`

খুলে দেয়া হোক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

  • Views: 1941
  • Share:
জানুয়ারী ১১, ২০২১ ২১:২২ Asia/Dhaka

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফজর আলী :: ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ( Covid-19) এর কারণে বন্ধ আছে। মহামারি এই করোনা ভাইরাসের কারণে ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার মানুষ মারা গেছেন। তন্মধ্যে ৫ হাজারের মতো ৬০ এর অধিক বয়সের। যাদের অধিকাংশই ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগ, বার্ধক্য ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত ছিল। অপরদিকে ঐ একই সময়ে ৫ হাজারের অধিক লোক মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়; তার মধ্যে প্রায় সবাই ৬০ বছরের কমবয়সী।

আমাদের শিক্ষার্থীদের ৯০% এর বয়স ১৮ বছরের নিচে। এরা প্রাক প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী। অবশিষ্ট ১০% শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষায় অধ্যয়ন করে। এদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ এর মধ্যে। এই বয়সের মানুষ Covid-19 এর কারণে তেমন একটা মারা যায়নি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলেও আমাদের ৯০% শিক্ষার্থী প্রায় প্রতিদিনই ঘর থেকে বের হচ্ছে। বলা যায় যে, ৭৫% শিক্ষার্থী গ্রাম বা মফস্বল শহরে বসবাস করে; যাদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না। এমনকি মাস্ক পর্যন্ত পরে না। আমাদের স্বাস্থ্যের উর্ধ্বতন ব্যক্তিরা অনেকেই বলেছেন ১৮ বছর কম বয়সী মানুষের (Covid-19) এর টিকা দেয়ার প্রয়োজন নেই।

তাহলে কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে?
এখানে আমি বলবো, অনেকেই উন্নত বিশ্বের উদাহরণ দিতে চাইবেন। আমি বলবো উন্নত বিশ্বের (Covid-19) আর আমাদের (Covid-19) এক না। তা বিগত ১০ মাসে সুপ্রমাণিত।

এক শ্রেণির লোক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে বারবার জুজুর ভয় দেখিয়ে যাচ্ছেন। কারণ তারা ঘরে বসে মাসে মাসে শতভাগ বেতন বোনাস পাচ্ছেন এবং তারাই সরকারের খুব কাছে অবস্থিত। (Covid-19) কে কেন্দ্র করে তারা অনেকেই বৈধ অবৈধ ভাবে অনেক মজা মারছেন।

কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ মহলকে বিবেচনায় নিতে হবে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বারোটা বেজে যাচ্ছে।শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানসিক ও শারীরিক ভাবে বিপর্যস্ত। এমপিও ভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।এসপিও বিহীন বেসরকারি শিক্ষকদের সংসার আর চলছে না। তাঁরা ঋণে জর্জরিত। অনেকেই গোপনে গোপনে অন্য কিছু করছে, তা সমাজে বা পরিবারে জানাতে লজ্জা পাচ্ছে!

সবাই ভেবে দেখুন, সবকিছু খোলা, সবাই ঘর থেকে বের হচ্ছি। সবকিছুই ঠিকঠাক মতো চলছে। তাহলে কি শিক্ষাতেই শুধু করোনা ভাইরাস?

সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ধাপে ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে আমি অনুরোধ করছি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেয়ার প্রস্তাবিত ধাপ:
১। আগামী ২৩.০১.২০২১ থেকে ৩০.০১.২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চ শিক্ষার সব আবাসিক হল খুলে দেয়া হোক।
২‌। ০১.০২.২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখ থেকে ১০ম থেকে উচ্চ শিক্ষার সকল শ্রেণির শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা হোক।
৩। ১৩.০২.২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখ থেকে ৬ষ্ঠ হতে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা হোক।
৪। ২২.০২.২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখ থেকে সকল শ্রেণির শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা হোক।

সকল কার্যক্রমই স্বাস্থ্য বিধি মেনে শুরু করতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাপক নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে।মনে রাখতে হবে, "No risk no gain."

আমাদের অর্থনীতি যে গতিতে এগোচ্ছে, শিক্ষাতেও আমরা সে গতি দেখতে চাই। কারণ এর একটি অন্যটির পরিপূরক।

লেখক,
মোহাম্মদ ফজর আলী
অধ্যক্ষ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ
প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস)।

user
user
Ad
Ad