স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও স্বপ্নের পদ্মা সেতু
আহমদ মাহবুব ফেরদৌসী:: বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকার ভিশন-২০২১, ভিশন-২০৪১ এবং শতবর্ষ মেয়াদি “ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো জাতিসংঘ “টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট - ২০৩০” অর্জন।
চলতি ২০২১ সালে উদযাপিত হবে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের এ বছর সরকার অক্লান্ত চেষ্টা করছে দেশের বৃহত্তম ও দীর্ঘতম পদ্মা সেতুর কাজ সমাপ্ত করে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করতে। যদিও সেতুটির নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড বলছে এর পুরো নির্মাণ কাজ শেষ করতে ২০২২ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত লাগবে।
আজকের এই নিবন্ধে মূলত: পদ্মা সেতু এবং এর বিভিন্ন খুটিনাটি বিষয় পাঠকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্ট করবো। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে মুন্সিগঞ্জ, শরিয়তপুর ও মাদারীপুর এ তিন জেলাকে অন্তভূক্ত করে প্রায় ৬:১৫ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্তের দুতলা বিশিষ্ট পদ্মা সেতু প্রকল্পের অফিসিয়াল নাম হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প। এ সেতুটির নকশাকার হচ্ছে AECOM. পদ্ধা সেতুটির নির্মাণকাজ ৭ ডিসেম্বর ২০১৪ সালে শুরু হলেও মূলত এর নির্মাণ শুরুর কথা ছিল ২০১১ সালে বিগত তত্বাবধায়ক সরকার ২৮ আগষ্ট ২০০৭ ইং এর মূল পরিকল্পনা করে, তখন এর বাজেট ধরা হয় ১০,১৬১ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ১১ জানুয়ারি ২০১১ সালে প্রকল্পের সাথে রেলপথ সংযুক্ত করে এর বাজেট ধরা হয় ২০,৫০৭ কোটি টাকা। কয়েক দফায় বাজেট বৃদ্ধির পর বর্তমানে পদ্মা সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০,১৯৪ কোটি টাকা প্রায়। মোট ২,৬৯৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে পদ্মা সেতুর ভৌত কাজকে ৫টি প্যাকেজে ভাগ করে পরিচালনা করা হচ্ছে। মূল সেতু ছাড়াও নদী শাসন, জাজিরা এ্যাপ্রোচ রোড, মাওয়া এ্যাপ্রোচ রোড ও টোল প্লাজা রয়েছে এসকল প্যাকেজে।
আমাদের গর্ব ও অহংকারের বিষয় হলো বিশাল এ পদ্মা সেতু প্রকল্প তত্বাবধানের জন্য ১১ সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সভাপতি ছিলেন সিলেট তথা বাংলাদেশের গর্ব খ্যাতিমান প্রকৌশলী প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।
মরহুম প্রফেসর জামিলুর রেজার মতে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল “পদ্মা যমুনার সম্মিলিত প্রবাহ”। প্রতি সেকেন্ডে মাওয়া পয়েন্টে ১.৪৪ লক্ষ ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয়। আমাজান নদীর পরেই কোন নদী দিয়ে এত বেশি পানি প্রবাহিত হয়। তাঁর মতে সমীক্ষা অনুযায়ী, আগামী ১০০ বছরে নদীর তলদেশের ৬২ মিটার পর্যন্ত পানি সরে যেতে পারে বিধায় ১২০ মিটার গভীরে গিয়ে পাইলিং করতে হয়েছে।
পদ্মা সেতু পরিকল্পনা ও ডিজাইন অনুযায়ী তৈরী করতে গিয়ে প্রকৌশলীদের অনেক ধরনের সমস্যার সম্মূখীন হতে হয়েছে। পদ্মার গভীরতা এত বেশি যে, পানির প্রায় ৪০ মিটার (প্রায় ১৩ তলা বিল্ডিং এর সমান) নীচে নদীর তলদেশ। তাছাড়া পদ্মার তলদেশের মাটি হল বালি টাইপের, নরম কাদা জাতীয়। নদীর তলদেশের এই মাটি স্রোতের সাথে চলে যাওয়ার মাত্রা প্রায় ২১৩ ফুট বা ৬৫ মিটার (প্রায় ২১ তলা বিল্ডিং এর সমান) হওয়ায় পানির নীচে ভাল মাটি পেতে নামতে হয়েছে ১০৫ মিটার, যা ৩৪ তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এর সমান।
এজন্য পদ্মা ব্রীজে প্রায় ১২০ মিটার বা ৪০ তলা বিল্ডিং এর সমান লম্বা পাইল বসানো হয়েছে। এই পাইলগুলো কোন সুপারম্যান বসায়নি, জার্মানি থেকে বিশেষ ধরনের হাতুড়ি বানিয়ে মাওয়া জাজিরায় এই পাইলগুলো বসানো হয়েছে। পাইলগুলোর উপর যে কলাম বা পিলার তৈরি করা হয়েছে তার একেকটার পরিমাণ প্রায় ৯০০ বর্গফুটের মত। মোট ৪১ টি পিলার বা পিয়ারের ওপর বসানো হয়েছে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য স্প্যান। পদ্মা সেতুর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইং এবং সর্বশেষ ৪১তম স্প্যান বসানো হল গত ১০ ডিসেম্বর ২০২০ইং। পদ্মা ব্রীজ হবে একটি দুতলা ব্রীজ। এই দুতলা ব্রীজের ওপর বসবে কনক্রীটের ছাদ। এর উপর দিয়ে চলবে গাড়ি। ৪ লেনের এই রাস্তা হবে প্রায় ২২ মিটার চওড়া বা প্রস্থ।
পদ্মা সেতু আসলে শুধু রড, সিমেন্ট বা পাথরের সেতু নয় এর সাথে জড়িয়ে আছে এদেশের ১৬ কোটি মানুষের আবেগ। পদ্মা সেতু এবছর কিংবা আগামী বছরের স্বাধীনতার মাসে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হলে দেশের অর্থনীতিতে অপার সম্ভাবনার হাতছানি দেখা দেবে। এ সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয় পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভাল প্রভাব ফেলবে। শুধু বাংলাদেশের কেন দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটনসহ অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবকিছু মিলিয়ে এ পদ্মা সেতু আসলেই দেশের মানুষের স্বপ্নের সেতু হয়ে উঠবে।
সেতুটি বাস্তবায়িত হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১.২% বেড়ে যাবে। আর প্রতিবছর দারিদ্র নিরসন হবে ০.৮৪ ভাগ। এর মাধ্যমে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ৬ কোটি মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন আনবে পদ্মা সেতু। জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে আশার দিক হলো-সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.২০ শতাংশ। বিগত ৫০ বছরের মধ্যে গত দশকে গড় প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি (৬.৭৬ শতাংশ)। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে প্রতি দশকে ১ শতাংশ পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০ এর সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২০৬৪ মার্কিন ডলার। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এই তিনটি সূচকের দুটো বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অর্জন করায় এলডিসি থেকে উত্তরণের সুযোগ পেয়েছে।
তাছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির পর্যায়ক্রমিক অগ্রগতির আশাব্যঞ্জক আরেকটি দিক হচ্ছে গত ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ইংরেজী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) এর সভায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২৫) এর দলিল অনুমোদন লাভ করেছে। একটি সময়োপযোগী পঞ্চমবার্ষিক পরিকল্পনা ও এর সুষ্ঠ বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক পর্যায়ক্রমিক অগ্রগতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে পদ্মা সেতু আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলে স্বপ্নের এই সেতুকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ।
আহমদ মাহবুব ফেরদৌসী
ডেপুটি রেজিস্ট্রার (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
- টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীদের জন্য প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথকীকরণ কর্মসূচী
- নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসা পুরোপুরি বন্ধ
- ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা সম্পর্কে যা জানা গেল
- যে কারণে বার্সার প্রস্তাব ফিরিয়ে ইন্টারেই থেকে গেলেন লাউতারো
- দেশের বাজারে আবারও বাড়লো সোনার দাম
- মিশরে বাস উল্টে ২২ জনের মৃত্যু
- নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবি, সংসদে যা বললেন ডেপুটি স্পিকার
- বড়লেখায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত
- সীমান্তে মানুষ মারতে কুমির ও বিষধর সাপ ছাড়ছে ভারত
- এবার যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব, নিখোঁজ অনেকে
- নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবি, সংসদে যা বললেন ডেপুটি স্পিকার
- সীমান্তে মানুষ মারতে কুমির ও বিষধর সাপ ছাড়ছে ভারত
- এবার যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব, নিখোঁজ অনেকে
- বিদেশে পাচার বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন সিস্টেম
- দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি কে এই আইরিন খান
- জুলাই শহীদ জুবায়েরের বোনের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
- আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
- ওসমানীনগরে ট্রাংক লরির চাপায় নিহত ৪
- হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান

