হঠাৎ বৃষ্টি এবং রঙিন ছাতা!
খাইরুন নাহার চৌধুরী:: স্কুল ছুটির পর মাঝে মাঝে কিছুক্ষণ রিক্সার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। আমাদের প্রাইভেট রিক্সা চালক সামাদ ভাই বিড়ি সিগারেট ফুঁকতে এদিক সেদিক যাওয়ার কারণে এই অপেক্ষা। সেই ছুটির সময়টাতে হেংলা পাতলা এক তরুণকে মাঝে মাঝে দেখতাম হেঁটে স্কুলের সামন দিয়ে যাচ্ছেন।
হঠাৎ চোখাচোখি হলে, তিনি অদ্ভুত এক কৌশলে প্যান্টের বেল্ট টেনে টেনে উপরের দিকে উঠানোর চেষ্টা করতে করতে হাওয়া হয়ে যেতেন। আমি মনে মনে ভাবতাম, এই লোকটার তো শার্ট প্যান্ট সব জায়গা মতোই আছে, খামাকা এরকম করছেন কেনো?
আমি তখন ক্লাস টেনে। আষাঢ় শ্রাবণের এই সময়টার কথা। স্কুল ছুটি হয়েছে, আমরা যথারীতি রিক্সার অপেক্ষায়। এর মধ্যে হুড়মুড় করে আমাদের বিখ্যাত সিলেটি মেঘ চলে আসলো। বেশ খানিকটা ভিজেও গেলাম। হঠাৎ দেখি সেই হেংলা পাতলা তরুণ দৌড়ে এসে উনার রঙিন ছাতাটা আমাকে দিয়ে বললেন," আপনি ভিজে যাচ্ছেন,এটা রাখেন প্লিজ, পরে ফেরত দিলেও চলবে।" কথাটি বলেই বেচারা তাঁর স্বভাব মতো দ্রুত চলে গেলেন।
আমি খেয়াল করে দেখলাম, তিনি আমাদের স্কুলের(কিশোরী মোহন) পাশে "সিলেট নার্সিং হোম" নামের একটা ক্লিনিকে ঢুকে পড়লেন। বিষয়টি এতোটাই দ্রুত ঘটলো যে, আমি কিছু বলবার সুযোগ পাইনি।
আমাদের ড্রাইভার সামাদ ভাই বললেন, "বালা মাইষর ফুয়া মনো অয়, থাখুক ছাত্তি ইটা, বাদে ফিরত দিয়া আইমুনে।" আমি বাসায় চলে আসলাম। তারপর থেকে এই ছাতাটি সামাদ ভাইয়ের হাওলায়। তিনি সেই তরুণকে ছাতা ফিরত দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমার সাথে উনার আর কখনও দেখা হয়নি। একদিন দেখলাম, সেই নার্সিং হোমটাই উঠে গেছে। সেখানে তার বদলে একটি কমিউনিটি সেন্টার হয়েছে, পরে যেটি আড়ং ছিল।
এই ঘটনার নয় বছর পর আমার মেয়ের জন্ম হলো সিলেটের ধুপাদিঘীর পারের "সিলেট নার্সিং হোম" নামের একটি ক্লিনিকে। বর্তমানে সেটাও নেই, সম্ভবত এখন সেখানে একটি কমিউনিটি হল। এই নার্সিং হোমের বিষয়টি বড়ই অদ্ভূত! যেখানেই কার্যক্রম শুরু করে,কিছুদিন পরে সেটা বন্ধ হয়ে কমিউনিটি সেন্টারে পরিনত হয়।
তো যে দিন আমার মেয়ের জন্ম হলো, সেদিন ছিল শুক্রবার, বৌদ্ধ পূর্ণিমাও ছিল। আর সম্ভবত কোরবানি ঈদের ছুটিও চলছিল। সব বন্ধ মিলিয়ে ডাক্তার সাহেবরা তখন লম্বা হলিডেতে ছিলেন। ক্লিনিকে গাইনি ডাক্তার নেই। পরিচিত কয়েকজন ডাক্তারের খোঁজ নিয়ে জানা গেলো উনারা কেউ দেশে নেই। খুব জটিল একটা পরিস্থিতি । তারপরেও বহু কষ্টে ডাক্তার মেনেজ করা হলো।
আমার মেয়ে আমার কোল আলো করে আসলো। সেদিন সন্ধ্যায় আমার শরীর কিছুটা ভালো বোধ করায় সবার সাথে টুকটাক কথাবার্তা বলছিলাম, এমন সময় এক ডাক্তার পারমিশন নিয়ে রুমে ঢুকলেন। আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন " এখন কেমন ফিল করছেন?" আমি উনাকে দেখে তো অবাক! সেই হেংলা পাতলা তরুণ, যিনি আমাকে ছাতা দিয়েছিলেন। তিনি যে নার্সিং হোমের ডাক্তার ছিলেন, সেটা জানতাম না। ভদ্রলোকের এই নয় বছরেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি উনার প্রশ্নের উত্তরে বললাম, "আপনার ছাতাটা তো দেয়া হলো না।" উনি হেসে দিয়ে বললেন, "মনে আছে তাহলে!?" আমার আর মেয়ের কোশলাদি জিজ্ঞেস করে বিদায় নিলেন।
পরে আম্মার কাছে শুনলাম, এই ডাক্তার ভদ্রলোক নাকি সারাদিন ছুটোছুটি করে সব মেনেজ করেছেন, এমন কি রক্তের প্রয়োজন হলে নিজে দেয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। উনি সেদিন না থাকলে হয়তো বিপদে পড়তে হতো। মানব জীবনে যে কতো রকমের গল্প লুকিয়ে আছে !
(গল্পের সাথের ছবিটা এঁকেছেন প্রিয় Fatima Nargis Rosy)।
- সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে ১২শ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে MS3 টেকনোলজি বিডি পরিবারের ঈদ শুভেচ্ছা
- এবার এফ-৩৫ জঙ্গি বিমানে ইরানি আঘাত
- শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের মোকাবিলা সম্ভব নয়: মুজতাবা খামেনেয়ী
- ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিণতির বিষয়ে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
- একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজান মাসই বন্ধ থাকছে মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা
- যুদ্ধ, বিভাজন ও অনিশ্চয়তা: বহুমুখী সংকটে ইসরায়েল
- পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
- হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
- বিজেপি-আরএসএসের বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় উইকিপিডিয়া
- আসামে তীব্র শীতের মধ্যেই ১৫০০ মুসলিম পরিবারের ঘর গুঁড়িয়ে দিল ভারত
- নুতন বই পেয়ে উচ্ছাসিত রাঙামাটির শিক্ষার্থীরা
- সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছেছে খালেদা জিয়ার মরদেহ
- আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
- শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান
- জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
- পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরশাসনের পতন
- তারেক রহমানের বহনকারী প্লেন নামল সিলেটে

