`
থাকুন সুস্থ বাঁচুন শতবছর

আমাদের গড় আয়ু বাড়ার পেছনে শাকসবজির অবদান

  • Views: 1120
  • Share:
ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২১ ০৯:৩৩ Asia/Dhaka

জহির উদ্দিন:: একটা সময়ে আমাদের গড় আয়ু ছিলো হতাশাব্যঞ্জক। উন্নত বিশ্বের মানুষের গড় আয়ু শুনে বিস্মিত হয়ে আপসোস হতো। অথচ আজ বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বিশ্বের সাধারণ গড় আয়ুর চেয়ে .২ বছর বেশি । বর্তমানে আমাদের গড় আয়ু ৭২.২ বছর যা প্রায় কানাডার গড় আয়ুর কাছাকাছি । উন্নত বিশ্বে পদার্পণ করতে হলে আমাদেরকে নানা সূচকে এগুতে হবে । বর্তমানে জাপানিদের গড় আয়ু সবার চেয়ে বেশি, তাদের গড় আয়ু ৮৮ বছর।

আমাদের গড় আয়ু বৃদ্ধির পেছনে শাকসবজি অনেক বড় অবদান রাখছে। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, সবজিভুক মানুষ বাঁচে বেশিদিন। কেননা সবজি জাতীয় খাবার শুধু কোলেস্টেরল মুক্তই নয় বরং নানা পুষ্টি - ভিটামিন ছাড়াও ক্যালসিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, আয়োডিন, সেলেনিয়াম ও পটাসিয়ামসহ  অন্যান্য খনিজো উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে কোষগুলোকে শক্তিশালী রেখে শরীরের জেল্লা বাড়িয়ে দিয়ে বুড়িয়ে যাওয়ার চিহ্নকে দূর করে। 

বাংলাদেশে উনত কৃষি গবেষণার আশীর্বাদে ফলমূল ও শাকসবজি এখন আর মৌসুমি ফলন নয়। এগুলো এখন বার মাসই উৎপন্ন হয়। সবজি উৎপাদনে আমরা চতুর্থ, মাছ ও চাল উৎপাদনেও  চতুর্থ, কাঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, আমে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম এবং এভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি নানা উৎপাদনে । 

উত্তরবঙ্গের বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয়  এবং ঐ অঞ্চলের মানুষ তুলনামূলক বেশি সবজিভুক হওয়াতে বাংলাদেশের মধ্যে বগুড়ার মানুষের গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি। কাজেই শাকসবজি যে আমাদের গড় আয়ু বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তা আজ অনস্বীকার্য এবং বর্তমানে বগুড়ার উৎপাদিত শাকসবজি দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে । শাকসবজি আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও তৈরী করে। কজেই করোনাকালেও সিলেট -চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু অঞলের চেয়ে করোনায় সবজিভুক অঞ্চলের মানুষের মৃত্যুর হারও কম দেখা গেছে।

এক সময় আমাদের শিক্ষা দিক্ষা যেমন কম ছিলো, তেমনি পুষ্টি, খাবার দাবার বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা, বাসস্হান,পরিচ্ছন্নতার অভাবে রোগব্যাধির আধিক্য, সর্বোপরি অজ্ঞতা প্রভৃতি আমাদেরকে নানা সূচকে আটকে রেখেছিলো। 

আজ যদিও আমরা অনেক এগিয়েছি তবে যেতে হবে বহুদূর । যাও এগিয়ে বাংলাদেশ, নতুন বছরের এ প্রত্যাশায় উন্মুখ আমরা । 

 লেখকঃ
মোঃ জহির উদ্দিন,
অধ্যক্ষ, শাহ নিমাত্রা এস.এফ. ডিগ্রী কলেজ, ফুলতলা, জুড়ি।

user
user
Ad
Ad