`

করোনা ভাইরাস, ভ্যাকসিন, অ্যান্টিবডি ও হার্ড ইমিউনিটি?

থাকুন সুস্থ - বাঁচুন শতবছর.....................
  • Views: 1406
  • Share:
সেপ্টেম্বার ২৫, ২০২০ ১৯:১৯ Asia/Dhaka

অধ্যক্ষ মোঃ জহির উদ্দিন:: করোনার কারণে ভাইরাস, ভ্যাকসিন, অ্যান্টিবডি, ইমিউনিটি ও হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে সকল মহলে নানা আলোচনা ও কথাবার্তা হচ্ছে। অ্যান্টিবডি হচ্ছে আমাদের শরীরের গার্ড বা নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। যা আমাদের শরীরে খাদ্য বা পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক নিয়মে তৈরী হয়। তবে বয়স, পেশা, খাদ্যাভ্যাস, জীবনাচরণ, ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত, মানসিক অবস্থা, ব্লাড গ্রুপ, জেনেটিক, রাসায়নিক বা প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেও ব্যাক্তিভেদে এই ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার তারতম্য ঘটে।

কাজেই এই ন্যাচারাল ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সবার ক্ষেত্রে একই রকম হয় না বা পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। যাদের অ্যান্টিবডি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকে ভাইরাস তাদের সংস্পর্শে এলে এই ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা  ভাইরাসকে গ্রাস করে ধ্বংস করে দেয়। আর এটাই হচ্ছে অ্যান্টিবডির কাজ। তবে প্রাকৃতিক নিয়মে সবার ক্ষেত্রে সব ভাইরাসের বিরুদ্ধে বা নতুন নতুন আবিষ্কৃত বিশেষ বিশেষ  ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিবডি থাকে না। নতুন নতুন ভাইরাসে সংক্রমণের পর তার বিরুদ্ধে লড়াই করে সুস্থ হলে ঐ ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরী হয়। আর বাকিদের ভ্যাকসিনের মাধ্যমেই এই অ্যান্টিবডি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী করতে হয়। 

নবজাতকদের জন্মের প্রায় দুই বছরের মধ্যে দশ থেকে এগারটি ভ্যাকসিন দেয়া হয় এবং বড়রা বা যারা শিশুকাল পেরিয়ে গেছেন তারাও হেপাটাইটিস বি-সহ বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন নিয়ে থাকেন। এই ভ্যাকসিনের কাজ হচ্ছে বিশেষ বিশেষ ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্হায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্হা গড়ে তোলা। ভ্যাকসিন দুই ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরী করে। ফাইটার সেল এবং টি বা মেমোরি সেল। ফাইটার সেলর কাজ হচ্ছে ভাইরাসকে ধ্বংস  বা কিল করা। তবে ফাইটার সেল সুপ্তাবস্তায় থাকলেও কোনো সমস্যা হয় না, ঐ বিশেষ ভাইরাস দেহে ঢুকলেই টি বা মেমোরি সেল সাথে সাথেই ভাইরাসটিকে বুঝতে ও চিনতে পারে এবং তখনই ফাইটার সেলকে জাগ্রত করে দেয় আর সাথে সাথে তার কার্যক্রম শুরু হয়ে য়ায। ফাইটার সেল বা অ্যান্টিবডি খুঁজে খুঁজে ভাইরাসকে ধ্বংস করে।এই হচ্ছে মূলত ভ্যাকসিনে তৈরী হয়া অ্যান্টিবডির কাজ। 

হার্ড ইমিউনিটি অর্থাৎ ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে যদি ৭০% এর মতো মানুষের মধ্যে ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয়ে যায় তবে এটিকে একটি দেশ বা অঞ্চলের জন্য হার্ড ইমিউনিটি বলা হয়। অর্থাৎ ভাইরাস এই ৭০% মানুষের সংস্পর্শে এলেই তাদের অ্যান্টিবডি ঐ ভাইরাসকে গ্রাস করে করে ধ্বংস করে দেয়। কাজেই বাকীদের আক্রান্ত করার মতো পর্যাপ্ত ভাইরাস আর এই অঞ্চল বা পরিবেশে থাকেনা এবং এটাই হচ্ছে  একটি দেশের জন্য হার্ড ইমিউনিটি। করোনায় আক্রান্ত  হয়ে যারা সুস্হ্য হয়ে উঠেছেন তাদের মধ্যে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি  বা ইমিউনিটি তৈরী হয়ে যায়। 

কাজেই ভ্যাকসিন বা টিকা দেয়া শুরু হলেও এদেরকে দেবার প্রয়োজন হবে না। তার কারণ যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের দেহে ঐ ভাইরাসের অ্যান্টিবডি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয়ে আছে। কাজেই তাদেরকে আর এই  ভ্যাকসিন বা টিকা নেয়ার  প্রয়োজন নেই। তবে আক্রান্তদের দেহে তৈরী হওয়া অ্যান্টিবডির স্থায়ীত্ব কাল বলে দিবে ভবিষ্যতের কথা। এজন্য টিকা দেয়া শুরু হলেও আগে টেস্ট করে দেখতে হবে এবং যাদের দেহে করোনা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরী হয়ে আছে, তাদের আর করোনার ভ্যাকসিন নেয়ার  প্রয়োজন নেই। বাকী সবাইকে দিতে হবে। 

তবে সব ধরনের ভ্যাকসিনের স্থায়ীত্ব কাল একই রকম হয় না। যেমন, টাইফয়েডের টিকা তিন বছরের জন্য প্রতিরোধ তৈরী করে, এরপর আবারও দিতে হয়। কাজেই ভ্যাকসিনের কাজ হচ্ছে বিশেষ বিশেষ ভাইরাসের বিরুদ্ধে দেহে অ্যান্টিবডি বা দীর্ঘস্হায়ী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। 

লেখকঃ
মোঃ জহির উদ্দিন,
অধ্যক্ষ ,শাহ নিমাত্রা এস.এফ. ডিগ্রী কলেজ, ফুলতলা , জুড়ি।

user
user
Ad
Ad