শাস্তি শিশুর বিকাশের একটা বড় অন্তরায়ঃ নিয়ম শেখানোর নামে বিদ্যালয়ে শাস্তি শিশুর ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে
মুহম্মদ আব্দুস সামাদ:: ইনবক্সে কালকে একজন একটা ভিডিও দিলেন। সেখানে কোনো এক কওমি মাদ্রাসায় একজন শিক্ষক ৭/৮ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীকে পিটাচ্ছেন। ছেলেটির হাত-পা বাঁধা। কঞ্চির আঘাতের চোটে ছেলেটি মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। একপর্যায়ে শিশুটি প্রাণ রক্ষায় কব্জির বাইরে থাকা বাঁধন ছাড়া হাতের অংশ দিয়ে বেতটি ধরে ফেলে। আঘাতকারী ব্যক্তিটি কঞ্চিটি শিশুর হাতের বাঁধন মুক্ত করতে পারছিলেন না। দেখা গেলো তিনি লাথির আঘাতে সফল হলেন। আবারও পিটাতে থাকলেন। ঘর্মাক্ত হয়ে ক্লান্তিতে নিজের পরণের পাঞ্জাবীটি খুলে রাখলেন। শিশুটি মাটিতে পড়ে থাকলো।
এই ফাঁকে দুয়েকজন শিশু যারা বাইরে ছিলো তারা ত্রস্ত হয়ে এসে মক্তবে ঢুকলো। মাথা গুঁজে সবাই পড়া জপতে থাকলো। পর্যবেক্ষণে মনে হলো এরকম পরিস্থিতে তাদের আতংকিত উপস্থিতি নিয়মিতই। তারপর হুজুর আরেকজনকে ডাকলেন। পড়া ধরলেন। সেও সবক দিতে পারলোনা বলে মনে হলো। হুজুর তাঁর উপরও ঝাঁপিয়ে পড়লেন। এই ছেলেটিও মেঝেতে লুটিয়ে পড়লো। ভিডিওটি সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা মনে হলো। কোনো কারণে ফাঁস হয়ে গেছে হয়তো। আমি নিশ্চিত প্রতিদিনই এরকম হাজারো ঘটনা ঘটে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। সেগুলো এইসব প্রতিষ্ঠানের দেয়ালের বাইরে বের হয়না।
দুই.
হাফেজিয়া মাদ্রাসগুলোতে আবাসিক ব্যবস্থা থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। কওমী মাদ্রাসাগুলোতেও এরকম আবাসিক ব্যবস্থা। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একটা অংশ থাকে এতিম। আর মূল অংশটা আসে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক অংশ থেকে। এসব প্রতিষ্ঠানে এরকম শাস্তিকে মাথা পেতে নেয়ারই নিয়ম। শিক্ষকদের অধিকাংশই নিয়ম আর আদব শেখার নামে তাদের ছাত্রজীবনে এরকম অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন। তারা এখন এসব করছেন তাদের ছাত্রদের প্রতি। আজকের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ভবিষ্যতে শিক্ষকতায় আসবে তারাও হয়তো এই চর্চা জারি রাখবে। শত শত বছর থেকে এটা চলে আসছে। মাদ্রাসার বাইরে খবরগুলো বের হয়না। এখানে দুমুঠো ভাত পাওয়াও কম কথা না।
আমি ভিডিওটি দেখার পর রাতে ঘুমাতে পারিনি। শেষরাতে মাথায় পানি ঢালতে হয়েছে। আমি ছেলেটির জায়গায় আমার ছেলেকে কল্পনা করছিলাম। কিছুদিন আগে এরকম আরেকটা ভিডিও দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। সেখানে একজন হুজুর মাদ্রাসার এক ১০/১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে বড় ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় হাত পা বেঁধে দুতলার রেলিংয়ে ঝুলিয়ে দেন। তারপর পেটান একটানা। ছেলেটির আর্তচিৎকার এখনো আমার কানে বাজে হঠাৎ হঠাৎ। ট্রমাটাইজ হয়ে যাই।
তিন.
অবশ্য অভিভাবকেরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব শাস্তিকে অনুমোদন দিয়ে থাকেন। তারা মনে করেন শাস্তির ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়ম পালন করা শিখবে। আমরা শুনতাম, শিক্ষকের শাস্তি দেয়া আঘাতের স্থানটি বেহেশতে যাবে। এটা বলে আমরা শাস্তিকে একধরনেরর বৈধতা দিতাম বলেই মনে হয় আমার কাছে। তাছাড়া অনেক অভিভাবক ছিলেন, যারা নিজ সন্তানকে স্কুল-মাদ্রাসায় এনে দিয়ে বলতেন হুজুর-স্যার আমার শুধু হাড্ডি ফেরত দিলে হবে। অর্থাৎ কঠিন শাস্তি দিয়ে মানুষ করে তোলার আবদার করতেন তারা।
কিছুদিন আগে আমি আমার বাসার নীচের রাস্তা ধরে যাচ্ছিলাম কোথাও। দেখলাম এক পিতা ৭-৮ বছর বয়সী তার ছেলেটিকে মাদ্রাসায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। পাজামা, পাঞ্জাবী, টুপি পরা ছেলেটি কোনমতেই মাদ্রাসায় যেতে চাচ্ছেনা। পিতা প্রচন্ড আঘাতে রক্তাক্ত করে ফেলেছেন ছেলেটিকে। আমি বোঝানোর চেষ্টা করলাম। বললাম, কেনো সে মাদ্রাসায় যেতে চায়না সেটা আদর সোহাগ দিয়ে তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করুন। হয়তো এমন কোনো কারণ আছে যেটা সে মারাত্মক অপছন্দ করছে। বোঝাতেই পারলামনা পিতাটিকে। শিশুটির শরীরে দেখলাম পুরনো মারের দাগ। কালশিটে পড়ে আছে।
কিছুদিন আগে এক খবরে দেখেছিলাম কোনো এক মাদ্রাসায় শিক্ষকের শাস্তিতে একটি ৮-৯ বছর ছেলেটি মারা গিয়েছিলো। ময়না তদন্তে দেখা গিয়েছিলো শিশুটির পাঁজরের হাড় ভাঙ্গা। পরে জানা যায়, আবাসিক মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ ছেলেটিকে হাসপাতালে না নিয়ে মাদ্রাসায় রেখে দিয়েছিলেন। অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। অভিভাবকেরা বুঝতে পারেননা, তারা যে গুরুদেব বাঁ উস্তাদের উপর নির্ভর করছেন পরম নির্ভরতায় সেও হয়ে উঠতে পারে হিংস্র। ঐ শিক্ষক পদবীধারী হয়ে উঠতে পারে নিপীড়নকারী। তাঁর নির্যাতনে শিশুটি শারীরিক আর মানসিক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
পিতামাতারা তাদের সন্তানকে কম শাস্তি দেননা। প্যান্টের ব্যল্ট খুলে ৬-৭ বছর বয়সী সন্তানকে পেটাতে থাকার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। পিতা কর্তৃক সন্তানকে মাথায় তুলে আছাড় মারার ঘটনা দেখেছি। শিশুরা যেনো বড়দের সম্পত্তি। যা ইচ্ছা তা করা যায় তাদের সাথে।
এসব দেখে অসুস্থ হয়ে যাই। শিশু রাজনের আর্তচিৎকার আমাকে অসুস্থ করে দিয়েছিলো। সেই ট্রমা কাটাতে অনেক সময় লেগেছিলো আমার। সমস্যা হচ্ছে, অধিকাংশ অভিভাবকের এসব শাস্তিতে সম্মতি রয়েছে। তারা নিজেরাও এসকল শাস্তি দিয়ে থাকেন। একটা বড় অংশ আছে যারা সুশীল ভাব নিয়ে থাকেন। অন্যের সন্তানের বেলায় হলে এটাকে ডিসিপ্লিন বলে বৈধতা দিয়ে থাকেন। নিজের সন্তানকে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সামর্থ আছে তাদের। তবে নিজের সন্তানের বেলায় এরকম ঘটনা ঘটলে উঁহারা ঝলসে উঠেন। পাশের বাড়িতে আগুন লাগার আঁচ টের পাননা অধিকাংশই।
চার.
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার শাস্তি প্রদান করা যাবে না মর্মে আমাদের দেশে আইন বিদ্যমান আছে। প্রাথমিক শিক্ষার গন্ডি পার করেছেন অথচ শিক্ষক মহোদয়ের শাস্তি কপালে জোটেনি এমন মানুষ আমাদের প্রজন্মে পাওয়া কঠিন হবে। এমনকি আজকে যিনি নিজে শিক্ষক ও পেশাজীবী কিংবা নীতিনির্ধারক কমবেশি সবাই শাস্তির স্বাদ পেয়েছিলেন একথা নির্ধ্বিধায় বলা যায়। তা শারীরিক বা মানসিক লঘুদন্ডই হোক আর গুরুদন্ডই হোক। সেই প্রাচীন পাঠশালা থেকে আজকের আধুনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কিন্ডার গার্টেন, মাদ্রাসা সর্বত্রই শাস্তি ও ভয়ভীতির বিধান অলিখিতভাবে আজও বিদ্যামান। তবে, অবস্থাভেদে এর ধরন ও প্রকৃতি অনেকটাই পাল্টেছে।
বিদ্যালয় শুধু পড়তে আর লিখতে শেখায় না। শিক্ষার উদ্দেশ্যও সেটা নয় কেবল। বিদ্যালয় মানসিক, বৌদ্ধিক, সংবেদনশীল এবং সামাজিকভাবে শিশুকে গড়ে তোলার কাজ করে। ভবিষ্যৎ নাগরিক এই শিশুরা সমাজে সুস্থ কার্যকরী ব্যক্তি হিসাবে কাজ করতে পারার প্রশিক্ষণ গ্রহন করে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বিদ্যালয়েই শিশুদের মনের বিকাশ ঘটে এবং শিশু কিছুটা পরিপক্কতা অর্জন করতে পারে।
পরিবেশ শিশুদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শিশুর কার্যকরী বিকাশে একটি ভীতিমুক্ত আর নিরাপদ পরিবেশের খুবই প্রয়োজন। নিজে শাস্তি না পেলেও আশেপাশে এসব শাস্তি, নির্যাতন দেখলে শিশুমনে একটা নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। এই ভীতি আর নিরাপত্তাহীনতা শিশুর বিকাশকে বাধাগ্রস্থ করে। তাঁর আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়। জাতি ভবিষ্যৎ সুনাগরিক পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়।
পাঁচ.
প্রারম্ভিক শৈশব হচ্ছে সেই সময়টা যখন শিশুর যত্ন ও বেড়ে ওঠার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন। শিশুর জন্মের পর প্রথম আট বছর তার বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। এই সময়টিতে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মূল ঘটনাটি ঘটে। এই সময়টাতে শিশুরা তাদের দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যালয়ে কাটায়। তারা তাদের সময়টা শিক্ষকদের সংস্পর্শে থাকে। শিশুরা খুবই অনুকরণপ্রিয়। তারা তাদের শিক্ষকদেরকে রোল মডেল মনে করে। তাদেরকে দেখে শেখে। শিক্ষকদের আচরণগুলি সচেতন বা অবচেতনভাবে অনুকরণ করে। আর তাই বিদ্যালটিতে শিশুর বেড়ে উঠার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন।
এ সময়ে শিশুর মস্তিস্ক নমনীয় থাকে এবং দ্রুত বিকশিত হয়। শিশুর ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতাগুলো মস্তিস্কের বৃদ্ধির ওপর কড়া প্রভাব ফেলে । এই সময়ে অবহেলা বা নির্যাতন শিশুর বুদ্ধিবৃত্তি, আচরণ ও আবেগের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করে।
যুগে যুগে শিশুর শিক্ষা ও শাস্তি নিয়ে অনেক রকম ধারণা সমাজে প্রচলিত ছিল। মানুষ ধারণা করতেন যারা শাস্তি পেয়ে পেয়ে টিকবে তারাই শিক্ষা লাভ করবে। আর বাকিরা হয়তো লেখাপড়া থেকে ঝরে যাবে। পড়াশোনা করার ক্ষমতা যাদের নেই তারা টিকবেনা। অনেককে বলতে শুনেছি, ব্রেইন প্রেশার নিতে পারছেনা তাই বিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছে। অনেকটা এরকম ধারণাই ছিল প্রাচীন অতীতে।
অনেকে ধারণা করতেন, শিশুর মধ্যে শয়তানের প্রভাব রয়েছে। তাই তাকে শাস্তি দিয়ে পরিশুদ্ধ করা শিক্ষকদের কাজ। শিশু হলো খালি কলসির মতো, তাকে শাসন করে, শাস্তি দিয়ে তার জীবনকে ভালো শিক্ষায় পূর্ণ করতে হবে- এমন প্রচলন দেখা যায় নিকট অতীতে।
বাংলাদেশের মা-বাবা, শিক্ষক ও শিশুর দেখভালকারীদের মধ্যে শিশুদের শারীরিক শাস্তি নিয়ে এসব নানান ভুল ধারণা রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, শারীরিক শাস্তি শিশুদের সঠিক আচরণ করতে শেখায়। কিন্তু গবেষণা থেকে জানা যায়, শারীরিক শাস্তি শিশুদের সমাজবিরোধী বা অসামাজিক আচরণে উৎসাহিত করে এবং পারিবারিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করে। শারীরিক শাস্তি শিশুদের মধ্যে সহিংস মনোভাবের বিস্তার ঘটায়, তারা সঙ্গী-সাথিদের সঙ্গে মারামারিতে লিপ্ত হয়। বড় হওয়ার পরও তারা একই আচরণ করে।
ছয়.
শিশুর শিক্ষার জন্য প্রয়োজন সহায়ক পরিবেশ। আদর-ভালোবাসা ও খেলার মাধ্যমেই শেখার উপযোগী আনন্দময় বিদ্যালয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিদ্যালয় হবে এমন যেখানে শিশু ভয়ভীতিমুক্ত আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ পাবে। যেখানে শাস্তির কোনো স্থান থাকবে না।
একথা মনে রাখা জরুরি যে, সঠিক পদ্ধতি ও কৌশল সম্পর্কে অদক্ষ ও আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের ধারণা সম্পর্কে যারা অসচেতন তারাই প্রাথমিক শিক্ষায় শাস্তি প্রয়োগ করেন। শ্রেণী ব্যবস্থাপনা একটা দারুণ কৌশলী কাজ। যারা কৌশল প্রয়োগ না করে সহজেই শ্রেণী নিয়ন্ত্রণ করতে চান তারা শাস্তির আশ্রয় নেন। যারা শেখানোর উদ্ভাবনী কলা-কৌশল আবিস্কার করতে চাননা তারাই শাস্তি দিয়ে থাকেন। অবশ্য শিক্ষকদের প্রায় সকলেই তাদের শিক্ষা জীবনে এরকম শাস্তির অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন। আর তাই তারাও এতাকে স্বাভাবিক হিসেবেই প্রয়োগ করে থাকেন।
মনে রাখতে হবে, সৃজনশীল আর উদ্ভাবনী পদ্ধতি অবশ্যই বাড়তি চেষ্টা আর চিন্তার দাবি রাখে। এর পেছনে সুন্দর পরিকল্পনা আর চেষ্টা বিনিয়োগ করতে হয়। নিত্যনতুন কলা-কৌশল আবিস্কারে মগ্ন থাকতে হয়। যারা আধুনিক পদ্ধতি ব্যতিরেকে গতানুগতিক ধারায় কোনো রকম দায়িত্ব পালন করেন না তারাই শিশুর বিকাশের দর্শন সম্পর্কে একেবারেই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন।
শিশুদের সম্পর্কে কম জানা ও প্রয়োজনীয় প্রেষণার অভাবে শিক্ষকরা শাস্তি প্রয়োগ করেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ছাড়া, প্রচলিত ও পুরানো ধারণা, অঙ্গীকার ও জ্ঞানের অভাবে অনেকে শাস্তির আশ্রয় নেন। শিক্ষা হলো পারস্পরিক ক্রিয়ামূলক একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে একটি আনন্দময় পদ্ধতিতে তা অনুশীলন করে থাকে। এখানে শিশুরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবে। আর এ জন্য ভীতিমুক্ত, আদর-ভালোবাসা ও খেলার মাধ্যমেই শিশুর আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টিতে সঠিক সহায়তা করা অনস্বীকার্য। আমাদের অধিকাংশ শিক্ষায়তনে অংশগ্রহনমূলক শিখন-শেখানোর পদ্ধতির প্রয়োগ চোখে পড়েনা। একমূখী শিক্ষণ পদ্ধতিও শাস্তির ক্ষেত্র প্রস্তুত করে বলে আমার মনে হয়।
সাত.
ভয়ভীতি ও শাস্তি শিশুকে দারুণভাবে মানসিক কষ্ট দেয়। সহপাঠীদের সামনে অপমানের যন্ত্রণায় শিশু ভীষণভাবে মানসিক কষ্ট পেয়ে থাকে। সে নিজেকে অপরাধী, ছোট ও হীন মনে করে। শারীরিক ক্ষতি সহজে মিটে গেলেও শিশুর মধ্যে অপমানবোধ সহজে শেষ হয় না। আর শিশুর এই অপমানবোধ তাকে বিদ্যালয়, শিক্ষক, পড়ালেখা ও সহপাঠীদের প্রতি অনীহা ও ঘৃণা তৈরিতে সহায়তা করে। কখনো কখনো অপমানের যন্ত্রণা বেশি হওয়ার শিশু পরবর্তীকালে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
অধুনা অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, শাস্তি, রাগ ও ভয়ে শিশুর মস্তিষ্কে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয় যা তার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ক্ষণিকের জন্য বাধাগ্রস্ত করে। এসময় এধরনের নির্গত হরমোন তার মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তির ক্ষেত্রটিতে মেঘের মতো ছায়া ফেলে ঢেকে দেয়। দেখা গেছে, শিশুরা যখন অতিরিক্ত মানসিক দুঃখ, ভয়, ক্রোধ বা মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকে, তখন অতি সাধারণ কথা বা তথ্যও মনে করতে পারে না। আরো দেখা যায়, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও আকৃতিতে স্থায়ী পরিবর্তন বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।
ভয়ভীতি ও শাস্তির কারণে শিশুরা কম শেখে। শিক্ষা মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুরা খুবই আনন্দপ্রিয়। তারা আনন্দময় পরিবেশই বেশি শেখে। পক্ষান্তরে শাস্তি তৈরি করে অপমান ও ভীতিকর পরিবেশ। আর শিশুরা ভীতিকর বা আনন্দহীন পরিবেশে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে অনেক কম শেখে। আর এর ফলে শ্রেণিভিত্তিক যোগ্যতা অর্জনের দিক থেকে শিশুরা অনেক পিছিয়ে পড়ে।
শিশুরা শিক্ষককে শাস্তি আর নির্যাতন করতে দেখে পরোক্ষভাবে শাস্তি বা মারামারি করা শেখে। স্বাভাবিকভাবে শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। শিশুরা পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও গুরুজনদের কাছ থেকে অনুকরণ করে শেখে। শ্রেণিকক্ষে শিশুরা যে আচরণ পায়, তারা সেটা শিখে ফেলে। ঠিক একইভাবে, শাস্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শিশুরা অবচেতনভাবে শিখে ফেলে। যা পরবর্তী জীবনে শিশু যখন বড় হয় তখন সে শিক্ষকের মতো শাসনের প্রক্রিয়া হিসেবে শাস্তির প্রয়োগ করে থাকে।
শাস্তি থেকে শিশুর মাঝে নেতিবাচক আচরণের জন্ম হয়। শাস্তি বারবার পাবার ফলে শিশুর মনে ক্ষোভ, যন্ত্রণা, দুঃখবোধ ও প্রতিশোধ প্রবণতা জন্ম নেয়। ধীরে ধীরে শিশুর মনমানসিকতায় জেদী, রাগী ও অস্থিরভাব জন্ম নেয়। যা শিশুর পরবর্তী জীবনে খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শাস্তি আর অবহেলা শিশুর আচরণে চিরস্থায়ী নেচিবাচক প্রভাব ফেলে। এটা শিশুর আচরণে মারাত্মক অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি করে যা তার দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব ফেলে। সে কম আত্মবিশ্বাসী হয় আর শিশুর দলে কাজ করার দক্ষতা কমে যায়। সহযোগিতা ও সহমর্মীতার আচরণগুলো কম আয়ত্ত করতে পারে এসব শাস্তি আর অবহেলার মধ্যে বড় হওয়া শিশু।
আট.
ভয়-ভীতি ও শাস্তি শিশুর শেখার পরিবেশ নষ্ট করে। শিখন উপযোগী পরিবেশের জন্য খোলামেলা, হাসি-খুশি ও আনন্দময় পরিবেশ অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে প্রশংসা ও উৎসাহ শিশুর শেখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শ্রেণিকক্ষে শাস্তির প্রয়োগ ও মারামারি শিশুদের বৃদ্ধি ব্যাহত করে। এরকম পরিবেশ শিশুকে উৎসাহহীন করে ফেলে- যা শিশুমনের স্থায়ী ক্ষতি সাধন করে। আর এর ফলে শিশু পড়ালেখায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাদের সুপ্ত মনের প্রতিভা জাগ্রত হতে বাঁধার সৃষ্টি হয়।
ছোট বয়সে সামান্য শারীরিক শাস্তি কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শাস্তির ফলে কোমলপ্রাণ শিশুর যে কোনো অঙ্গে স্থায়ী ক্ষতের দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো ক্ষত দ্রুত শুকালেও এর প্রভাব হিসেবে মাথা ব্যাথা, ভয় ও অপমানবোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। আমি অনেককে জানি যারা শিক্ষকের হাতের চড় থাপড় খেয়ে পরবর্তী জীবনে কম শ্রবণশক্তির কষ্ট নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন।
বর্তমানে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ এবং প্রাক-প্রাথমকি শিক্ষায় খেলার মাধ্যমে শেখা ধারণাটি বিভিন্ন গবেষণার দ্বারা জোরালোভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিজ্ঞানী লেভ ভাইগোস্কি খেলাকে শিশুর সামাজিক, আবেগিক শারীরিক ও ভাষাভিত্তিক বিকাশের প্রতিনিধিত্বমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মনোবিজ্ঞানী ডেভিড এলকিন্ড বলেছেন, খেলা শুধু সৃজনশীল শক্তি না, এটা শেখার মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। শিশুরা যখন খেলা করে, তখন তারা বিভিন্ন বিষয় আবিষ্কার, অনুসন্ধান, নতুন চিন্তার উন্নয়ন ও তাদের শিক্ষার বিভিন্ন দিক প্রসারিত করার সুযোগ পায়। শিশুরা খেলার মাধ্যমে, পারস্পরিক মতবিনিময়, পরিকল্পনা করা, সমস্যা সমাধান, নতুন কিছু সৃষ্টি করা ও বাস্তব জীবনের অনেক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়। বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ফ্রেজার মাস্টার্ডের মতে, খেলা শিশুর জ্ঞান বৃদ্ধি করে, কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করে, সৃজনশীল চিন্তাকে প্রসারিত করে, সমস্যা সমাধান, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, ও শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে সহায়তা করে।
নয়.
শিক্ষা মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ভয়ভীতি বা শাস্তি তা যেভাবেই হোক না কেন- তা শিশুর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাবই ফেলে থাকে। ধরা যাক, একজন শিশু পড়া পারলো না। শিক্ষক বা অভিভাবক শাস্তি হিসেবে তাকে পাঁচ মিনিট শ্রেণিকক্ষে বা বাইরে নীরবে দাঁড় করিয়ে রাখল। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, তার ওপর শাস্তির প্রভাবটা যতটা না শারীরিক তার থেকে অনেকগুণ বেশি মানসিক, যা শিশুর ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
উইকিপিডিয়া শিশু নির্যাতনকে সংজ্ঞায়িত করেছে, বাবা-মা বা অন্য কোন অভিবাবক দ্বারা কোন শিশুর প্রতি শারীরিক বা যৌন বা মানসিক দুর্ব্যবহার করা বা শিশুকে অবহেলা করা। বাবা-মা বা অভিবাবক পর্যায়ের কারো কোন কার্য বা অসম্পুর্ণ কোন কার্য দ্বারা কোন শিশু সত্যিকারভাবে বা ধীরে ধীরে ক্ষতির সম্মুখীন হলে তা শিশু নির্যাতনের মধ্যে অর্ন্তভূক্ত হবে। সেটা হতে পারে বাড়িতে, কোন প্রতিষ্ঠানে, স্কুলে, কোন সম্প্রদায়ে যেখানে শিশুটি অবস্থান করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, (ডব্লিউএইচও) শিশু নির্যাতন এবং শিশুর প্রতি নির্দয় আচরণকে সংজ্ঞায়িত করেছে "সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, অবহেলা বা ঐ ধরনের কোন কাজ অথবা বাণিজ্যিক বা অন্য কোনভাবে শোষন করা ইত্যাদি যার ফলে কোন শিশুর বাস্তবিক শারীরিক ক্ষতি, জীবনের হুমকি, বেড়ে উঠা, মর্যাদা, দায়িত্ববোধ, বিশ্বাস বা ক্ষমতা ইত্যাদির ক্ষতি হয় বা ক্ষতির কোন আশংকা থাকে।
ব্লাস্টের এক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের ৬৯ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, শিশুর লেখাপড়ার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাস্তির প্রয়োজন আছে। ৫৫ শতাংশ মনে করেন, শাস্তি শিশুকে ভালো হতে সাহায্য করে। কিছুদিন আগে আমার এলাকার এক বড়ভাই ফেইসবুকে লিখেছেন, শিক্ষকদের হাতে আবার বেত তুলে দিন, সমাজ সুন্দর হয়ে যাবে। তিনি উচ্চশিক্ষিত আর এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি। তিনি দেশের আপামর অভিভাভক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছেন বলেই মনে হয় আমার। বেশিরভাগ অভিভাবক তাই মনে করেন। আর ব্লাস্টের গবেষণায় এটাই প্রমাণ হয় যে, অভিভাবকেরা শাস্তি সম্পর্কে কি ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।
অভিভাবকেরাও পিছিয়ে নেই। পিতামাতা, শিশুর দেখভালকারী সবাই শিশুদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকেন। এন্ডিং লিগ্যালাইজড ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট চিলড্রেন গ্লোবাল প্রোগ্রেস রিপোর্ট মতে, সারা বিশ্বে ২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১০০ কোটি শিশু তাদের বাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ টু ইন্ড অল করপোরাল পানিশমেন্ট অব চিলড্রেন ১৫০টি গবেষণার ফল বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, শাস্তি প্রত্যক্ষভাবে শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, পরোক্ষভাবে শিশুর মানসিকতাকে বিপর্যস্ত করে। তাদের শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও এর বড় ধরনের নেতিবাচক ভূমিকা আছে। শাস্তি শিশুর মধ্যে আগ্রাসী মনোভাব তৈরি করে।
শিশু যাঁদের সবচেয়ে বিশ্বাস করে, তাঁদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ সে মেনে নিতে পারে না। এর ফলে শিশু বয়সে যারা শাস্তির শিকার হয়, বড় হলে তারা মনে করে ঘনিষ্ঠজনদের প্রতি সহিংস আচরণ করা যায়। বিশ্বে প্রায় ৫৩টি দেশ আছে, যেখানে সব ধরনের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে আইন পাস হয়েছে। শাস্তি থেকে সুরক্ষা পাওয়া শিশুদের মৌলিক অধিকার।
একটা জরিপে দেখা যায়, দেশের ১৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছে। ২০০৯ সালে শিশুদের নিয়ে একটা জরিপে দেখা গেছে, ১৮ শতাংশ শিশু কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আছে। শিশু যদি আঘাতপ্রাপ্ত না হয় এবং অন্য কাউকে আঘাত করতে না দেখে, তাহলে সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতির শিকার না হলে ওই শিশু বড় হয়ে কখনো কাউকে আঘাত করবে না সেটাই আশা করা যায়। আর এর ফলে সমাজে একটা নির্যাতনমুক্ত, ভীতিহীন সুন্দর পরিবেশ কায়েম হবে বলে স্বপ্ন দেখা যায়।
২০১৫ সালে ১২০টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটা গবেষণা করেছিলেন এক গবেষক। ঐ গবেষণায় দেখা গেছে, ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। আর ২০১৬ সালে এটা বেড়ে হয়েছে ৬৫ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ শিশুদের উপর সহিংস আচরণ আর বিদ্যালয়ে শিশুদের উপর শারীরিক আর মানসিক নিগ্রহ বাড়ছে বৈ কমছে না। বিদ্যালয়ে ঘটা শাস্তির অপমান সহ্য করতে না পেরে শিক্ষার্থির আত্মহত্যার ঘটনাও আমরা জেনেছি সংবাদ মাধ্যম মারফত।
দশ.
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের উপর চালিত শারীরিক আর মানসিক শাস্তি শিশুর প্রতি সহিংসতা এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এটা শিশু নির্যাতন এটাও সন্দেহাতীত। এই শাস্তি বন্ধে সরকার আইন করেছেন। তথাপিও সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে উঠে এসেছে শিশু শিক্ষার্থীদের প্রতি ঘটা শাস্তির খবর। এই শাস্তি শিশু শিক্ষার্থীদের বিকাশকে বাঁধাগ্রস্ত করছে নিঃসন্দেহে।
এটা প্রতিকারে এখনই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু আইন প্রণয়ন করলে হবে না। শিক্ষকদেরকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাদেরকে সৃজনশীল পাঠদানের কলাকৌশলের উপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। ছাত্র শিক্ষক অনুপাত বিজ্ঞানসম্মত মানে নিয়ে আসতে হবে যাতে শিক্ষক শ্রেণী ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে করতে পারেন। পর্যাপ্ত শিখন-শেখানো উপকরণ সরবরাহ করতে হবে এবং সেগুলোর প্রয়োগে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
বিদ্যালয়গুলোতে পেশাদার সমাজকর্মী নিয়োগ দিতে হবে। তারা শিক্ষার্থীদের বিচ্যুত আচরণ নিয়ে কাজ করবেন। মনোযোগ হারানো শিক্ষার্থীদের মনযোগ ফেরাতে তারা ভূমিকা রাখবেন। ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধান করবেন এই স্কুল সমাজকর্মীরা। স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন তারা। অভিভাবকদের সাথে কাজ করবেন। পজিটিভ প্যারেন্টিং নিয়ে তাদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবেন। সমাজকর্মীরা প্রতিটা শিক্ষার্থীর আলাদা রেকর্ড রাখবেন। তাদের উন্নতি পর্যালোচনা করবেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক আর অভিভাবকদের নিয়ে একটি দলে কাজ করবেন। এই তিনটি অংশীজনের মধ্যকার হারানো সংযোগ পুনঃস্থাপনে কাজ করবেন। অবসাদগ্রস্থ শিক্ষকদের সাথে কাজ করবেন এই সমাজকর্মীরা। তাদেরক নানান পরামর্শ দিবেন এই সমাজকর্মী। কাউন্সিলিং করবেন।
অবস্থার উত্তরণে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিক্ষকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে তাদের। সন্তানের বিদ্যালয়ের সাথে অভিভাবকের সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। সন্তানের সাথে নিবিড়ভাবে মিশতে হবে। তাদের ভালোলাগা, মন্দলাগা শুনতে হবে। প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক দিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, সন্তানের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা আর তাদের বৃদ্ধি আর বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর এককভাবে এই দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া যাবেনা। আজকের শিশু আগামীর নাগরিক। তাদের জন্য ভীতিহীন, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল ভবিষ্যতে একটা শ্রেয়তর আর সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আগামীর দায়িত্বশীল নাগরিক সুপ্ত আছে আজকের শিশুর মধ্যে।
মুহম্মদ আব্দুস সামাদ
শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, উন্নয়নকর্মী, লেখক, প্রাবন্ধিক। Samadsust22@gmail.com.
- সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে ১২শ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে MS3 টেকনোলজি বিডি পরিবারের ঈদ শুভেচ্ছা
- এবার এফ-৩৫ জঙ্গি বিমানে ইরানি আঘাত
- শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের মোকাবিলা সম্ভব নয়: মুজতাবা খামেনেয়ী
- ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিণতির বিষয়ে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
- একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজান মাসই বন্ধ থাকছে মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা
- যুদ্ধ, বিভাজন ও অনিশ্চয়তা: বহুমুখী সংকটে ইসরায়েল
- পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
- হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
- বিজেপি-আরএসএসের বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় উইকিপিডিয়া
- আসামে তীব্র শীতের মধ্যেই ১৫০০ মুসলিম পরিবারের ঘর গুঁড়িয়ে দিল ভারত
- নুতন বই পেয়ে উচ্ছাসিত রাঙামাটির শিক্ষার্থীরা
- সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছেছে খালেদা জিয়ার মরদেহ
- আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
- শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান
- জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
- পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরশাসনের পতন
- তারেক রহমানের বহনকারী প্লেন নামল সিলেটে

