`

না ফেরার দেশে অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

  • Views: 3898
  • Share:
ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২১ ১১:৪৯ Asia/Dhaka

জালালাবাদ ডেস্ক:: একু‌শে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ অভি‌নেতা এটিএম শামসুজ্জামান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো আলাদা শোকবার্তায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। 

শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় রাজধানীর সূত্রাপুরের নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এটি এম শামসুজ্জামান স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। টেলিভিশন নাট্য পরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এসএ হক অলিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে তার অবদান মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।  রাষ্ট্রপতি মরহুম এটিএম শামসুজ্জামানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এছাড়া বিশিষ্ট অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান- এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, জনপ্রিয় এই শিল্পী তাঁর অসাধারণ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন ।প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, গত বুধবার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে এটিএম শামসুজ্জামানকে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ড. আতাউর রহমান খানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি কিন্তু হাসপাতালে থাকতে না চাওয়ায় গতকাল শুক্রবার বিকালে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। 

এর আগেও বার্ধক্যজ‌নিত অসুস্থতার কা‌র‌ণে কয়েক মাস এ হাসপাতা‌লে কাটা‌তে হ‌য়ে‌ছিলে তাকে। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ অভিনয় থেকেও দূরে ছিলেন তিনি। 

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এ টি এম শামসুজ্জামান। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভোলাকোটের বড়বাড়ি আর ঢাকায় থাকতেন দেবেন্দ্র নাথ দাস লেনে। 

এ অভিনেতার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে।

অভিনয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। অভিনয়ের বাইরে পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তিনি পরিচিত।

১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন এটিএম শামসুজ্জামান। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। এ পর্যন্ত তিনি শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন।

প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি।

শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন এ শিল্পী।

user
user
Ad
Ad