিক মীরজাফর এবং সম্পর্কের রসায়ন!
ড. মোহাম্মদ আলী ওয়াক্কাস সোহেল:: মানুষ সৃষ্টির আদি থেকে পারস্পরিক বন্ধন ভালোবাসা মিথস্ক্রিয়া দায়িত্ববোধ জবাবদিহিতা এবং সম্পর্কের নানা প্রপঞ্চ দ্বারা চালিত হয়ে জগত সংসারে স্বীয় মর্যাদা এবং ভূমিকা পালনে নিরবে সরবে ব্রত থেকে সামাজিক জীবের তকমায় ভূষিত হয়েছে। এ যেন এক অকৃত্রিম অনুভূতি। এ সংসারে ব্যক্তির একার পক্ষে বিশুদ্ধ বায়ু সেবনের মাধ্যমে সুস্থ দেহ ও মন নিয়ে দিনাতিপাত করা মোটে ও সম্ভব হবে না।যদি না সেখানটার সামাজিক আঙ্গিনায় ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে মানসিক ও সামাজিক প্রশান্তি অনুরণন জাগরণ এবং শাণিত করা না যায়। এখানে-ই-স্রষ্টার লীলা অনুধাবন করা যায়। যার কারণে বৃহৎ পরিমণ্ডলে অর্থাৎ প্রতিবেশী তৃষ্ণার্ত রোগী ক্ষুধার্তদের পাশে দাঁড়ানোর মাঝেই প্রভুর সান্নিধ্য অনুভবের পথ সুগম হয়।
মানুষ জন্মের পর থেকে পরিবার ও সামাজিক আংগিনায় বিচরণের কারণেই সৎ মানবিক আলোকিত নির্মোহ সমাজদরদী মনোভাব রপ্ত করার পাশাপাশি এসব চর্চার মাধ্যমে নিজে এবং সমাজকে আলোকিত করে এবং আশার পথ বাতলে দেয়। এসব গুণাবলী সামাজিকতাবোধ সমাজসচেতনা আত্মসমালোচনা দাম্ভিকতামুক্ত এবং চাটুকারিতা পরিহার করে যৌক্তিক নাগরিকের ভূমিকা পালনে ব্রতী করে। আমরা কি সফলভাবে এসব কর্ম আঞ্জাম দিতে পারছি? আমরাই তো বকধার্মিকতা-ও মীর জাফরের প্রেতাত্মা হয়ে মাঝে মাঝে এ সমাজে নিজের অস্তিত্ব অহমিকা দাম্ভিকতা মোনাফেকি চোগলখোরসহ হেন কোন কর্ম নেই যার সাথে সম্পর্ক রাখছি না। এসব তো বেশি শিক্ষিত সমাজেই দেখা যায়। যেখানটায় কিনা এসব এর উপস্থিতি শূন্যের কোঠায় থাকার কথা ছিল। এসব আমাদেরকে কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে?আমরা কি সঠিক পথে হাঁটছি না?
বাংলাদেশে দ্রুত অগ্রসরমান এবং উন্নয়নের রোল মডেলের দাবিদার হয়ে সামনে আগুয়ান। উন্নয়নের সবগুলো নির্দেশকেই দৃশ্যমান অগ্রগতিতে নিন্দুকেরা ও প্রশ্নাতীতভাবে নীরবে সমর্থন করছে। ২০১৫ সালে বিশ্ব ব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের লকবে আসীন। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে ১৯৯১ সালে যেখানে এ দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৭ শতাংশ যা কিনা ২০১৫ সালে বর্তমান সরকারের শাসনামলে ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এ অর্জন এদেশের মানুষের মাঝে আশার আলো জাগাতে সক্ষম হয়েছে বলেই নিকট ভবিষ্যতে মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি।
অথচ এর বিপরীতে এদেশে একশ্রেণীর শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রয়েছে যাদের অবয়বে ভণ্ডামি এবং বকধার্মিকতার বীজ এমনভাবে রোপিত যে, এসব বর্ণচোরারা সব আমলেই লিয়াঁজো রক্ষা করে পদ-পদবী হাতিয়ে নেয়।অবশ্য এ কাজে নীতিভ্রষ্ট এবং আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতক একশ্রেণীর মীরজাফররা সুকৌশলে সম্পর্ক স্থাপন করে অবলীলায় স্বার্থ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে। যার কারণেই তৃণমূলের জনসমষ্টি এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। এরুপ বিশ্বাসঘাতকরা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যারা কিনা স্বীয় স্বার্থে মুখে কুলুপ এঁটে সংশ্লিষ্টদের শর্তহীন সমর্থন প্রদানের মাধ্যমে সম্প্রদায়ের যৌক্তিক অধিকার ও পাওনা থেকে বঞ্চিত করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে।এসব সামাজিক লোকজন আমাদের চারপাশে থাকায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ অনেক সময় সময়োপযোগী নীতি ও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনা। কারণ এসব চাটুকাররা কর্তাব্যক্তির বিরাগভাজন হবেন এ আশঙ্কায় সম্প্রদায়ের মান ইজ্জত ভূলন্ঠিত হবে নিশ্চিত জেনে ও ব্লাংক চেকে সমর্থনের মাঝেই সমাজের নানা ক্ষতি করছে। আর উনারাই কিনা গোপনে সংশ্লিষ্টদের সামনে নিজেদেরকে ভোকাল স্পষ্টবাদী এবং তোমাদের জন্য কিছু করতে চেয়েছি এরূপ মিথ্যা কথা বলে বাহবা পাওয়ার আশা করে। কিন্তু সাধু সাবধান! এসব সবাই বুঝে ও না বুঝার ভান করে।নিজেদেরকে চালাক মনে করে অন্যদের বোকা ভাবা ঠিক নয়।
সমাজে তরুণদের চেয়ে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মাঝে সামাজিক অসঙ্গতি বকধার্মিকতার প্রবণতা একটু বেশিই মনে হয়। যার কারণেই এসব মুরুব্বিরা চোখের সামনে অনেক অনিয়ম-জালিয়াতি হিসেবে গড়মিল দেখে ও না দেখা'র অভিনয় করে নিজেকে মুক্ত ভাবতে চায়। আসলে কি তারা মুক্ত? কারণে-অকারণে নানাভাবে তাদের সন্তুষ্ট করে বকধার্মিক ও মীর জাফররা নগদে ফায়দা হাসিলের মাধ্যমে সাময়িক লাভবান হয়। কিন্তু প্রকৃত ই কি তারা লাভবান? সমাজে তাদের অবস্থান কতটুকু? এদেরকে যারা নীরব সমর্থন দিয়ে উজ্জীবিত করছে সমাজ কি তাদের ক্ষমা করবে?
সম্প্রদায়ের নানামুখী নির্বাচনে মনোনয়নে এরা আলাদা কদর পায়। কারণ তাদের রাত ও দিনের ভূমিকার মাঝে ব্যবধান। তারা কি না হাসতে হাসতে স্বীয় আদর্শের কর্মীর পেটে লাথি দিয়ে মজমায় বসে আনন্দ এবং তৃপ্তি ভোগ করে।মাঝে মাঝে এরাই আবার বিভিন্ন পদ পদবী ভাগিয়ে দ্বৈত ভূমিকা নতজানুনীতি অনুসরণের মাধ্যমে সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নে কুঠারিঘাত করে। এসব দেখে বনি আদম লজ্জিত হলে ও ওরা এসব গায়ে মাখে না!
এসব কি খুব বেশি প্রয়োজন।একজন মানুষ যদি সচেতন দেশ প্রেমিক দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল স্পষ্টবাদী হয় তাহলে নিয়মতান্ত্রিক পর্যালোচনা যৌক্তিক দাবি উপস্থাপনের মাধ্যমে ও কর্তাব্যক্তির আশীর্বাদ পাওয়া যেতে পারে। বরং এতে দেশ ও সমাজ বেশি উপকৃত হয়।স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলার একটি ঘটনা যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যায় সমাজের বকধার্মিক ও মীর জাফররা লজ্জা পেতে বাধ্য যদি ও এদের লজ্জা বোধ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। তিনি কিনা ১৯৩৮ সালে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পথ রোধ করে স্কুলের ছাত্রাবাসের ছাদ মেরামতের দাবি জানিয়েছিলেন উনার স্পষ্টবাদিতায় মুগ্ধ হয়ে কর্তাব্যক্তিরা তাৎক্ষণিক দাবি মেনে নেন।এ থেকেই প্রমাণিত হয় চাটুকারিতা পা চাটা বকধার্মিক এবং মিরজাফরী ছেড়ে যৌক্তিক দায়িত্বশীল এবং সৎ ভাবে উপস্থাপনের মাঝেই ব্যক্তিত্বের সত্যিকারের জৌলুস নিহিত রয়েছে।
আমরা আশাবাদী। সমাজের এসব বকধার্মিক ও মীরজাফরদের সম্পর্কের রসায়ন যতই গভীরে থাকুক না কেন, তাদের কর্মে বয়ানে মানুষের ভালোবাসা এবং অনুভূতির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এ কাজে দৃশ্যত কিছু সঙ্গী থাকলে ও দিনশেষে এদের দেখা পাওয়া যায় না। নতুন প্রজন্ম এদেরকে খুব ভালো করেই চিনতে পারে বলেই আশায় বুক বাঁধাটা সহজ।সমাজ একদিন এসব বকধার্মিক ও মীরজাফর মুক্ত হবেই। যদি ও এ কাজে কিছুটা সময় লাগবে।
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ আলী ওয়াক্কাস সোহেল
শিক্ষক ও গবেষক, সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
ইমেইল: alioakkas@gmail.com.

- সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে ১২শ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে MS3 টেকনোলজি বিডি পরিবারের ঈদ শুভেচ্ছা
- এবার এফ-৩৫ জঙ্গি বিমানে ইরানি আঘাত
- শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের মোকাবিলা সম্ভব নয়: মুজতাবা খামেনেয়ী
- ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিণতির বিষয়ে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
- একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজান মাসই বন্ধ থাকছে মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা
- যুদ্ধ, বিভাজন ও অনিশ্চয়তা: বহুমুখী সংকটে ইসরায়েল
- পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
- হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
- বিজেপি-আরএসএসের বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় উইকিপিডিয়া
- আসামে তীব্র শীতের মধ্যেই ১৫০০ মুসলিম পরিবারের ঘর গুঁড়িয়ে দিল ভারত
- নুতন বই পেয়ে উচ্ছাসিত রাঙামাটির শিক্ষার্থীরা
- সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছেছে খালেদা জিয়ার মরদেহ
- আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
- শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান
- জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
- পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরশাসনের পতন
- তারেক রহমানের বহনকারী প্লেন নামল সিলেটে

