`

শিক্ষায় সমঅধিকার আনয়নে শিক্ষা জাতীয়করণ

  • Views: 1408
  • Share:
অক্টোবার ৩, ২০২০ ২০:৫০ Asia/Dhaka

মোঃ জালাল উদ্দিন:: বাংলাদেশের সকল অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ভাই-বোন ও বন্ধুগণ, আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা বা আমাদের পূর্বপুরুষগণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধ করে এদেশকে স্বাধীন করেছি। উদ্দেশ্য ছিল সর্বত্র শোষণমুক্ত, বঞ্চনা মুক্ত, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য হিস্যা পাওয়া এক সুষম সমাজ প্রতিষ্ঠা। এজন্য স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরেও স্বাধীনতা তথা বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের বাংলার বিরোধীদের বিচার হয়েছে। বাংলা হয়েছে কলঙ্কমুক্ত। কিন্তু আমরা কি পেরেছি জাতির জনকের সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ বা সমাজ গড়তে। অরাজকতায় শীর্ষে শিক্ষা বিভাগ। তার সহজ ও সরল সমাধান শিক্ষা জাতীয়করণ।

শিক্ষকগণ, দেশের সর্বত্র অবস্থানকারী দেশের প্রথম শ্রেণীর সামাজিক মানুষ। সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের সবচেয়ে অবহেলিত ও সর্বোচ্চ বৈষম্য বিরাজিত সেক্টর হচ্ছে শিক্ষা খাত। এখানে শৃংখলা বলতে কিছুই নাই। সর্বত্র অরাজকতা বিরাজমান। 

প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ হওয়ায় এখানে প্রায় ৯৫% শৃংখলিত। আর মাধ্যমিক থেকে মগেরমুল্লুক শুরু। যে যেভাবে পারে শোষণ করছে। দেখলে মনে হয় এই সেক্টর দেখভালের কেউ নাই। কোন স্কুলে ৬ঠ শ্রেনীতে ভর্তি ১০০/= (একশত) টাকা আবার কোন স্কুলে ভর্তি ২৫০০০/= (পঁচিশ হাজার) টাকা। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে আরম্ভ করে অভিজাত শ্রেণী পর্যন্ত কেউ বাদ যায়নি এই শোষণ বা বঞ্চনা থেকে। 

সমাজের সাধারণ মানুষ অতশত বুঝেন না। অথবা অনেকে বুঝলেও তারা সংগঠিত হয়ে কিছু করতে পারছেন না। তাই তাদের সংগঠিত করে আরেকটি মুক্তি যুদ্ধ করতে এগিয়ে আসতে হবে শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তথা শিক্ষকদের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলায় এই বৈষম্য থাকতে পারে না।

কেন শিক্ষার সাথে জড়িত ব্যক্তি তথা শিক্ষকরা এটি করবেন?

শিক্ষকরা বেতন ভাতাদির দিক থেকে সর্বোচ্চ বঞ্চিত। সমঅধিকার পাওয়া দেশের নাগরিক ও চাকুরীজীবী বা পেশাজীবী হিসাবে তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তাদের চাকুরী ও পরবর্তী প্রজন্মের সুনিশ্চিত ভবিষ্যত গড়ার জন্য তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া সমাজের সচেতন সদস্য হিসাবেও ভূমিকা রাখতে হবে। বিবেকের তাড়নায়ও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

কেন অভিভাবক সংশ্লিষ্ট হবেন?

সম্মানিত অভিভাবকগণ সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন নিজের সন্তানের পছন্দসই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে। সেই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, মাসিক বেতন অন্যান্য ফি নিয়ে কম মাথা ঘামান না। অনেকে পছন্দসই প্রতিষ্ঠান পেলে ফি যাই হোক একটা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেন। কেননা পছন্দসই প্রতিষ্ঠান নিজের সন্তান ভর্তি একটি মহা টেনশন। যদি কোন ভাবে তা অর্জিত হয় তখন বিভিন্ন ফি এমন ভাবে নেয়া হয় তা মধ্যবিত্ত সংসারের মানুষের পক্ষে সামাল দেয়া কল্পনাতীত। মনে হয় এই সেক্টর শুধু মাত্র অরাজকদের অভয়ারণ্য। যেমন আগেই বলেছি ৬ঠ শ্রেণীর শুধু মাত্র ভর্তির ব্যাপার। তাই এই অরাজকতা থেকে মুক্তির লক্ষে সকল অভিভাকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার চিন্তা করতে হবে। এটার সহজ ও সরল সমাধান শিক্ষা জাতীয়করণ।

কারণ শিক্ষা জাতীয়করণ হয়ে গেলে দেশের সর্বত্র ট্রান্সফারের মাধ্যমে শিক্ষকের ইন্টারচেঞ্জ হবে। আর সকল আয় যেহেতু রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে, তাই বাড়তি ফি নেয়ার অবকাশ থাকবেনা। এজন্য সকল অভিভাবকদের এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া খুবই দরকার। আর এ জন্যই সকল অভিভাবকদের সংগঠিত করে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে এই অরাজকতার হাত থেকে মুক্তি পেতে হবে। শিক্ষকগণ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। অভিভাবকদের এহেন অবস্থা থেকে মুক্তির মোহনায় নিয়ে যেতে সকল শিক্ষককে কান্ডারীর ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার চরম এই অরাজকতা থেকে মুক্তি হোক আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের মাধ্যমে সকলের পেরেশানি দূরীভূত হোক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলায় সাম্য প্রতিষ্ঠিত হোক শিক্ষায়।

লেখক:-
মো: জালাল উদ্দিন
প্রধান শিক্ষক
খাজার মোকাম উচ্চ বিদ্যালয় ও
সহ -সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম

user
user
Ad
Ad