`

"ঝড়"

  • Views: 1690
  • Share:
জুলাই ২৮, ২০২০ ১৮:৩১ Asia/Dhaka

সাবিনা আক্তার:: আমার শরীরডা বেশি ভালা লাগতাছে না, ওগো আইজ কামে না গেলে অইবো না, পরির বাপ।মনু মিয়া বউয়ের হাত ধরে বলে, বউ আইজ ধান কাটলেই শেষ হইয়া যাইবো। এহন যে রোইদ পড়ে এমন থাকতো না, আর ভালা দিন না পাইলে- ধান লওন যাইতো না।

আমাদের ঘরে এত বছর পরে- পরি আইবো, তার লাগি আমি এত তাড়াহুড়া করে ধান শুকাইয়া ভাত জোগার করে রাখতে চাই, বউ।তুমি চিন্তা কইরো না, আমি বিনা খালাকে খবর দিয়ে যাচ্ছি -সে আমার কথা শুনলেই আইবো।আমি ও জলদি কইরা আইসা পড়ুম। গেলাম আমি। 
মনু মিয়া হাস্যজ্জ্বল মুখে ধান কাটে আর আটি বাঁধে।

পাশের জমিতে ধান কাটছে কলিম মিয়া। মনুর দিকে তাকিয়ে বলে-কী ব্যাপার মনু মিয়া - আইজ এত তাড়াহুড়া করতাছো যে?  মনু হাসি দিয়ে বলে,চাচা আমাদের পরি আইবো পৃথিবীতে। তার জন্যেই এত তাড়াহুড়া। 

এদিকে পশ্চিম আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেছে। মনুর ধান কাটা শেষ, আঁটি বাঁধা ও শেষ। ততক্ষণে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। মনুর দম ফেলার ফুসরত নাই, মাথায় করে ধানের বোঝা নৌকায় উঠাচ্ছে। মনটা বড়ই অস্থির, কখন ভালোই ভালোই ধান নিয়ে বাড়িতে পৌঁছাবে-নদীতে ঝড় উঠার আগেই।
বৃষ্টিতে ভিজে ধানের নৌকা ঘাটে লাগিয়ে মনু এক দৌড় দেয় বাড়ির দিকে। 
বাড়িতে এত মানুষ কিয়ের লাগি, কি হয়ছে?-কারো মুহে কোনো কথা নাই কেরে। ঘরের পিরায় দাঁড়িয়ে বলে,বিনা খালা - আমার রাবেয়া কই! 
      ও বিনা খালা- কথা কও, আমার রাবেয়ার কি হয়ছে!
      চারপাশ তখন স্তব্ধ অতল
     চোখের জলে নিশীথ শীতল।

লেখক,
সাবিনা আক্তার
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

user
user
Ad
Ad