`

নতুন ভ্রমণ

  • Views: 685
  • Share:
আগষ্ট ১, ২০২০ ২০:১৬ Asia/Dhaka

সাবিনা আক্তার:: কি অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লোকটা, সেই কখন থেকে! স্টেশনে এত মানুষ কিন্তু তার দৃষ্টি কেবল আমার দিকে। বড় অস্বস্তি কাজ করছে। এদিকে বাস চলে এসেছে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। হাতে ব্যাগটা নিতেই লোকটা এসে বলল, আমি কি আপনাকে সাহায্য করতে পারি? কি আশ্চর্য! তাকে চিনি না জানি না-সে কেন সাহায্য করবে আমাকে? নিজের রাগটা সামলিয়ে বললাম সাহায্যের দরকার হবে না,ধন্যবাদ।

বাসে উঠেই বান্ধবী শিমুলকে ফোন করি। জানিস- শিমুল, একটা লোক বয়স ত্রিশের মতো হবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে সে কখন থেকে। আমার খুব বিরক্ত লাগছে। ব্যাস, সে তো প্রচণ্ড মজা পেয়েছে। এটা নিয়ে আমাকে পঁচানো শুরু করে দিয়েছে। বলছে নিশ্চয় তোমার ঘনকালো ক্যাশ তাকে উতলা করেছে নয়তো তোমার চোখের মায়ায় জড়িয়েছে।
চুপ করতো, তুই। আমি ফোন রাখলাম। শিমুল বলল পৌঁছে ফোন দিবি। আর কোনো সমস্যা হলে জানাবি।

প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে লোকটা আমার সিটের দিকে আসছে। মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলল, আপনি বিরক্ত হবেন না, আপনাকে খুব চেনা চেনা লাগছে, কোথায় যেন দেখেছি।

এখন আর তাকে দেখে অভদ্র টাইপ মনে হচ্ছে না। কেমন যেন একটা পরিচয়তার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। 
আমি বললাম, ওও। আপনি যাচ্ছেন কোথায়? 
লোকটা বলল, আমার বাড়ি সিলেটে, চাকুরী ঢাকায়। বাবার জরুরি তলবে কাজ রেখেই যেতে হচ্ছে বাড়িতে। 
তারপর আমাকে জিজ্ঞেস করল, আপনার কোথায় যাওয়া হচ্ছে? 

আমি সিলেটেই যাবো। আমার পুরনো কাজের জায়গায়। সিলেটেই আমার পড়াশোনা ওসমানী মেডিকেলে। যখন আমি ইন্টার্নশিপে ছিলাম তখন ২০২০সাল পৃথিবী জুড়ে করোনার ভয়ানক থাবা চলে। ঐ সময় আমি ও করোনায় আক্রান্ত হয় ইন্টার্নশিপে কাজ করতে গিয়ে। তখন ঐ হাসপাতালের একজন স্যার আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়।সেখানে প্রায় ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে ছিলাম। 

লোকটি অবাক হয়ে আমায় বলে, এজন্যই তো আমি আপনাকে চিনি। আপনার যে স্যার ছিলেন তার নাম ডা.হারুন অর রশিদ -তাই না?
জ্বি, আপনি কিভাবে বুঝতে পারলেন? 
হাসি দিয়ে বলে উনি আমার বাবা।
এখন বাড়িতে যাওয়ার কারণ- বাবা, আমার জন্য পাত্রী দেখেছেন। কিন্তু আমার ঠিক ভালো লাগছে না। সেই ২০২০ সালে করোনা কালীন সময়ে আজ থেকে প্রায় দুইবছর আগে একজনকে দেখেছিলাম। সেই দেখাতে আজও আমার চোখ পড়ে আছে। কোনোদিন বাবাকে বলতে পারিনি। 
সেই মেয়েটির ভরদুপুরে বেলকনিতে এলোমেলো চুল শুকানো, সন্ধায় সুহাসিনী ঠোঁটে চায়ের চমুক আজও আমায় টানে।

ও আচ্ছা ,কবি সাহেব আপনাকে আর উদাসী হতে হবে না। স্যার, তার বড় ছেলে মানে আপনার সাথেই আমার বিয়ে ঠিক করেছে। এজন্যই স্যার আপনাকে এবং আমাকে জুরুরি তলবে ডেকেছেন।

ঘণ্টা দুয়েক আগে ও যে ছিলো অস্বস্তি ভরা অপরিচিত লোক। করোনার সেই সুবাদে হতে চলল জীবনের নতুন ভ্রমণের চিরসঙ্গী।

লেখক,
সাবিনা আক্তার
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

user
user
Ad
Ad