`

কি এক অপূর্ব এই বাংলাদেশ!

what a sweet Homeland the Bangladesh is!
  • Views: 789
  • Share:
ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২১ ১৮:৫৮ Asia/Dhaka

জহির উদ্দিন:: হাড়ভাঙ্গা শীতের তান্ডবে কেবল, শীত আর শীত। শীত কত প্রকার ও কি কি, তা জানার আগেই, কেবল কিছু দেশ যেমন কানাডা, রাশিয়া ও আমেরিকার শীতল বসতি অঞ্চলের নাম শুনলেই শির শির করে গায়ে শীত লাগতে শুরু করে। এই পয়লা ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্ক সহ আমেরিকার ৮টি স্টেটের প্রায় ৮ কোটি মানুষ তুষার ঝড়ে গৃহবন্দী হয়ে পড়েন এবং ঐ সকল শীতাঞ্চলে তুষার আর বরফে ঢেকে গিয়ে ফয়-ফসলাদি ম্যাসাকার হতে থাকে। ঐ সকল দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫ থেকে ৬/৭ মাস পর্যন্ত মাইনাস ১৫/২০থেকে ৬০/৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকে। প্রায়ই জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে হয়, কেননা ঐ সকল সময়ে ঘরের বাইরে বেরুলে শীতের কম্পমান বায়ুর চাপে হাড়গুড় জমে গিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে হয়।

শীতের সাধারণ সময়েও ঘর থেকে বেরুবার আগে কাপড় পরতে পরতে প্রায় ৩০ মিনিট, আবার ঘরে ফিরে খুলতে খুলতে ৪০ মিনিটের মতো পার করতে হয়। ঘরগুলো করতে হয়  এ্যায়ারটাইট নিঃছিদ্র একমুখী গর্তের মতো।

গ্রীনল্যান্ডের কথা থাক। বসতিহীন শীতল মরুভূমি এন্টার্কটিকার কথাও বাদ দিলাম, যেখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০০ মিলিমিটারের বেশি নয় এবং তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৮৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছায়। তবে স্থায়ী বসতি না থাকলেও গবেষণার জন্য গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে ৪/৫ হাজার মানুষ সময়ে সময়ে  অবস্থান করেন। 

আমেরিকা:  নিউইয়র্কের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড মাইনাস ২৪ ডিগ্রি পর্যন্ত । ২০০১ সালে চার্লসস্টন ও সাউথ ক্যারোলিনার সর্বনিম্ন রেকর্ড ছিলো মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং  সবচেয়ে উত্তরের আলাস্কায় প্রায় ৯ মাসই শীত থাকে যার সর্বনিম্ন রেকর্ড মাইনাস ৬২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত । আর ঐ সকল  তাপমাত্রার সাথে সামান্য বাতাস শুরু হলে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
 
কানাডা:  শীতের আরেক দেশ এ কানাডায় শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায়ই মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। ২০১৮ তে ৪৮.২ ডিগ্রিতে নেমেছিলো। তুষার পাতের সময় হাজার হাজার ফ্লাইট বন্ধ রাখতে হয়। ঐ সকল দেশে সূর্যের আলো, সেতো এক স্বর্গীয় দান। 
 
রাশিয়া: অতি ঠান্ডা একটি দেশ, দুই মাসের মতো সূর্যের দেখা মিলে। গ্রীষ্মেই মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে।পৃথিবীর অন্যতম শীতলতম প্রায় ৫০০ বাসিন্দার গ্রাম  রাশিয়ার ওয়াই-মিয়াকনে ২০১৩ সালে মাইনাস ৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। ঘর থেকে বের হলে চোখের পাতায় পর্যন্ত বরফ পড়ে যায়।এরকম রাশিয়ার আরেকটি অঞ্চল ভারকোওয়ানস্ক। ঐ রকম অঞ্চলগুলোতে মোবাইল কাজ করে না। থুথু ফেললে মূহুর্তে জমে বরফ হয়ে যায়। গ্লাসে ঢেলে পানি খেতে গেলে মূহুর্তে জমে যায় এবং কালিও জমে যায় বলে কলম দিয়ে লিখা যায় না।  

ঐ সকল দেশে কেবল স্যুট-কোটে কাজ হয় না, শরীরের উষ্ণতার জন্য হুসকি, ভদকাও প্রয়োজন হয় । শরীর, ত্বক ও মনে প্রচন্ড শীতের মারাত্বক প্রভাব পড়ে, কিন্তু তার পরও ওরা অন্যত্র পালিয়ে আসেনা কেন? কারণ, সেই সৈয়দ মুজতবা আলীর কাবুলি ভৃত্য আব্দুর রহমানের উক্তটির মর্মার্থ যে, কত প্রাণী ধানযোগ্য, সে চিরন্তন উক্তিটি " ইনহাস্ত ওয়াতানাম, এ আমার জন্মভূমি। " কারণ, জন্মস্থান আর জন্মভূমি বলে কথা! তাই। তবে এক সময়ে ইউরোপিয়ান সহ অনেক দেশের লোকজন অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নানা উর্বরতায় ভরপুর এই ভারতবর্ষে আসতো। এখন আমরাও উন্নয়নের স্বপ্নে ঐ সকল আবহাওয়া প্রতিকূলতার দেশেও যাচ্ছি। 

অথচ আমাদের বাংলাদেশে মাত্র দু'দিন পূর্বেও, ২রা ফেব্রুয়ারিতে শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো মাত্র ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলাদেশে কেবল ১৯৪৮ সাল থেকে আবহাওয়ার রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে। দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রার রেকর্ড গত ২০১৮ সালের ৮ ই জানুয়ারী সর্ব উত্তরের জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল এবং এর আগের আরেক  দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রেকর্ড ১৯৬৮ সালের ৪ ই ফেব্রুয়ারিতে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিলো, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে।

কাজেই প্রাকৃতিক বৈশ্বিক আবহাওয়ার প্রতিকূলতার বিচারে বাংলাদেশের নাতিশীতোষ্ণ এ মিষ্টি মধুর স্নেহ মাতৃক আবহাওয়ার তুলনা কারো সাথে হয় না। তাইতো কবি বলেন,"এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রাণী সে যে, আমার জন্মভূমি। " কবির দূরদর্শী এ অনুভূতি আজ সত্যি সত্যি মিলে যায়। কাজেই কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ যেদিন একটি উন্নত মানবিক দেশে পরিণত হবে, তখন হয়তো আমরা যাবনা আর অন্য কোথাও স্থায়ী বসবাসের জন্য। এখন শুধু প্রয়োজন সুশাসন আর দূর্নীতিমুক্ত পথে এগিয়ে যাও। যাও, এগিয়ে আমার মাতৃভূমি, তুমি আমার অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলা এক অবিচল স্বপ্নের বাংলাদেশ। 

 লেখকঃ
মোঃ জহির উদ্দিন,
অধ্যক্ষ, শাহ নিমাত্রা এস.এফ. ডিগ্রী কলেজ, ফুলতলা, জুড়ি।

 

user
user
Ad
Ad