`

টিকা নিলেও যা যা করা আপাতত দরকার

থাকুন সুস্থ, বাঁচুন শতবছর
  • Views: 560
  • Share:
ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২১ ১৩:৪৮ Asia/Dhaka

জহির উদ্দিন:: কোনকিছু গ্রোয়িং বা তৈরি হওয়ার জন্য একটা সময়ের প্রয়োজন হয়। টিকার ক্ষেত্রেও তাই। কাজেই টিকা নেয়া হলেই সাথে সাথে নিরাপদ হওয়া যায় না। ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধের প্রাথমিক স্তর তৈরী হতেও ৩/৪ সপ্তাহ সময় লেগে যায় এবং এজন্যই পর্যাপ্ত ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী করাতে দ্বিতীয় ডোজটি আট থেকে বার সপ্তাহ পরে নিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। কাজেই অন্তত ৮ সপ্তাহ পরে নেয়াই ভালো। যেহেতু ইমিউনিটির প্রাথমিক স্তর তৈরী হতেও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যায়, সেজন্যই বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে,টিকা নিলেও টিকার সহায়ক কার্যক্রম তৈরীতে সহায়তা ও নিরাপত্তার জন্য টিকা গ্রহণকারীকেও, ৭০থেকে ৮০%মানুষ টিকা গ্রহণ না করা পর্যন্ত অর্থাৎ হার্ড ইমিউনিটি তৈরী হওয়ার আগ পর্যন্ত মাস্ক ব্যবহার ও রীতিমতো হাত ধোয়া প্রয়োজন। কেননা কোনো টিকাই ১০০% প্রতিরোধে সক্ষম নয়। যেমন, কোনোটি ৮০% আর কোনোটি ৯০% এভাবেই। কাজেই কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যায়।

করোনা ভাইরাস ছাড়াও হাজার রকমের রোগজীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পেতেও হাত পরিষ্কার রাখা দরকার। যেমন, মোবাইল ফোন আমরা ওয়াশ করি না এবং আমাদের সবার হাতে-হাতেই আছে।  এক গবেষণায় দেখা যায় স্পর্শ লাগতে লাগতে কেবল মোবাইল সেটেই এমনই পরিমাণ ভাইরাস ও জীবাণু লেগে থাকে  যা বাথরুমের কমোডের চেয়েও বেশি।

 আর টাকা নানা হাতের স্পর্শে মারাত্মক ময়লা ও জীবাণু যুক্ত থাকে । ভারতীয় একদল বিজ্ঞানী এক  গবেষণায় দেখান যে, টাকার গায়ে অন্ততঃ ৭৮ ধরনের  ৩ হাজারেরও বেশী রোগ-জীবাণু লেগে থাকে। অথচ আমাদের সহনীয় মাত্রা প্রায় ১ হাজার পর্যন্ত ।  আর এ  হাত আমাদেরকে বার বার চোখে মুখে দিতে হয় এবং যে কোনো খাবার দাবার হাত দিয়েই স্পর্শ করে খেতে হয়। আর  এ জন্যই হয়তো সংক্ষেপে বলা হয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হচ্ছে ঈমানের অর্ধেক এবং এটার গুরুত্ব প্রচারের জন্য প্রতি বছর  আন্তর্জাতিক হাত ধোয়া দিবসও পালিত হয়। আর মাস্ক করোনা ছাড়াও, বিশেষ করে এই ড্রাই সিজনে আমাদের চার পাশে গাড়ীঘোড়া, ঘন জনবসতি, এটা-ওটা মিলে বাতাসে খালি চোখেও দেখা যায় এমন পরিমাণ ডার্ট বা দূষিত ময়লা ছড়ায় এবং  যার দরুণ শীতকালীন এ ড্রাই সিজনে নানা রোগব্যাধির আধিক্যও দেখা যায়। এসব থেকে  আমাদের মহামূল্যবান শ্বসনতন্ত্র ও ফুসফুসকে রক্ষার জন্যও মাস্ক ব্যাবহার করা প্রয়োজন।

 আর হয়তো এজন্য করোনা ছাড়াই হংকংগের অধিকাংশ নাগরিক ঘর থেকে বের হলেই মুখে মাস্ক লাগিয়ে বের হন এবং প্রচলিত  এ অভ্যাসগত কারণেই হয়তো করোনায় হংকংগের মানুষ খুবই কম আক্রান্ত হন। বর্ষার সিজনে সাধারণত বৃষ্টির বদৌলতে আমাদের আবহাওয়া ও বাতাস অনেকটা নির্মল থাকে। তবে সে যাইহোক,শ্বসনতন্ত্র তথা আমাদের ফুসফুস অত্যন্ত মূল্যবান একটি অঙ্গ যা হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে সারাক্ষণ আমাদের শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে  এবং এ  ফুসফুস দূর্বল হয়ে পড়লে, এবং অক্সিজেন সরবরাহে বার বার ঘাটতি দেখা দিলে,  বিশেষ করে করোনার কারণে যদি ৯৪% এর নীচে এবং অন্যান্য সময়ে, যেমন, ফুসফুসের দূর্বলতা, ফুসফুসে পানি জমা, হাঁপানি বা অন্য কোনো কারণে অক্সিজেন ৯০% এর নীচে নেমে গেলে, সবার ক্ষেত্রে না হলেও, অধিকাংশের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা শুরু হয় এবং কিডনি, লিভার, হার্ট বিকল হতে শুরু করে, আর এ  অক্সিজেন সাপ্লাই বেশি কমে গেলে  কোনোরকম আর্টারি ব্লক না থাকা সত্বেও হার্ট অ্যাটাক ও মস্তিষ্কে স্ট্রোক ঘটে থাকে । কাজেই এ রকম অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দিলেই সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াটাই জরুরী।  

এছাড়াও এ জীবাণু যুক্ত ডার্ট ও ধূলোবালি ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যতম কারণও বটে ।  কাজেই ফুসফুস ও শ্বসনতন্ত্রকে রক্ষার জন্যও হাট-বাজার ও ধূলোবালুপূর্ণ পরিবেশে মাস্কের ব্যবহার আমাদের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
এজন্যই বলে,  Prevention is better than cure. 

মোঃ জহির উদ্দিন
অধ্যক্ষ, শাহ নিমাত্রা এস.এফ. ডিগ্রী কলেজ, ফুলতলা, জুড়ি

user
user
Ad
Ad